Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

কাউকে তোয়াক্কা করেনা মক্কা ইটভাটা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৫ পিএম

কাউকে তোয়াক্কা করেনা মক্কা ইটভাটা
Swapno

 

# আদালতের আদেশ অমান্য করে চলছে এই ইটভাটা

 

আইনের কোন তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার লক্ষন খোলা ফনকুল এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আল মক্কা ব্রিকস ইট ভাটার মালিক জজ মিয়া অবৈধ ভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এ ইটভাটা। কম উচ্চতার চিমনিতে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ধানী জমিতে, নদীর ধারে গড়ে উঠেছে এই অবৈধ ইটভাটা। ফলে মানুষের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি ইটভাটার আশপাশের ফসল, গাছপালা মরে যাচ্ছে। এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই সাথে পাশেই অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 

এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কিলো মিটারের মধ্যে ইট ভাটাটি অবস্থিত হওয়ায় নিষিদ্ধ এলাকায় পরেছে। আর নিষিদ্ধি এলাকায় আল মক্কা ব্রিকস স্থাপন হওয়ায় ৮(৩) এর ধারা লংঘনের দায়ে ১৮ (২) ধারায় দোষি সাব্যস্ত হয়। জানা যায়, ফসলি জমিতে এবং বিদ্যালয়ে পাশে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। কেউ পাহাড়ের লাল মাটি দিয়ে ইট প্রস্তুুত করছে, কাঠ দিয়ে ইট পোড়াচ্ছেন। এক কথায় কোন আইন মানছেন না ভাটা মালিক তবুও চলছে ইটভাটা।

 

এদিকে জানা যায়, স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্ট নারায়ণগঞ্জ আদালতে আল মক্কা ব্রিকস ইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার মামলা নম্বর সি আর ২৯/২২। মামলাটি শুনানির পর গত জুন মাসে আদালত আদেশ নামা জারি করেন। আদেশে বলা হয় এই প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ছারপত্র না থাকায় পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৫ (১) টেবিল ক্রমিক নং ১২ অনুযায়ী মামলার আসামি বন্দর ফনকুল এলাকার  শহিদুল ইসলামের ছেলে শফিকুলকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩ এর ৫(১) ধারা লংঘনের দায়ে ১৫(১) খ ধারায় ১ লক্ষ টাকা এবং নিষিদ্ধ এলাকায় ইট ভাটা স্থাপন করায় ৮ (৩) ধারা লংঘনের দায়ে ১ লক্ষ টাকা করে মোট ৪লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

এছাড়া পরিবেশ আদালত আইন,২০১০ এর ৬(২) ধারার বিধান অনুযায়ী মামলায় বর্নিত ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। সেই সাথে নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না তা রিপোর্ট জমা দেয়ার জন্য পরিবেশ দপ্তরের জেলা উপ পরিচালককে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু এলাকাবাসি জানান, আদালত আল মক্কা ব্রিকস নামক ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ করা হলেও দিব্বি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।খোজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক জজ মিয়া, একই সাথে তার ছেলে ইয়া নবী, মামলার আসামি শফিকুলের জায়গায় বর্তমানে আলম চান, রমজান ,মনু মিলে আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে অবৈধ ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আল মামুন জানান, এই প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে এখান থেকে তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা চলে যাবে বলেছে। তবে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন আল মক্কা ব্রিকস প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষমতার জোর কোথায়। তারা আদালতের নির্দেশকে অমান্য করে কি করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশকে ক্ষতি করছে। পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শাস কষ্টে ভুগছেন। তাই নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলেন শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।

 

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া ইট প্রস্তুত করা ও পোড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আইন অমান্য করলে ভাটা মালিককে ২ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডই হতে পারে। কিন্তু আইনের কোন তোয়াক্কা না করে পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ভাটা মালিকরা ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন, বাগান বা জলাভূমিতে ইটভাটা স্থাপন না করার বিধান রয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা চালাচ্ছে এসব ইটভাটা। সব কিছু মিলিয়ে স্থানীয়রা চান এই ইট ভাটা যেন অতি দ্রুত বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সাথে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের প্রতিফলন চায়।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন