আবুল কাউসার আশা
নগরবাসীকে হকারমুক্ত ফুটপাত নগরী উপহার দেওয়ার হুঙ্কার দিয়েই লাপাত্তা হয়ে পরেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। এদিকে নানা সময় হকার বিরোধী স্লোগান, মিছিল, দুই দফায় অভিযান কিন্তু হঠাৎ হকার ঘিরে আশার রহস্যময় স্থবিরতা। যা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এদিকে গত (১৩ এপ্রিল) লোক দেখানো হকার উচ্ছেদ অভিযান দিয়েই আর মাঠে দেখা যায়নি তাকে। এর আগে গত (১০ এপ্রিল)সহ পরবর্তীতে নানা বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনে হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে নাসিক প্রশাসকের বৈঠকে আবুল কাউসার আশা জানিয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জ ফুটপাত দখলমুক্ত থাকবে, কোন হকার বসবে না। তিনি বলেছিলেন, আমার বাড়ি দখল করে নেন, তারপরও রাস্তার ফুটপাতে বসতে দিতে পারব না। প্রয়োজনে আমার বাসায় এসে ব্যবসা করুন, আমি ঘর ছেড়ে দেব কিন্তু ফুটপাতে বসতে দেব না।
সাংসদ নির্বাচনের ২ মাস অতিবাহিত হলে জনগণকে ভেল্কি দিতে নানা নাটকীয়তা দেখিয়ে বর্তমানে পুরো নগরবাসীকে ফের হকারদের হাতে জিম্মি থাকতে দেখে ও নিশ্চুপ আবুল কাউসার আশা। যা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে হকারের উত্তাপ বর্তমানে বিবি রোডের পাশাপাশি শায়েস্তা খা রোডে ও মাত্র তিরিক্ত অবস্থায় রয়েছে। এদিকে শায়েস্তা খা রোডেই সংসদ সদস্য আবুল কালামের বাসা ও তিনি সেখানেই বসবাস করেন। এমপির বাসার নিচেই হকারদের রমরমা ফুটপাত-রাস্তা দখল করে ব্যবসা। তা ছাড়া এমতা অবস্থায় রাজনৈতিক সচিব ও ঘুমন্ত অবস্থায়।
এদিকে হকার উচ্ছেদকে ঘিরে গত (২৫ অক্টোবর) রাতে হকার উচ্ছেদে মাঠে নামেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত। এ সময় উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সামনেই লঙ্কাকাণ্ড ঘটানোর চেষ্টা করেন উস্কানিতে নামা একটি হকার নামের শ্রেণি। বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদকারী দলের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পৌছালে তাকে অবরুদ্ধ করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করে হকার নামধারীরা। এমতা অবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এমন আলোচিত ঘটনা ঘটলে ও মাঠে দেখা যায়নি কিংবা হকারদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি আশাকে যা নিয়ে সমালোচনা উঠছে। তা ছাড়া অভিযোগ উঠছে, আশার নামে বিবি রোড, শায়েস্তা খা রোড, সিরাজদৌল্লাহ রোডে একাধিক দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি চালায় একটি মহল। এদিকে হকারদের সঙ্গে সংশিষ্টতার নানা অভিযোগ ও রয়েছে আশার একাধিক কর্মীদের বিরুদ্ধে। এদিকে আশার রহস্যজনক লাপাত্তায় প্রশ্ন উঠছে এমপির রাজনৈতিক সচিব কি হকারদের বন্ধু নাকি হকার উচ্ছেদের পক্ষে।


