Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

উস্কানি দিয়ে বেকায়দায় এনসিপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

উস্কানি দিয়ে বেকায়দায় এনসিপি
Swapno

শ্রমিক আন্দোলনে ভর করে নাশকতার পায়তারা শুরু করেছেন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ। এই আন্দোলনকে পুঁজি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগ। তারা আন্দোলনকে দীর্ঘ করতে নানা নীল-নকশা ও চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ। একই সাথে যেখানে নাটেরগুরু হিসেবেও কাজ করেছেন একাধিক গার্মেন্টস মালিক ও কিছু স্বৈরাচারের পক্ষের শ্রমিক নেতারা। তারা সকলেই বার বার উস্কানি দিয়েই আসছিলেন। এদিকে দেশের বিভিন্নস্থানে নাশকতা-বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা যায়। এদিকে কয়েকদিনের শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে আওয়ামী লীগকে দায়ী করে আসছিলেন বিএনপি। প্রশাসনের শীর্ষ স্থানীয় র্কর্মকর্তারাও বলছেন একটি গোষ্ঠী পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। আন্দোলন আর সহিংশতার কারণে যখন অনেক পোশাক কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে তখন শ্রমিকদের উস্কে দিচ্ছেন এনসিপির নেতারা।


এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী ও বিএনপির কাছে রোষানলে পরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি নেতারা। এদিকে এনসিপির স্থানীয় এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন আন্দোলনে স্বশরীরে উপস্থিত না থেকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে দিচ্ছেন। অপরদিকে দলের নেতাকর্মীরাও ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে গিয়ে শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলে আগুনে ঘি ঢালছেন। এদিকে গত সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চলে। সোমবার সহিংশতা না ঘটলেও মঙ্গলবার ও বুধবার ছিল উত্তপ্ত পরিস্থিতি। শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে কাদানে গ্যাস ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়। আহত হয় অনেকে। গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েকজন। মামলা করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে গিয়ে ফটোসেশন করে এনসিপির নেতারা। জেলার সভাপতি যুবাইর সরদার, মহানগরের সভাপতি শওকত আলী সহ স্থানীয় নেতারা সেখানে গিয়ে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেন। তারা শ্রমিকদের পক্ষ নেন। এছাড়া কয়েকজন এনসিপি নেতা শ্রমিকদের সঙ্গেও কথা বলে তাদের দৃঢ় থাকার আহবান রাখেন। বর্তমানে এনসিপির নেতাদের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। অপরদিকে একই কাজ করছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। তারাও ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের নানাভাবে সাহস দিচ্ছেন আন্দোলন চালিয়ে যেতে। বর্তমানে এনসিপিকে আওয়ামী লীগের প্রেসক্রিপশনের থাকা দল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা।



সূত্র বলছে, ২,৩ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের মাসিক মজুরি ৩০হাজারের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এরমধ্যে গতকাল ৩নভেম্বর শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে এবং কাপড় ও বাঁশে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই দফায় কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। চারটার দিকে জালকুড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।


সংঘর্ষের সময় সড়কে থাকা কয়েকটি গাড়ির জানালার কাঁচও ঢিল মেরে ভাঙা হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্য দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিক রাজপথ ছাড়েন। এরপরই সন্ধ্যা নেমে আসলে অন্ধকারের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এক প্রকার শোডাউন করেন। পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা চলমান শ্রমিক আন্দোলনের শ্রমিকদের পক্ষে তাদের সমর্থন রয়েছে বলে এনসিপি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেন। একই সাথে গত ৪ নভেম্বর বিএনপি ও পুলিশ নেতাদের যৌথ উদ্যোগে আন্দোলনকারীদের লিংক রোড অবোরোধের চেষ্টা পুরোপুরি পন্ড হয়। যা নিয়েও রাজনীতি করতে চাইছেন এনসিপি। বিভিন্নস্থানে এই ঠেকানোকে হামলা আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল ও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের ফাঁদা নকশায় এনসিপি পা দিয়েই বেকায়দায়।



