Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

আদালত প্রাঙ্গণে হকার বসাতে বাধা দেয়ায়

আবারো সমালোচনায় টিপু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

আবারো সমালোচনায় টিপু

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও এড.আমেনা আক্তার শিল্পী

Swapno



# রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করা টিপু এখন আদালতেও হকার বসাতে চায়
# কয়দিন আগে এক আইনজীবীকে কোর্টে ও হোসেয়ারি সমিতির সামনে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়


বিতর্ক যেন তৈরি করতে পছন্দ করেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.টিপু। কখনো কর্মীদের মারধর করেন, আবার কখনো নাসিক প্রশাসকের সাথে প্রকাশ্যে ঝগড়ায় জড়ান। আবারো কখনো সাংবাদিকদের মারধর করেন। এবার আরো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে টিপুর বিরুদ্ধে। আদালত প্রাঙ্গণে এবার হকার বসাতে বাধা দেয়ায় বিএনপির আইনজীবী নেত্রী এড. আমেনা আক্তার শিল্পীকে মারধর ও গালিগালাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।


এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। একের পর এক বিতর্ক তৈরি করায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবিও জানানো হচ্ছে। এই নিন্দনীয় ঘটনার কঠোর সমালোচনায় সাধারণ আইনজীবীরাও। নারী আইনজীবীকে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজও এড.টিপুর লাগাম টেনে ধরার জন্য বিএনপির প্রতি আহবান জানিয়েছে। ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষও।  


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া প্রাঙ্গণে ভবনের সামনে থেকে দুই হকারকে দোকান সরিয়ে নিতে বলার পরপরই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এড. আমেনা আক্তার শিল্পী জানান , আমি আইনজীবী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে দুইজন মহিলা হকারকে সরিয়ে দূরে বসতে বলি। সেই ঘটনার জের ধরে এড. রফিক আহমেদ আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কেন সরিয়ে দিয়েছি? আমি বলি আমি একা সরায়নি।


আপনি এব্যাপারে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এভাবে কথা বলার এক পর্যায়ে এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে আমাকে ঘুষি মারে। এছাড়া টিপু কয়েকবার আইনজীবীদের মোটা ডাইরী ও ব্যাগ ছুঁড়ে মারে। এড. রফিক আহমেদ অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয় এবং আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ও মক্কেলদের সামনে মারার জন্য তেড়ে আসে। এড. টিপু অন্যান্য আইনজীবীদের সাথেও প্রায়শই দুর্ব্যবহার করে ও গায়ে হাত তুলে। কিছুদিন আগে এক আইনজীবীকে কোর্টে এবং হোসেয়ারি সমিতির সামনে পেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সে।


আদলতে কোর্ট-টাই পড়ে সে টোকাইয়ের মতো ব্যবহার করেন সবার সাথে। এই ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত, এমন ব্যক্তি সকলের জন্য ক্ষতিকর। রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করা টিপু এখন আদালতেও হকার বসাতে চায়। টাকা খেতে না পেরে, সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।  আমি আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা রবিবার টিপুর এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করবো।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অভিযোগে সত্যতা মিলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু নারী আইনজীবি এড.আমেনা আক্তার শিল্পির উপর চড়াও হয়ে মারধর করতে যান। তাকে কয়েকজন আটকানোর চেষ্টা করেও আটকে রাখতে পারেননি। এমনকি সকল আইনজীবিদের সামনে টিপু তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে মারতে তেড়ে যান। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।


প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এড.আমেনা আক্তার শিল্পীর সাথে এড. রফিক আহমেদের সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে এড.রফিক আহমেদ ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু আমেনা আক্তার শিল্পীর উপড় চড়াও হন। পরে অন্যরা এসে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।



এসব অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, ‘এই নারীকে কেউ ভালো জানেনা (বাজে মন্তব্য)। এগুলো ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা, বানোয়াট। ওই নারী আমার মাকে নিয়ে গালি দিয়েছে, এখন এটা ধামাচাপা দেয়ার জন্য এগুলো বলছে। ওই নারী আওয়ামী লীগ ঘরনার আইনজীবী। আমি আদালতপাড়ায় দুই অসহায় নারীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম, সে তাদের উঠিয়ে দিয়েছে। আমি তাকে ধমক দিয়ে শাসন করেছি।’



এড.আমেনা আক্তার শিল্পী এবং এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু দুইজনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড.এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরদিন আদালত বন্ধ থাকায় আমরা বোর্ড কমিটির সভায় বসতে পারিনি। বসে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড.সরকার হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নারী আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা মার্জনীয় নয়। আইনজীবীদের অধিকার ও ন্যায় বিচারের জন্য যা যা করণীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন