শীতলক্ষ্যায় ভেসে উঠল নিখোঁজ কিশোরের লাশ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৩, ০৮:৫২ পিএম
গতকাল ৪ জুন ভোরে শীতলক্ষা নদীর নবীগঞ্জ গুদারাঘাটে ১১ বছরের কিশোর ইমতিয়াজ হোসেনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইমতিয়াজ ফতুল্লা থানার পশ্চিম তল্লা এলাকার ব্লক ডি মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। গত ৩ জুন শনিবার সকাল দশটার দিকে আইস-ক্রীম খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইমতিয়াজ।
নিহত কিশোরের বাবা বলেন, সকাল দশটায় বের হয়ে আমার ছেলে ভাই ভাই বাজারে গিয়ে গোল্লা আইস-ক্রীম খায় আরো ১০ টাকা চেয়ে নিয়ে আইস-ক্রীম খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ঘরে ফিরেনি। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলে আমরা সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করি। নারায়ণগঞ্জের যেসকল জায়গায় আমার ছেলে যেতে পারে সেসকল জায়গায় খোজাখুজি করি।
রাত ১০টায় আমি আর আমার ভাগিনা আরিফ মিলে গুদারাঘাটের দিকে যাই কারণ আমার ছেলে ওইখানে প্রায়ই যেত। কিন্তু সেখানেও পাইনি। ভোর পাঁচটার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে আবারো ওইদিকে যাই চুনা-ফ্যাক্টরি, এম-সার্কেসের নদীর পাড়ে খুঁজতে থাকি। নৌকা দিয়েও খুঁজি। পরে আমার ভাগিনা আসিফ আমাকে বলে মসজিদে মাইকিং করতে।
পথিমধ্যে খবর পাই গুদারাঘাট ফেরির পাশে লাশ ভেসে উঠেছে। নোকার মাঝি এবং আমার ভাগিনার বন্ধুরা প্রথম দেখে লাশটিকে। পরে পুলিশ কেস দেখে কেউ লাশটিকে না ধরার পরামর্শ দেয় । নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশ, সদর থানা, ফতুল্লা থানা, ফায়ার-সার্ভিস, ৯৯৯ ফোন দেই কিন্তু কেউ আসেনি। এরমধ্যে স্রোতে লাশ ফেরির নিচে চলে যায়।
অনেকক্ষণ পর কিছুটা দূরে আবারো মৃতদেহটি ভেসে ওঠে। পরে আমার ছোট ভাই নদীতে ঝাঁপ দিয়ে গিয়ে লাশটি পানি থেকে মাটিতে উঠাইছে। পরে আমরা শনাক্ত করি এই মৃতদেহ আমার ছেলের। এরপর আমরা আমাদের বাসায় নিয়ে আসি। এর ঠিক দেড় ঘন্টা পড়ে নৌ-পুলিশ বাসায় আসে। তারা জিজ্ঞেস করে কাউকে সন্দেহ করি কিনা এবং অভিযোগ করতে চাই কিনা । আমি কাউকেই সন্দেহ করি না বলে জানিয়ে দেই। পরে তারা চলে যায়।
থানায় কেন যাননি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, থানায় যাইনি কারণ এর আগেও ও দেরী করে বাসায় ফিরেছে। হয়তো এবারও ফিরে আসবে আমার ছেলে কিন্তু আসেনি।আমার ছেলে অনেক দুস্ট ছিলো। মাদ্রাসায় পড়তে দিছিলাম চলে আসছে। শাসন করেও আর পাঠাতে পারি নাই।
বিবি মরিয়ম স্কুলে পড়বে বলছে তাই ভর্তি করিয়ে দেই। আমার ছেলে শুধু বলত ওর শুধু বাইরে ঘুরতে ভাল লাগে। প্রতিদিন চলে আসতো কিন্তু গতকাল বের হয়ে আর জীবিত বাড়ি ফিরেনি আমার একমাত্র ছেলেটা। এন.হুসেইন রনী /জেসি


