কুতুবপুরে নিহত ইব্রাহিমের জীবনের মূল্য দিলো আড়াই লাখ টাকা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৩, ০৮:০৩ পিএম
# বিল্ডিয়ে সেফটি না থাকায় ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয় শ্রমিকের
# কন্ট্রাক্টর আরমান দোষারোপ করলেন বাড়ির মালিককে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরে মধ্য রসুলপুর এলাকার লন্ডন প্রবাসী মনিরের সেফটি বিহীন বিল্ডিয়ের কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকদিন আগে ইব্রাহিম নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী মনিরের বাসা থেকে এর আগেও বেশ কয়েকবার শ্রমিকরা কাজ করতে গিয়ে আহত হয়েছিলো।
তবে সতর্ক হয়নি বাড়ির মালিক ও এই বাড়ির যে কাজের কন্ট্রাক্ট নিয়েছে সেই আরমান। এলাকার মানুষ তাদেরকে বার বার বলা সত্বেও তারা কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে কাজ চালিয়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মধ্যে রসুলপুর নোভা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে মনির হোসেন (লন্ডনী) বাড়ির কাজ করার সময় ৫ তলার ছাদ থেকে পড়ে আহত ৩, নিহত ১ ফ্যাক্ট কোন সেফটি ছিল না।
ইতি পুর্বেও এই বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তার পরেও কোন সাবধানতা অবলম্বন না করেই চালানো হচ্ছিল কাজ, অবৈধভাবে কোন রকম রাজুকের অনুমোদন ছাড়াই সেফটি বিহীন কাজ করার কারণেই বারবার ঘটছে এ ধরনের দুর্ঘটনা। আহত ইব্রাহিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় নীচ থেকে রড উঠানোর সময় বিদ্যুতের তারের সাথে লেগে যাওয়ার শর্ট খেয়ে ইব্রাহিম নিচে পড়ে যায় আরো দুইজন উপরে রাখা কাঠের সাথে বারি খেয়ে আহত হয়।
সেই সময় আহত লেবার জানান আমি আমার কন্টাকটার কে এই দিক দিয়ে রড উঠাতে নিষেধ করার সত্ত্বেও তিনি আমার কথা অমান্য করে জোরপূর্বক আমাদেরকে দিয়ে এদিক দিয়ে রড উঠাতে বাধ্য করেন ছয় থেকে সাতটি রড উঠানোর পরেই ঘটে এই ঘটনা। ইতিপূর্বে ও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান স্থানীযরা।
কন্টাকটার আরমান জোর পূর্বক লেবারদের দিয়ে রড উঠানোর কারণেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে।তখন এই বিষয়ে কথা বলার জন্য কন্টাকটার ও বাড়ির মালিক কাউকেই পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আজম বলেন ধন্যবাদ বিষয়টি জানানোর জন্য তবে মেডিকেল থেকে বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হবে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া নিব।
তবে এক রাতেই পাল্টে যায় চিত্র ইব্রাহিমের পরিবারের সাথে বিল্ডিং এর মালিকের পরিবার ও কন্ট্রাকটার আরমান একটি ডিলের আওতায় আসে সেই ইব্রাহিমের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা দিবে।
প্রথমে ইব্রাহিমের লাশের সাথে পঞ্চাশ হাজার এবং তার তিন দিন পর আরও ২ লক্ষ টাকা দিয়ে কোন রকম আইনি যামেলা ছাড়াই গোপনে তারা সমাধান করে ফেলে। তবে এতো বড় দূর্ঘটনার পড়েও কি করে রেহাই পায় এই বাড়ির মালিক ও কন্ট্রাক্টর এটাই প্রশ্ন রেখেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে লন্ডনী মনিরের বাড়ির কন্ট্রাক্টর আরমান জানান, নিহত ইব্রাহিমের পরিবারের সাথে আপোষ করা হয়েছে শুনেছি আমি সাথে একজন সাংবাদিক ও ছিলো। সেফটির ব্যাপারে আমি বাড়ির মালিককে বার বার অবগত করলেও কোন রকম ব্যবস্থা নেয়নি এর আগেও এই বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছিলো তবে সেদিন তবে তখন আহত হলেও এবার মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনায় এলাকায়ও ব্যাপক ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করেছিলো এমন ঘটনায় মালিক ও কন্ট্রাক্টর বিচারের আওতায় আনা হবে তবে এমনটা না হওয়াতে হতাশ অনেকেই। আবার অনেকেই বলেছেন শাস্তি না হওয়ায় বাড়তে পারে এরকম ঘটনা। এন.হুসেইন রনী /জেসি