আগুনে ঘি ঢালার মত অবস্থা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন। তাকে তিনদিন দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া লিখেছেন। তবে তিনি যেখন পোস্ট করেন তার আগেই সরকার জানিয়েছেন মজুরী বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরী নির্ধারন করে দিবে যা জানুয়ারী হতেই কার্যকর হবে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সাধুবাদ জানাচ্ছেন তখনই আল আমিন পুরো আন্দোলন নিয়ে বলছেন, এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অংশগ্রহণ আছে। কিন্তু এর দায় কার? আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে প্রকৃত শ্রমিকের দাবীকে অস্বীকার করা যাবে না। সারা বছর লীগের লোকজনকে শেল্টার দিয়ে আন্দোলনের সময় লীগের জুজুর দেখালে হবে না। নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সুযোগ পাওয়ার কারণ, বিকেএমইএ সভাপতি মো.হাতেম। একজন লীগের দোসর ওসমানদের দালালকে পদে বসিয়ে রেখে লীগকে ঠেকাবেন কিভাবে? সে নিজেই-আওয়ামী লীগ। প্রশাসন যদি জুলাইয়ে খুনী হাসিনার পক্ষ নেয়া হাতেমের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয় তাহলেই লীগের ইন্ধন কমে যাবে। সর্ষের মধ্যে ভূত বসায়া রেখে রাজপথে লীগ খোঁজার কোনো মানে হয় না।



নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার বলেন, শ্রমিকদের যে দাবিটা বহুল কাঙ্খিত অনেক দিনের দাবি তাদের  এই দাবিকে আমরা সমর্থন জানাই। কিন্তু মালিকের উপর ঝুলুম করে তাদের দাবিটা যৌক্তিক তাদের এই দাবিটা মানতে হবে। এই আন্দোলনটা নষ্ট করতে আওয়ামীলীগের দোসররা বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের দাবির পক্ষে আছি কিন্তু আওয়ামীলীগের বিপক্ষে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, শ্রমিকরা যখন আন্দোলন করে তখন বিরোধীদলের একটি ইন্ধন খুঁজে পায় এখন যে আন্দোলন চলছে এখনোও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ইন্ধন চলছে। আমরা মনে করি আজকের যে সহিংশ পরিস্থিতির দিকে সেটা একটা দায় সরকার নিতে হবে। সরকার বলতেছে শ্রমিকদের আন্দোলনে আওয়ামীলীগ ঢুকছে আমরা দেখতে পাচ্ছি মালিক যে সংগঠন বিকেএমই এর মত সংগঠনে আমরা দেখতে পাচ্ছি আওয়ামীলীগের দোসররা বসে আছে গত কিছুদিন তারা শ্রমিকদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য রেখেছে গত কিছুদিন আমি মনে করি আজকের যে সহিংসতা তারও একটি রেশ হতে পারে। একই সাথে মনে করি এখানে সরকারের ইন্টেলিজেন্স এখানে ব্যর্থ।


আওয়ামীলীগ যখন প্রকাশ্যে মিছিল করে তখন আওয়ামীলীগকে খুঁজে পান না। এখন শ্রমিকদের আন্দোলনে আপানারা আওয়ামীলীগকে খুঁজতে আসছেন। আমরা মনে করি সরকারের ইন্টেলিজেন্সির ব্যর্থতা। বর্তমানে যে সহিংস পরিস্থিতি আমরা মনে করি সরকারকেই এর দায়ভার নিতে হবে। এদিকে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে ‘প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক’ মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।



মাসুদ বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটা আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু বিরোধী দলের যে ভূমিকা এনসিপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, সেটাও আমাদের কাছে, ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক এবং হতাশাজনক মনে হয়েছে। কারণ, এই দেশ তো শেষ পর্যন্ত আমাদেরই। আমাদেরই আসলে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত তিন দিনের একটি অভিজ্ঞতা আমার কাছে একটু নতুন প্রকৃতির অভিজ্ঞতা মনে হয়েছে। যেদিন একটি ওয়েজেস বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তার আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো, যেটার কোনো দরকার ছিল না। এর সঙ্গে কোনো মালিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কোনো মালিকের মতামত ছিল না, শ্রমিকেরও কোনো মতামত ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু নেতৃবৃন্দ ৩০ হাজার টাকার দাবি তুলেছেন। সেটা মজুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে অথবা মজুরি বোর্ড সেই চিন্তাভাবনা করে গঠন করা হবে। সেই সময়টুকু না দিয়ে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় আগের দিনই আক্রমণ করা হলো, ভাঙচুর করা হলো, জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এর পেছনে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের কথা আমরা জানতে পারি।’ শ্রমিকদের আন্দোলন প্রতিহত করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।



তিনি বলেন, ‘আমাদেরও প্রয়োজন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আমাদেরই ছোট ভাইকে পাশে পাওয়া। আমার দরকার ছিল, আপনারা সবাই মিলে একটি বক্তব্য দিতেন। এটা তো প্রতিহত করার ব্যাপার না। আমরা তো শ্রমিকদের প্রতিহত করতে চাইনি। আমরা চেয়েছি, এই পরিস্থিতিটা সামাল দিতে।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন