Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

চাষাঢ়ায় খাজা মার্কেটে জুয়ার বোর্ডে এসপির অভিযান

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার অফিসে জুয়ার বোর্ড, আটক ২৮

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার অফিসে জুয়ার বোর্ড, আটক ২৮

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার অফিসে জুয়ার বোর্ড, আটক ২৮

Swapno



গুম, হত্যা, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি, রেলওয়ের জমি দখল, ফুটপাত দখল, ভূমিদস্যূতা সব কিছুতেই পাঁকা হাতের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানা। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর এবার আজমেরী ওসমানের হাতিয়ার পিজা শামীমের ভূমিকায় শহরে জুয়ার আসার বসাচ্ছেন এই রানা। সেই তথ্য সাপেক্ষে চাষাড়া মূল পয়েন্টে খাজা সুপার মার্কেটে সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের অফিসে অভিযান চালিয়ে ২৮ জন জুয়ারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


যা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচনা। গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল খাজা সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের অফিসে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে আশপাশে টনক নড়ছে দলীয় অপরাধীদের।


সূত্র জানিয়েছে , জুয়ার আস্তানাটি মূলত বসাতেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন রানার নির্দেশনায় সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জুলহাস হোসেন, রানার ড্রাইভার সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের  সদস্য দুলাল বেপারাী , কাশেম, হাসান, শাহজালাল, মনির, দেলু তার পরিচালনায় প্রকাশ্যে ছিলেন রানার লোক বিদ্যুৎ।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর খাজা সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয় হিসেবে অফিস নেন মহানগর স্বেচছাসেবক দলের আহ্বায়ক রানা। পরবর্তীতে তিনি তার সেই অফিস নিয়ন্ত্রণ করতে তারই সহযোগী চাষাড়ার লেগুনা চাঁদাবাজ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক সদস্য সচিব জুলহাসকে দায়িত্ব দেন। যাকে ঘিরে ২০২৫ সালের (২৮ ফেব্রুয়ারী) এক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ের শুভ উদ্ভোধন করা হয়েছিলো।


পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় সদস্য সচিব অফিসের নিচে স্ট্যান্ড চাঁদাবাজি করে বসতেন অফিসে পাশাপাশি রানার নির্দেশনায় তারাই ড্রাইভার সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দুলাল বেপারী দীর্ঘদিন যাবৎ অফিস খালি থাকায় এখানে জুয়ার আস্তানা তৈরি করেছেন। আর যে টাকা তুলতেন রানারই লোক বিদ্যুৎ। তা ছাড়া নিয়মিত লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়ার আসর বসে এখানে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। তা ছাড়া শহরের ৫ নং ঘাট এলাকা, কালিরবাজার,


বঙ্গবন্ধু সড়কের আশে-পাশের এলাকায় এবং সাইনবোর্ড এলাকার কয়েকটি জুয়ার আসর থাকলে ও দলীয় কার্যালয়ের ছত্রছায়ায় এখানেই সবাই একত্রিত হয়ে খেলার আসর বসাতেন এমনটাই জানা গেছে। তা ছাড়া এই জুয়ার বোর্ডের পাশাপাশি এখান থেকেই সাপ্লাই হতো মাদক, নারীসহ নানা অবৈধ ব্যবসা এমন নানা অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে নতুন এসপির অভিযানে এবার থমথমে পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে শহরের অবৈধ আস্তানাগুলোতে। গত ২ বছর যেগুলো বিএনপির দলীয় ট্যাগে পার পেলে ও তা এবার পুরোই উল্টো।


এদিকে গতকাল জুয়ার আসনে অভিযান চালিয়ে সরঞ্জাম, নগদ ৭৭ হাজার ৯৪০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। থানায় তাদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা হবে বলে জানায় পুলিশ।


অভিযান শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান বলেন, চাষাঢ়া মোড়ের খাজাসুপার মার্কেটের চারতলায় আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি এখানে অবৈধ জুয়ার আসর বসেছে। এই জুয়ার আসরে এসে দেখি তারা টাকা দিয়ে জুয়া খেলছে। এদের পরিচয় নিয়ে জানতে পেরেছি তাদের বেশিরভাগই শ্রমিক। তারা কলকারখানায় চাকরি করে। এমন কয়েকজনকে টাকা, জুয়ার কার্ডসহ আটক করেছি।


তিনি আরও বলেন, এদের বেশিরভাগই কর্মচারী। তারা এখানে পরিবারের সাথে থাকে না। পরিবারকে টাকা পয়সা না দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ না দিয়ে তারা এখানে টাকা নষ্ট করছে জুয়া খেলে। এটাকে সামাজিক অবক্ষয় মনে করি। এদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাই আমরা অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করেছি।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন