Logo
Logo
×

বিচিত্র সংবাদ

দর্জির দোকানে কর্মব্যস্ততা কমেছে

Icon

নুরুন নাহার নিরু

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ০২:১৬ পিএম

দর্জির দোকানে কর্মব্যস্ততা কমেছে
Swapno


গত বছর রোজার আগে থেকে ঈদের পোশাক তৈরির জন্য দোকানে লোকজনের ভিড় থাকতো। কারিগরদের খাবার খাওয়ার মতো সময়ও থাকতো না। এক সেকেন্ডের জন্য কেউ হাত শান্তিতে রাখতে পারতো না। কিন্তু এই রমজানে ১২ রোজা পার হয়ে গেছে এখনো তেমনভাবে কোনো কাস্টমারের দেখা নাই।

 

 

তার মধ্যে মাসটা শেষ হতে না হতে দোকান মালিক এসে দাঁড়িয়ে থাকবে দোকান ভাড়ার জন্য আবার কারিগরের বিল কীভাবে দিবো সব কিছু কীভাবে সম্পূন্ন করবো বুঝতে পারছেন না বলে জানান কালিবাজারের টেইলার্সের দোকানদার।

 


মঙ্গলবার থেকে গত দু’দিন  নগরীর কালীবাজার এবং আশেপাশে এলাকার টেইলার্সের দোকানগুলো ঘুরে একই চিত্র দেখা যায়। কাজের চাপ তাদের তাদের আছে তবে ঈদে যেমন কাজের চাপ থাকার কথা তেমনটা নেই। কালীবাজারে তৃতীয় তলাটা শুধু মাত্র  টেইলার্সের দোকান ছিল কিন্তু বর্তমানে মাত্র কয়েকটি দোকান রয়েছে। বেশির ভাগই এখন ওড়না এবং অন্যাণ্য দোকান দিয়েছেন আবার অনেকেই দোকানের ভাড়া মিটাতে না পেরে ছোট দোকান নিয়েছে।

 


সায়াম প্লাজায় বেশ দিন যাবৎ টেইলার্সের দোকান চালান রিপন নামের এক ব্যাক্তি তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবারে কাজ কম। দুইজন মাস্টার আমার দোকানে। একজন বাহিরে বসে আছে এবং আমি কাজ নেই তাই দোকানে বসে ফোন চালাচ্ছি। আজকে (মঙ্গলবার) সারাদিনে কোনো কাজের অর্ডার পাই নাই। আগের তুলনায় গ্রাহকের সংখ্যা কম বলে জানালেন।

 


কালিবাজারের নূর আলম টেইলার্সে নাছির উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে গত দু’বছর তো কোনো লাভ হয়নি। জানিনা সামনে কি হয় কারন সব দিকেই তো মন্দা। কেউ এখনো বেতন পায় নাই তাই মার্কেটের ও তেমন ক্রেতা নেই যার কারণে আমাদেরও তেমন কোনো কাজের চাপ নেই। মানুষের ব্যয় বাড়ছে কিন্তু আয়ের সংখ্যা বাড়ছে না।

 

 

তাই সবাই এখন বুঝেশুনে খরচ করছে। এছাড়া সবাই এখন চিন্তা করে যে টাকা দিয়ে কাপড় কিনবো আবার টেইলার্সে বানাতে দিবো, কত খরচ। তাই এখন অধিকাংশ মানুষ একেবারে সেলাই করা জামা কিনছে।

 


পূজা পাবর্নে মানুষ আগে বেশির ভাগই বানানো জামার উপর আকর্ষণ বেশি ছিলো। কার বানানো  কাপড়ে নিজের ইচ্ছে মতো ডিজাইন দিয়ে পোশাক তৈরি করা যেতো। কবিতা কিছুদিন আগে গজ কাপড় কিনেছে । কিন্তু বানাতে গিয়ে দেখে মজুরি অনেক বেশি। তাই সে আর বানাতে দেইনি । ঈদের জন্য রেডি করা জামা কিনে নিয়ে গেছেন।

 


নগরীর বিভিন্ন টেইলার্স ঘুরে দেখা যায়, মজুরি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার উপরেও নিচ্ছেন তারা। জামার ডিজাইনের ধরনভেদে আবার এর চেয়ে বেশি টাকাও মজুরি নিচ্ছেন। আবার অনেকে থ্রি পিস ছাড়াও ফ্রক, গাউন, কাপতারও বানাচ্ছেন।

 

তবে  টেইলার্সের দোকানগুলোতে সুতি কাপরের জামা বেশি লক্ষ করা যায়। কারন হিসেবে দোকানদার বলেন, এখন যে পরিমানের গরম পরেছে তাই মানুষ আরামদায়ক পোশাকই বেশি পছন্দ করেন।

 


ঈদের  কিংবা ধর্মীয় উৎসব ছাড়াও অনেকে বৈশাখেও শখ করে লাল সাদা পোশাক বানান। ঈদের কিছুদিন পরই পড়েছে বৈশাখ কিন্তু সেই পোশাক তৈরির কোনো ভিড় নেই বললেই চলে।  এন.হুসেইন/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন