Logo
Logo
×

আদালতপাড়া

বার বার বিতর্কে টিপু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

বার বার বিতর্কে টিপু
Swapno

 নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু প্রতিনিয়ত আইনজীবী থেকে শুরু করে রাজনীতিবীদ, সাংবাদিক, খোদ দলের নেতা এবং কর্মী সর্বমহলের ব্যক্তিদের সাথে কখনো তর্ক-বিতর্ক-মারধরে জড়িয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন। আবার কখনো অশালীন মন্তব্য করে তোপের মুখেও পড়েছেন। তবে প্রতিনিয়ত টিপু বিভিন্নমহলের ব্যক্তিদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন যে দৃশ্য রাজনৈতিক বোদ্ধামহল থেকে শুরু করে সর্বমহলকে ভাবিয়ে তুলছেন।


এদিকে বহু চড়াই উতরাইয়ের পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে একের পর এক টিপুর স্বভাবগত বিতর্কিত কান্ড কোন ক্রমেই মানতে পারছে না রাজনৈতিক বোদ্ধামহল থেকে শুরু করে সর্বমহল। যার কারণে টিপুর বিতর্কিত কান্ডের লাঘাম টানতে টিপুর দলীয় ফোরামেও টিপুর একের পর এক বিতর্কিত কান্ডগুলো উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে।



নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিভিন্ন বিতর্কিত কান্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়- গত ২১মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে নারী আইনজীবীকে মারধর করার অভিযোগ উঠে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া প্রাঙ্গণে ভবনের সামনে থেকে দুই হকারকে দোকান সরিয়ে নিতে বলার পরপরই ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এড. আমেনা আক্তার শিল্পী জানান , আমি আইনজীবী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে থেকে দুইজন মহিলা হকারকে সরিয়ে দূরে বসতে বলি। সেই ঘটনার জের ধরে এড. রফিক আহমেদ আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কেন সরিয়ে দিয়েছি? আমি বলি আমি একা সরায়নি। আপনি এব্যাপারে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এভাবে কথা বলার এক পর্যায়ে এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিয়ে আমাকে ঘুষি মারে। এছাড়া টিপু কয়েকবার আইনজীবীদের মোটা ডাইরী ও ব্যাগ ছুঁড়ে মারে। এড. রফিক আহমেদ অকথ্য ও অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয় এবং আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ও মক্কেলদের সামনে মারার জন্য তেড়ে আসে। এড. টিপু অন্যান্য আইনজীবীদের সাথেও প্রায়শই দুর্ব্যবহার করে ও গায়ে হাত তুলে। কিছুদিন আগে এক আইনজীবীকে কোর্টে এবং হোসেয়ারি সমিতির সামনে পেলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সে। আদলতে কোর্ট-টাই পড়ে সে টোকাইয়ের মতো ব্যবহার করেন সবার সাথে। এই ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত, এমন ব্যক্তি সকলের জন্য ক্ষতিকর। রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদাবাজি করা টিপু এখন আদালতেও হকার বসাতে চায়। টাকা খেতে না পেরে, সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।  আমি আইনজীবী সমিতিতে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা রবিবার টিপুর এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করবো।


এদিকে গত ১০মার্চ  নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছেন নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল আমিন প্রধান। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অযোগ্য নেতা। ওকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আপামর জনগণ গণ্য করে না। টিপু এমন চাঁদাবাজি বাহিনী তৈরি করেছে- যে চান্দা না দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাকে মামলা দেওয়ার হুমকি দেয়।”বৃহস্পতিবার নিতাইগঞ্জের এক ব্যবসায়ী টিপুকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে টিপুর লোকজন হুমকি দেয় বলেও লেখেন আল আমিন। তিনি পোস্টে বলেন, তার লোকজন থানায় গিয়েও পুলিশের ডিউটি অফিসারকে হুমকি দিয়ে আসে, যাতে মামলা না নেয়। উল্টো ভুক্তভোগীর নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে একমাত্র টিপুর চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরা অসন্তুষ্ট। নারায়ণগঞ্জ ব্যবসায়ী সমাজ ও বিএনপি নেতা-কর্মী টিপুর চাপে আছে। এখন সবাই, বিএনপি নেতা-কর্মীরা ফুঁসে উঠেছে । টিপুকে নারায়ণগঞ্জ জেলার কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য পদে যেন না থাকে। নারায়ণগঞ্জের আপাময় জনগণ ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নেত কর্মীরা অতিষ্ঠ হয়ে টিপুর পদত্যাগ দাবি করছে। টিপুর পদত্যাগ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ বিএনপি বিকশিত হবে না।


টিপু শামীম ওসমানের পরামর্শে এখনো বিএনপি চালাইতাছে”, লিখেছেন আল আমিন। তিনি আরও লেখেন, “বিএনপির ভেতরে থেকে বিএনপিকে ধ্বংস করবে এই আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সে একজন সরকারি প্রশাসনিক সিনিয়র কর্মকর্তাকে হুমকি দেয় আর অপপ্রচার করে মানুষকে জিম্মি করে। সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জিম্মি করে সে চান্দাবাজি করে, যেটার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় থেকে উঠে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন টিপু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কে, কি ক্ষতি করতাছে। এটা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আপামর নেতাকর্মীদের দাবি। এঘটনাকে কেন্দ্র করে টিপু ফের লাঞ্ছনার শিকার হলে ১৬নং বিএনপির এই নেতাকে বিভিন্ন ভাবে চাপে ফেলে পোস্ট ডিলিট করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।


গত ২০ ফেব্রুয়ারির দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাসেল প্রধানের সাথে মারধরের ঘটনা ঘটিয়ে বিতর্কে জড়ান। অ্যাডভোকেট রাসেল প্রধান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নির্বাচিত হওয়ার পর আমরা সকলে মিলে ফুলের শুভেচ্ছা জানাতে যাই। এসময় আমরা নতুন এমপিকে চাঁদাবাজের ব্যাপারে সতর্ক থাকার কথা বলি। এসময় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত ছিলেন। তবে তাকে উদ্দেশ্য করে কেউ কিছু বলেনি। এই ঘটনায় আইনজীবী ভবনের নিচ তলায় আমাকে পেয়ে টিপু নানাভাবে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা দুইজন বহিরাগত মিলে আমার গলা চেপে ধরেন। পরে অন্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।


এরআগে চাঁনমারি এলাকায় গত ২৮অক্টোবর ট্যাক্রি ও মাইক্রে স্ট্যান্ডে দুপক্ষের হাতাহাতি হয় সেখানেও টিপু বল প্রয়োগ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হন। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সময়েও সাংবাদিকদের সাথে তাদের পারিশ্রমিক নিয়ে তর্কে জড়িয়ে সাংবাদিকদের মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান।  গত ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্থানীয় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে টিপুকে মারধর করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে টিপুর গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে গেলে তাকে আবারও ধাওয়া করেন তারা।


এ সময় দৌড়াতে গিয়ে সড়কে পড়ে গেলে সেখানে আবার তাকে মারধর করা হয়। এরপর আরও কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে দৌড়ে পালাতে সহযোগিতা করলে তিনি একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেও তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে সেখান থেকে নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। এত বিতর্কে জড়িয়েও টিপু কোন ক্রমেই নিজেকে সংযত করতে পারছে না।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন