Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

বোমা হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে আইনজীবীদের গণস্বাক্ষর

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২২, ০৪:২০ পিএম

বোমা হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে আইনজীবীদের গণস্বাক্ষর
Swapno

# এখনো কোন গ্রেফতার নেই

 

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক ‘খবরের পাতা’র সম্পাদক এড. মাহবুবুর রহমান মাসুমের বাড়ির সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন আইনজীবীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদকবৃন্দসহ সিনিয়র ও জুনিয়র প্রায় ২০০ আইনজীবী এই দাবিকে সমর্থন করে এই স্বাক্ষর করেন।

 

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের অন্যতম সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আবদুল বারী ভূইয়া, সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. হাবিব আল মুজাহিদ পলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া,

 

সিনিয়র আইনজীবী আওলাদ হোসেন, এড, আনোয়ার হোসেনসহ প্রায় ২০০ আইনজীবী এই দাবিতে সমর্থন করে গণস্বাক্ষর করেন। বুধবার সারাদিন এই কর্মসূচি পালিত হয়। এড. মাহবুবুর রহমান মাসুমের বাড়ির সামনে বোমা হামলার ঘটনায় গত রোববার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়।

 

মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হলেও ত্বকী হত্যাকান্ডে জড়িতরা ভয় দেখানোর জন্য এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে মনে করেন বাদী সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা তদন্তে ডিবি পুলিশ কাজ করছে এবং একটি কমিটিও করা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে তারা একটা রিপোর্ট দেবে। আমরা আশা করি এই মামলার অতি শ্রীঘ্রই উন্মোচন হবে।’  

 

মামলার এজাহারে বাদী মাহবুবুর রহমান বলেন, নগরীর আলম খান লেনের বাসায় পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। গত ১১ মার্চ দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিস্ফোরণের বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভাঙে। বিছানা থেকে উঠে বাসার নিচে নেমে বাসার নিচতলা ধোয়ায় আচ্ছন্ন ও বোমার অংশবিশেষ দেখতে পান। পরে গেট খুলে রাস্তায় বিস্ফোরকের দ্রব্যাদি ছড়ানো-ছেটানো দেখতে পান।

 

তৎক্ষনাৎ সদর থানার ওসিকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।বাদীর ধারণা, নারায়ণগঞ্জের আলোচিত কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ায়, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করার কারণে এবং গত ১১ মার্চ বিকেলে শহীদ মিনারে ত্বকী মঞ্চের সভায় বক্তব্য রাখার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটনানো হয়েছে।

 

ত্বকী হত্যাকান্ডে জড়িতরা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সাথেও জড়িত বলে মনে করেন তিনি। শুরু থেকেই ত্বকী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলেন এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম। সম্প্রতি ত্বকী হত্যার ৯ বছর পূর্তির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও খুনিদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন তিনি। গত ১১ মার্চ বিকেলে শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশেও তিনি ত্বকী হত্যার বিচার দাবি করে বক্তব্য রাখেন।

 

খুনিদের গ্রেফতারের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এরপর গভীর রাতে তার বাসার সামনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশের বাসায় স্থাপিত একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ২টা ৩৯ মিনিটে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নগরীর আলম খান লেনে মাহবুবুর রহমানের বাসার সামনের গেটে একটি ব্যাগসদৃশ বস্তু রেখে যান।

 

ওই ব্যক্তির পরনে হুডি জ্যাকেট এবং মুখে মাস্ক দেখা যায়। বস্তুটি রেখে নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন ওই ব্যক্তি। এর প্রায় ১০ মিনিটের মাথায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ভিডিও ফুটেজে ওই ব্যক্তির চেহারা স্পষ্ট দেখা যায়নি। ঘটনার পর সদর মডেল থানায় পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি করে।

 

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ জামান জানান, রাত তিনটার দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে প্ল্যাস্টিকের বোতল ও লাল স্কচটেপ আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছে পুলিশ। বিস্ফোরকটি ককটেল জাতীয় হাতবোমা ছিল বলে ধারণা পুলিশের। এই বিষয়ে মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ত্বকী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে যারাই সোচ্চার ছিলেন তাদের বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে।

 

একই কারণেই তার বাসার সামনে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। খুনিরা এইভাবে ভয় দেখাতে চায়। কিন্তু এতে প্রতিবাদ থামবে না। ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে এবং এই বিচার হবে। খুনিরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।

 

উল্লেখ্য, ত্বকী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি পত্রিকা অফিসে হামলা চালায় আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা। ত্বকী হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আজমেরী ওসমান প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে এবং বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানের ভাতিজা।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন