নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তেও নারায়ণগঞ্জ শহর ও জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এখনও দাপটের সাথেই চলেছে কয়েক-লাখ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ভ্যান। চলাচলে অনুমোতি না থাকায় এসব অবৈধ যানবাহনকে ঘিরে সড়কে একদিকে যেমন তৈরী হয়েছে চাঁদাবাজদের অসংখ্য সিন্ডিকেট। অন্যদিকে অভিযোগ আছে ব্যাটারিচালিত এই যানগুলো চার্জ দিতে বিভিন্ন গ্যারেজে রয়েছে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ।
পাশাপাশি যানজট, ভোগান্তী ও দূর্ঘটনাসহ অন্যান্য বিশৃঙ্খলাতো লেগেই আছে। কিন্তু এর পরও ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ভ্যান বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষ্যেপ নিতে দেখা না গেলেও, এবার এ বিষয়ে সরাসরি সরকারই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কারণ গতকাল সচিবালয়ের এক সভায় ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আর এ বিষয়ে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধে সরকারের এই সিদ্ধান্ত দূর্নীতি বন্ধে ও যানজট নিরসনে কাজে আসবে বলে মনে করছেন অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসির ইস্ট জোনের এক উধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, এই রিক্সাগুলো চার্জ করার জন্য আমাদের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন বড় বড় গ্যারেজগুলোতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং দিন দিন এটা বাড়ছেই । তাই আমি মনেকরি সরকার যেহেতু এই যানগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এতে বিদ্যুৎ চুরি অনেকাংশেই কমে যাবে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম বলেন, আসলে ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধের যেই সিদ্ধান্ত সরকার নিচ্ছে, এটি যানজটমুক্ত নগরী গড়তে সাহায্য করবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এসব নিষিদ্ধ যানগুলো বৃদ্ধি পেতে থাকায় রাস্তায় অতিমাত্রায় বিশৃঙ্খলা তৈরী হয়েছে। কিন্তু এখন আশাকরি এই সমস্যার সমাধান হবে।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিক্সা বন্ধের বিষয়ে যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কারণ এই যানগুলোর জন্য শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রচুর যানজট তৈরী হয়। তাই লিখিত চিঠি পেলেই আমরা দ্রুতই কাজ শুরু করবো।


