হাতেমকে গালি দিয়ে স্লোগান কেন দিল শ্রমিকরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলে "হাতেম আলীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে" স্লোগানের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে গার্মেন্টসের আইডি কার্ড ঝুলানো শ্রমিকরাই হাতেম আলীর বিরুদ্ধে এমন স্লোগান দিচ্ছিলেন। একই সাথে হাতেমের পদত্যাগের দাবি ও জানিয়েছিলেন শ্রমিকরা। এদিকে বিকেএমই‘এ সভাপতির বিরুদ্ধেই শ্রমিকদের এমন স্লোগান তোলা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
এদিকে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে আন্দোলনটি ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাসসহ সড়কের উভয় পাশ অবরোধ করেন। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এদিকে সেই বিক্ষোভেই হাতেমকে ঘিরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে বিকেএমই‘এ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই আন্দোলন চলমান রয়েছে। এটা পুরোই ষড়যন্ত্রমূলক আন্দোলন ও তাদের ৩০ হাজার টাকার সর্বনিম্ন বেতনের দাবি ও অযৌত্তিক। তা ছাড়া আজকের এই অবরোধ ও আন্দোলন পুরোই বানানো। তা না হলে একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বের হয়ে অন্য অন্য গার্মেন্টসদের শ্রমিকদের ডিল মেরে গার্মেন্টস থেকে বের করে দিয়ে আসা হয়েছে। আমরা এমনভাবে আর জিম্মি থাকতে চাই না। তাকে নিয়ে শ্রমিকদের এমন মন্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনে সকলেই শ্রমিক ছিল না। এর বাহিরে অনেকেই অন্য সুবিধা অংশ নিয়েছিল। তা ছাড়া আমার বিরুদ্ধে স্লোগান নিয়ে বুঝা যাচ্ছে, আমার বিরুদ্ধে তাদের কেউ লেলিয়েছে। তা না হলে এখানে আমার প্রসঙ্গ কেন আসবে। আমি তো মজুরী বোর্ড গঠনকে সমর্থন জানিয়েছি। তা ছাড়া শ্রমিকরা যেন ভালো কিছু পায় তা নিয়েই আমরা কাজ করি। কিন্তু আমাকে নিয়ে একটি পক্ষ এমন স্লোগান রহস্যজনক।
এদিকে বিকেএমই‘এ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যিনি বিগত দিন থেকেই ওসমান পরিবারের লেজুরবৃত্তি করা ব্যাক্তি হিসেবে পরিচিত। তা ছাড়া চব্বিশের (৩ আগষ্ট) স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে দেশের টিকিয়ে রাখতে নানা নীল নকশার অভিযোগ রয়েছে এই হাতেমের বিরুদ্ধে। একই সাথে সেলিম ওসমানের প্রেসক্রিপশনেই হাতেম বিকেএমইএ‘র দায়িত্ব নেয়। এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর থেকেই তার বিগত দিনের আওয়ামী লীগ লিয়াজু কর্মকাণ্ডে ছাত্রদলের কাছ থেকে লাঞ্ছিতসহ দুই দফায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য এড. আল-আমিনের কাছ থেকে লাঞ্ছিতসহ একাধিক স্থানে একাধিক ব্যাক্তির হাতে ওসমান পরিবারের লিয়াজু থাকায় বার বারই লাঞ্ছিত হাতেম।


