শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষে এনসিপির সমর্থন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মত শ্রমিক আন্দোলনের পর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করলেন এনসিপি। শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ৩০হাজার এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু এই আন্দোলনে শ্রমিকদের দাবির পক্ষে রয়েছেন। তবে এখানে আওয়ামীলীগের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা থাকলেও তার বিপক্ষে রয়েছে এনসিপি। এদিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লার শিবুমার্কেট এলাকায় শ্রমিক আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বর্তমান এমপি হিসেবে রয়েছেন আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদেও রয়েছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে তার নির্বাচনী এলাকার চলমান আন্দোলনের সম্পর্কে তার কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষে এনসিপি।
সূত্র বলছে, ২,৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ৩০হাজারের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এরমধ্যে গতকাল ৩নভেম্বর শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে এবং কাপড় ও বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই দফায় কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। চারটার দিকে জালকুড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। সংঘর্ষের সময় সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়ির জানালার কাঁচও ঢিল মেরে ভাঙা হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিক রাজপথ ছাড়েন। এরপরই সন্ধ্যা নেমে আসলে অন্ধকারের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এক প্রকার শোডাউন করেন। পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা চলমান শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিকদের পক্ষে তাদের সমর্থন রয়েছে বলে এনসিপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার বলেন,শ্রমিকদের যে দাবিটা বহুল কাঙ্খিত অনেক দিনের দাবি তাদের এই দাবিকে আমরা সমর্থন জানাই। কিন্তু মালিকের উপর ঝুলুম করে তাদের দাবিটা যৌক্তিক তাদের এই দাবিটা মানতে হবে। এই আন্দোলনটা নষ্ট করতে আওয়ামীলীগের দোসররা বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের দাবির পক্ষে আছি কিন্তু আওয়ামীলীগের বিপক্ষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করে তখন বিরোধীদলের একটি ইন্ধন খুঁজে পায় এখন যে আন্দোলন চলছে এখনোও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ইন্ধন চলছে।
আমরা মনে করি আজকের যে সহিংশ পরিস্থিতির দিকে সেটা একটা দায় সরকার নিতে হবে। সরকার বলতেছে শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামীলীগ ঢুকছে আমরা দেখতে পাচ্ছি মালিক যে সংগঠন বিকেএমই এর মত সংগঠনে আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামীলীগের দোসররা বসে আছে গতকাল তারা শ্রমিকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রেখেছে গতকাল আমি মনে করি আজকের যে সহিংসতা তারও একটি রেশ হতে পারে। একই সাথে মনে করি এখানে সরকারের ইন্টেলিজেন্স এখানে ব্যর্থ। আওয়ামীলীগ যখন প্রকাশ্যে মিছিল করে তখন আওয়ামীলীগকে খুঁজে পান না। এখন শ্রমিকদের আন্দোলনে আপানা আওয়ামীলীগকে খুঁজতে আসছেন। আমরা মনে করি সরকারের ইন্টেলিজেন্সির ব্যর্থতা। আজকের যেই সহিংস পরিস্থিতি আমরা মনে করি সরকারকেই এর দায়ভার নিতে হবে। শ্রমিকদের যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে যৌক্তিক আলোচনা হোক এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি যেন সেখানে থাকে। শুধুমাত্র সরকারী দলের শ্রমিকদের নিয়েই মজুরি বোর্ড গঠন করলে এই মজুরি বোর্ড গঠন হবে না।


