তিন ইস্যুতে আদালতপাড়ায় উত্তাপ
কালিবাজার নতুন ভবনে কোর্ট স্থানান্তর, নির্বাচনকে ঘিরে প্যানেল বিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সুমনকে চেয়ারে বসানো নিয়ে দুই গ্রুপের মুখোমুখী অবস্থান। এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলছে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায়। যাকে ঘিরে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যা নিয়ে কয়েক দিন ধরে আদালত চত্বর ও বার ভবনে পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশ ও স্লোগান দিচ্ছে।
এর ধারাবাহিকতায় দুইপক্ষের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। ঘটনার পরদিনই প্রকাশ্যে আদালতপাড়ায় দুই গ্রুপের পাশাপাশি অবস্থা হৈ-চৈ স্লোগান লক্ষ্য করা যায়। তা ছাড়া সর্বশেষ শোকজ পরবর্তীতে ২৪ ঘন্টার আগেই জবাব কিন্তু কোন সুরাহ নেই। একই সাথে ফোরামের নির্বাচন কার্যক্রম না থাকায় ফোরাম থেকে পদত্যাগ সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা চলছে আইনজীবীদের মাঝে। আইনজীবী ফোরামের নেতাদের এই প্রকাশ্য বিরোধে সাধারণ আইনজীবীরা তীব্র বিব্রত বোধ করছেন।
বর্তমানে দুটি শক্তিশালী প্যানেলে পরিণত হয়েছে বিএনপিপন্থী দুটি আইনজীবী গ্রুপ। তা ছাড়া সামনে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এই নির্বাচনে এবার সভাপতি পদে কে প্রার্থী হবেন, মূলত তা নিয়েই গুরু ও শিষ্য—দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দুজনেরই প্রভাব রয়েছে, পৃথক অনুসারীও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে যেসব কারণে বিরোধ তৈরি হয়, তার মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) নিয়োগ এবং আদালত স্থানান্তরের কার্যক্রম নিয়ে মতপার্থক্য। যা নিরসন না হলে আদালপাড়ায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষসহ নানা ঘটনার আশঙ্কা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। সেই সঙ্গে আইনজীবীরা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান। সর্বশেষ উভয়পক্ষই আলাদা আলাদাভাবে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক নয়নসহ উভয়পক্ষের কয়েকজন আহতও হন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সভাপতির রুমে ২ঘন্টা অবরুদ্ধ করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। একই সাথে দুই পক্ষের ফোনে কোর্টে বহিরাগতদের আসতে দেখা যায়। তা ছাড়া সেখানে বিভিন্ন্ পক্ষের একাধিক যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। তা ছাড়া সর্বশেষ দুই পক্ষে শোকজ ও শোকজের জবাবে ও শেষ পর্যন্ত কোন সুরাহ হয়নি।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্ধতার আরেকটি বিষয় রয়েছে যে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক আইনজীবী যিনি ২০২৪ সালে নারায়ণগঞ্জ বারের সদস্য হয়েছিল সুমন। এই নব্য একজন কোনভাবে নারী ও শিশু আদালতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। যা নিয়ে আইনজীবীরা ক্ষুদ্ধ হলেও তা পাত্তা না দিয়ে প্রশাসক সাখাওয়াত সাহেব ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে গিয়েছে সেখানে ও তারা তাকে বসানোর আশ্বাস ও দিয়েছে। কিন্তু আমরা তা মানতে নারাজ তা নিয়েও একটি বিরোধ ছিল। এডিশনাল পিপি এড.আবুল কালাম আজাদ তার নিজস্ব ফেসবুক পোস্টে এড. সাখাওয়াত ও এড. টিপু গ্রুপকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন, তারা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পায়তারায় রয়েছে। তা ছাড়া অযোগ্য লোককে নারী ও শিশু পিপির চেয়ারে বসাতে মরিয়া।


