শতাধিক রোগীর চিকিৎসায় একজন ডাক্তার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৪১ পিএম
জনবল সংকটের কারণে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ডাক্তার দেখাতে এসে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের। নিয়ম করে প্রতিদিন এখানে প্রায় অর্ধশতের বেশি গর্ভবতী নারীরা সেবা নিতে আসে। কিন্তু সেবার চেয়ে ভোগান্তি নিয়ে ফিরতে হয় বলে অভিযোগ করেন রোগীরা। জানা যায়, নিয়মিত হাসপাতালটিতে প্রায় শতাধিকের মতো রোগী ডাক্তার দেখাতে আসেন।
তার মধ্যে রয়েছে অধিকাংশ প্রসূতি রোগী। ডাক্তার দেখানোর জন্য প্রতিটি গর্ভবতী রোগী এবং তাদের অভিভাবকদের প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টারও বেশি সময় ডাক্তারের অপেক্ষায় থাকতে হয়। অভিযোগ রয়েছে সকাল ৯টা থেকে রোগীদের ভিড় থাকলেও ডাক্তারের দেখা মিলে সাড়ে ১০ টার পর।
হাসপাতালে আগত গর্ভবতী রোকেয়া বেগম বলেন, এই হাসপাতালে বিনা টাকাতে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে আমরা গরীবরা এখানে আসি। সকাল ৯ বাজে এসেছি এখন বাজে ১২টা কিন্তু এখনও ডাক্তার দেখাতে পারি নাই। এখানে ডাক্তার শুধু মাত্র একজন। দেখা যায় ওটি কিংবা বিভিন্ন কাজের কারণে ডাক্তার আপা ব্যস্ত থাকেন সে সময় তিনি আসা পযন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হয়।
ভুক্তভোগী খাদিজা নামে আরেক ব্যাক্তি বলেন, সকাল বেলা ডাক্তার দেখাতে আসলে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত লাগে। সকাল ১০টা থেকে রক্তের রিপোর্ট দেখাবো বলে বসে ছিলাম। বাজে ১২ টা এখন বলতেছে ডাক্তার নাকি ওটি তে যাবে। তাহলে এতো ক্ষণ বসিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। আমরা গরীব মানুষ এখানে সেবা পেতে আসি ভোগান্তি না।
অনেকবারই আমার এখানে আসা হয়েছে যখনই এখানে ডাক্তার দেখাতে আসি এমন কোনো দিন নাই যে ডাক্তারের জন্য দেড়-দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে না হয়।
এ বিষয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ফাতেমা শিরীন বলেন, আমাদের হাসপাতালের সরকারি ভাবে ১ জন ডাক্তারই বরাদ্ধ রয়েছে। আমি যখন ওটি কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকি তখন আমাদের এখানে অন্যান্য যারা নার্স রয়েছে তারা প্রাথমিকভাবে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকে। কেননা এখানে যেসব নার্স রয়েছে তারা সবাই এই বিষয়ে ট্রেনিংপ্রাপ্ত।
এ বিষয়ে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় এর ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক স্বপণ কুমার শর্মা বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের বর্তমানে বলতে গেলে দুই জন ডাক্তার রয়েছে। আজকে আমি ফয়সাল নামে একজনকে সেখানে ফুলটাইমের জন্য দিয়ে দিয়েছি। তবে দেখা যায় সদর উপজেলায় যখন কোনো কাযক্রম থাকে শুধু সেসময় সে বাহিরে থাকে। এছাড়া যখন একজন ইমার্জেন্সি ডেলিভারীর রোগী আসে তখন তো দুজনকেই ওটিতে থাকতে হয় সেক্ষেত্রে হয়তো রোগীদের একটু অপেক্ষা করতে হয়।


