অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলে লাশের সারি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২১, ০৯:১৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৯ জনের লাশ নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্সে করে এসব লাশ শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে নিয়ে আসা হয়। পুলিশি পাহারায় নিয়ে আসা লাশগুলোর সব কটিই ছিলো পোড়া। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড লিমিটেডের ছয়তলা ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৯জন মানুষ। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোরসালিন (২৮) নামের একজন। আর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন বারেক (৪৮), নাহিদ (২৪), মঞ্জুরুল (২৮), আহাদ (৩৮), লিটন (৪৪)। এছাড়াও এখনো চিকিৎসাধীন ৩জন হলেন হালিমা (১৩), মাজেদা (২৮) ও আমেনা (৪০)। তাঁদের সকলকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন রায়হান আহমেদ, যিনি ওই কারখানায় কিউসি (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) ল্যাবের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
তিনি বলেন, কারখানায় প্রবেশের আগেই ল্যাব। কাজ করার সময় হঠাৎ চিৎকার শুনতে পান পাই। এরপর বের হয়ে দেখি, ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারদিক। এর মধ্যে উপর থেকে কয়েকজন লাফিয়ে পড়েন। আমরা কয়েকজন মিলে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে, এ বিষয়ে কিছু জানিনা।
হালিমার মা শাহানা বলেন, তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এর মধ্যে বড় মেয়ে সাদিয়া ও ছোট মেয়ে হালিমা একই কারখানায় কাজ করেন। গতকাল বিকেল চারটায় বড় মেয়ে সাদিয়া বের হওয়ার পরই ছোট মেয়ে হালিমা কাজে যোগ দেন। তিনি বলেন, এর কিছুক্ষণ পরই একজন ফোনে কল দিয়ে আগুন লাগার খবর জানান। এরপর তাঁরা রাতভর হালিমাকে খুঁজেছেন। অবশেষে না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। সেখানে তাঁর ছোট মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পান। তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাঁর দুই মেয়েই চার মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করতেন, বেতন পান প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা করে। শাহানা নিজেও একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আর তাঁর স্বামী আলমগীর কাজ করেন আরেকটি কারখানায়। তাঁরা থাকেন রূপগঞ্জ শহরের গাউছিয়া এলাকায়।


