হাট বানচালের পায়তারার অভিযোগে তিন জনপ্রতিনিধিকে সতর্ক করলেন ডিসি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৩, ০২:৩৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন গোগনগর ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকার কয়লারঘাট গরুর হাট এর টেন্ডার না পাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে সেই হাট বানচালের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় গতকাল রোববার অভিযুক্ত তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে এই তিন জনপ্রতিনিধি এঘটনায় যুক্ত থাকায় তাদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে সতর্ক করে দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। অভিযুক্তরা হলেন গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য ইকবাল প্রধান, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. বিপ্লব হোসেন এবং ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম।
জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ হাটের ইজারাদারকে হাট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন এবং আইন অমান্য করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। একই সাথে অভিযোগের বিষয়টি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাত ফেরদৌস দেখার দায়িত্ব প্রদান করেন।
এই বিষয়ে হাটের ইজারাদার মো. বাবু সাংবাদিকদের জানান, সৈয়দপুর কয়লারঘাট বালুর মাঠ আলী আকবর সাহেবের নিজস্ব জায়গায় অবস্থিত হাটটির টেন্ডার পাই। হাটের ইজারায় ভ্যাট, টেক্সসহ ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। গত কয়েকদিন যাবত হাটের জন্য আমি সকল প্রস্তুতি নিচ্ছি কিন্তু গতকাল থেকে আমাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছে।
যেভাবে পারছে হাটের বৈদ্যুতিক তার কেটে দিচ্ছে, বাতি ভাংচুর করছে। আজ দুপুরে আমি উপজেলায় ওয়ার্ক অর্ডার নিতে যাওয়ার সময় শহরের দুই নং রেলগেট আসলে খবর পাই চেয়ারম্যানের বিচ্ছু বাহিনীসহ তিনজন মেম্বার বাপ্পি মেম্বার, হাবু মেম্বার ও জাহাঙ্গীর মেম্বারসহ বিচ্ছু বাহিনীর লুৎফর, গুল্লি জাকির, বিল্লাল, আনসারসহ অনেকেই সিসিটিভি, মনিটর, হার্ডডিক্স জোর করে নিয়ে যায়।
আমাদের এই হাটটা তো অনেকেই শেয়ারে নিয়েছি, আমাদের শেয়ারের টাকা আমার ব্যাগসহ নিয়ে যায়। আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌছাই এবং ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করি। পুলিশ আসার সাথে সাথে ওরা পালিয়ে গেছে। এই ঘটনায় আমি নারায়াণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেছি। এই ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আমি প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চেয়েছি, কারন আমি অনেক কষ্ট করে টাকা দিয়ে এই হাট নিয়েছি। সবাই আমাকে ভরসা করে হাট করতে বলেছে। প্রায় ৪০-৫০ জন আমরা মিলে এই হাট করতাছি। আমাদের শেয়ারের অনেক টাকা তারা আমার এই ব্যাগে জমা ছিলো তারা নিয়ে গেছে।
আমি জেলো প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিছি তিনি সবাইকে ডেকে আমার হাটে কেউ যেন সমস্যার সৃষ্টি না করে এবং এমন কিছু যাতে না করে যার জন্য তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসতে হয় বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। আমাকে বলেছেন আইন মেনে হাট পরিচালনা করতে।
এর আগে সকালে সদর মডেল থানায় আনছার আলী (৩৫), পিতা-হাজী আব্দুল কাদির, লুতফর রহমান (৪৭), পিতা-মৃত হাজী মুল্লুক চাঁন সরদার, বিল্লাল (৩৩), পিতা-মৃত সামাদ মিয়া, কাশেম (৫২), পিতা মোহাম্মদ আলী পোকা, সোয়াদ (১৮), পিতা লুৎফর রহমান, শ্যামল (২৭), পিতা-মন্দির, সেলিম (২৬), পিতা- ওহাব আলী।
এবং মোশারফ (৪২) পিতা- মৃত মোস্তফা, নয়ন (২৩), পিতা-মৃত ওহাব আলীর (তাদের সকলের আবাস সৈয়দপুরে) বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। গরুর হাট ভাংচুর ও হুমকি প্রদান ও ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করায় এই অভিযোগ করা হজয় বলে জানা গেছে।
এছাড়াও চেয়ারম্যান ফজর আলী হাটের ইজারা না পাওয়ায় তার নির্দেশে এ কর্মকান্ড ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর গত ২৪ জুন হাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও গরুর পাইকারিদের হুমকিসহ বিদ্যুৎ এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন, স্টেজ ভাংচুর করে তারা। এন.হুসেইন রনী /জেসি


