নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে। এই উত্তেজনা যেন কোন ভাবে থামছে না। এবার নারায়ণগঞ্জ আদালশপাড়ার ঘটনা বিএনপির হাই কমান্ড পর্যন্ত যাচ্ছে। সম্প্রতি আদালত পাড়ায় নারায়ণগঞ্জ কোর্ট আলাদা কড়া নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে সদর থানা বিএনপির সেক্রেটারি পদস্থগিত করেছে মহানগর বিএনপি। একই সাথে নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এড. শেখ আঞ্জুম রিফাতের পদও স্থগিত করা হয়।
এরআগে ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ুন কবির এর কক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের প্রবেশ করলে আনোয়ার প্রধান, পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়ন, শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত সহ আরো ৫ থেকে ৬ জন গালাগাল সহ হেনস্থা করেন। এমন অভিযোগে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু শোকজের চিঠি পাঠান। সেই চিঠির জবাবও তারা দিয়েছেন।
তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এইচ এম আনোয়ার প্রধানের দাবী ঘটনাটি মহানগর বিএনপির সাথে কোন সম্পর্ক নয়। আইনজীবি সমিতির ঘটনা দলীয় সংগঠনের গঠনতন্ত্রে যায় না। এটা আমাদের উপর অন্যায় করা হয়েছে।
গত ৩ তিন মাসের ব্যবধানে আইনজীবি সমিতিতে পাল্টাপাল্টি শোকজ করা হয়েছে। আবার তার জবাবও দিয়েছে উভয়পক্ষ। সম্প্রতি আদালতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৬ সনের গত ২৩ মে নারী আইনজীবির সাথে অশ্লীল বাক্য বিনিময় ও অশোভনীয় আচরণ করায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে শোকজ করা হয়। বার সেক্রেটারির দাবী সেই শোকজের প্রতিহিংসার ক্ষোভে আইন না জেনে দলের গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে শোকজ করেছে। যা কোন ভাবে করতে পারে না।
গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান ও নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম রিফাতের পদস্থগিত করে নোটিশ জারি করে মহানগর বিএনপি। কারন হিসেবে উল্লেখ্য করা হয় শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক ও মিথ্যা বেসাতিতে পরিপুর্ন বিধায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে পদ স্থগিত করা হয়।
রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আলোচনা আইনজীবিদের নিজেদের কোন্দলর এখন দলীয় পর্যায়ে রয়েছে। যা নিয়ে আদালত পাড়ার উত্তাপ এখন বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ দলের দুঃসময়ে তারা সকলেই আওয়ামী লীগের পতনে আন্দোলন করেছে। এছাড়া রাজপথে এক সাথে আন্দোলন করেছে। এখন নিজেদের ঐক্য ভুলে কোন্দলে মগ্ন রয়েছে। আর এজন্য সামনে তাদের কঠিন সময় পাড় করতে হতে পাড়ে বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। তাছাড়া এই আইজীবিদের এই উত্তাপ থামাবে কে। যারা অভিভাবকের দায়িত্ব ভুমিকায় রয়েছে তারাই উত্তাপ তৈরী করছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিএনপির এমপিরা নিরব ভুমিকায় রয়েছেন। তাই প্রশ্ন উঠে তাহলে কি সমাধান করার জন্য কেউ নেই।
আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, আমাকে যারা অন্যায় ভাবে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করল,তাদের বিচার বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের কাছে দিলাম,নিশ্চয়ই আমি এই বিষয়ে বিএনপির মাননীয় চেয়ারম্যান বরাবর আপীল করব। তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে না পেরে অন্যের পদ স্থগিত করে কর্তৃত্ব জাহির করা নেতৃত্বের পরিচয় নয়, বরং নেতৃত্বের দেউলিয়াত্বের প্রকাশ। মনে রাখবেন, রাজনীতি কারও ব্যক্তিগত রাজদরবার নয়, আর দলীয় পদও কারও খেয়ালখুশি চরিতার্থ করার হাতিয়ার নয়। অযোগ্যদের হাতে ক্ষমতা গেলে যোগ্যরাই শাস্তি পায়, আর সংগঠন পরিণত হয় প্রহসনের মঞ্চে!”