শৈশব থেকেই প্রতিবাদী ছিলেন এড. মাসুম
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩, ০৪:২৬ পিএম
মাহবুবুর রহমান মাসুম। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে প্রতিবাদী এক নাম। একাধারে বরেণ্য আইনজীবী, রাজনীতিক ও সমাজহিতৈষী। শৈশব থেকেই যার মেধা-মননে জায়গা করে নিয়েছে প্রতিবাদের ভাষা। যেখানে অন্যায় দেখেছেন সেখানেই কণ্ঠ ছেড়েছেন ন্যায়ের পক্ষে।
নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে নিপীড়িত, নিষ্পেষিত মানুষের অধিকার আদায়ে লড়েছেন। প্রতিবাদী এই মানুষটির গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ৬৬ তম জন্মদিন।
১৯৫৮ সালের আজকের এই দিনটিতে (২১ জুলাই) নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মামুদনগরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আবু বক্কর সিদ্দিক ও নূর জাহান সিদ্দিক দম্পতির কোলজুড়ে আসে তিনি। ৯ ভাই বোনের মধ্যে মাহবুবুর রহমান মাসুম ছিলেন ৬ষ্ঠ। বাবার চাল ও গম ব্যবসা ছিল।
সেই ব্যবসার সুবাদে পরিবারের সাথে ৩ বছর বয়স থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরে বসবাস। খাল-বিল থেকে শিল্প অধ্যুশিত একটি জেলায় পরিনত হতে দেখেছেন এই নগরীকে। নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রেখেছেন ভূমিকা, দেখেছেন স্ব-চোখে। মায়ের পছন্দে পারিবারিক ভাবে বিয়ে করেছেন তিনি। বর্তমানে এক ছেলে ও ২ মেয়ের জনক তিনি।
শিক্ষা জীবন
শহরের পাইকপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ছিল মাহবুবুর রহমান মাসুমের পড়া-লেখার হাতেখড়ি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন সেখানে। এরপর ভর্তি হন পাইকপাড়ার জয়গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে সম্পন্ন করেন ম্যাট্রিক (এসএসসি)।
উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি সনদ লাভ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টাস করেছেন। নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজ থেকে আইনবিদ্যায় স্নাতক (এলএলবি) পাশ করে ১৯৮৭ সালে যোগদেন আইন পেশায়।
মাহবুবুর রহমানের সামাজিক কর্মকান্ড
স্কুল জীবন থেকেই স্কাউটের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। বেড়ে উঠার সাথে সাথে বেড়েছে তাঁর সামাজিক কাজের পরিধি, ১৯৮৬ সাল দায়িত্ব পালন করেছে স্থানীয় স্কাউটের সম্পাদক হিসেবে, ছিলেন ঢাকা বিভাগের ডিআরসি হিসাবেও। এছাড়া নিতাইগঞ্জ ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী পরিষদের সদস্য, আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মানবাধিকার কমিশনের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সমাজের অবহেলিত মানুষের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য তৈরি করেছিলেন গণবিদ্যা নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭টি শাখা।
সাংবাদিকতায় মাহবুবুর রহমান
সত্তর এর দশকে ‘বঙ্গবাসী’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার মাধ্যমে লেখা-লেখি শুরু হয় তাঁর। এরপর আশির দশকের শুরু থেকে কাজ করেছেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা, দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোর; এর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে। ১৯৯২ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য প্রকাশনা শুরু করেন সাপ্তাহিক খবরের পাতা পত্রিকা। যা পরবর্তীতে দৈনিককে রূপান্তিত হয়েছে। সাংবাদিকতার সুবাদে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও।
২০০২ সালে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি। এরপর ২০১৬-১৮, ২০১৮-২০ মেয়াদে আরও ২ বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও ২ বার কার্যনির্বাহী সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। করেছেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, থামিয়েছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার গাড়ি।
মানবিকতাবোধ, প্রাণশক্তি, বিচক্ষণতা, সাংগঠনিক ক্ষমতা আর নেতৃত্বের গুণাবলী; এই সবই ছোট বেলা থেকে ছিল মাহবুবুর রহমান মাসুমের মধ্যে। ফলে স্কুল জীবন থেকেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। কলেজে পড়ালেখা কালিন সময়ে করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সমর্থিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
দায়িত্ব পান জেলার সাধারণ সম্পাদকের। এরপর জাসদের নেতৃত্বেও ছিলেন কিছু দিন। সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচন করেছিলেন তিনি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় ২০০৩ সালে চেয়ারম্যান পদে সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ছিলেন তিনি। তোলারাম কলেজ সরকারি করণের দাবিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ি বহর আটকে দিয়েছিলেন।
এছাড়া এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা করণের আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতা হারানোর পর কিছু দিন করেছেন জাতীয়পার্টির রাজনীতিও। বর্তমানে ত্বকী মঞ্চের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী তিনি। এন.হুসেইন রনী /জেসি


