আসন্ন শীতে লেপ-তোষকের দোকানে ক্রেতার আকাল
নুরুন্নাহার নিরু
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৩:১৯ পিএম
শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ার সাথে মোকাবেলা করতে অনেকেই প্রস্ততি হিসেবে রাখেন লেপ-তোষক। আবার কেউ কেউ পুরানো গুলোকেই পুনঃমেরামত ও করে থাকেন। এক সময় ধনুকরদের (লেপ-তোষক কারিগর) দিয়ে লেপ-তোষক তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো ছিলো। কিন্তু বর্তমান বাজারে আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে সৌন্দর্য বর্ধণে মানুষ এখন লেপ-তোষকের বদলে পছন্দের তালিকায় রাখছে বিভিন্ন রকমের কম্বল বা কমফোর্ট।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েকদিন পর থেকে বেশিরভাগ রাতের বেলা শীত অনুভব হবে। তারপরেও লেপ তৈরির জন্য খদ্দের তেমন একটা আসছে না। তাই কারিগরদের তেমন একটা ব্যস্ততা নেই। এছাড়া বাজারে এখন শীত নিবারনে লেপের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে অনেকেই কম্বল ব্যবহার করেন। যার কারনে শীতকালে আগের মতো লেপের এখন তেমন একটা চাহিদা নেই। নারায়ণগঞ্জের পাইকারি কালিবাজারের লেপ-তোষকের কয়েকটি দোকান ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
জানা যায়, কার্পাস তুলা প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। গার্মেন্টস তুলা প্রতি কেজি ৭০ থেকে ১০০ টাকা। লেপের কাভার তৈরির কাপড়ের প্রতি গজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সব মিলিয়ে এখন একটি লেপ তৈরি করতে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়া ভালো মানের তুলা দিয়ে লেপ বানাতে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা খরচ রয়েছে।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, গত বারের তুলনায় এবার একেবারেই বেচাকিনা ও কাজ কম আছে। নভেম্বরের মাস শেষ হতে আর মাত্র সপ্তাখানেক বাকি কিছুদিন পর থেকেই পুরোপুরি শীত পরবে কিন্তু এখনও পযন্ত আমাদের কাজ নেই। আজকে সারাদিনে সাইদও করতে পারি নাই। দোকানের কারিগর হলো ২জন। কাজ নেই বলে তারা ঘুরে বেড়াইতাছে।
এ কয় দিনে মাত্র ৩-৪ টা লেপ বানানোর অর্ডার পেয়েছি। মানুষ এখন ব্যবসা করবে কি। ব্যবসা করেও এখন লাভ হয় না। গত সপ্তাহে বিক্রি হবে ভেবে দোকানে মাল উঠাইলাম। কিন্তু এখন দেখি বিক্রিই নাই।
অপর ব্যাক্তি নাজিম বলেন, শহর অঞ্চলগুলোতে এখন তেমন একটা শীত অনুভব হয় না। গত বছরও তেমন এটা কাজ ভালো হয় নাই। এবছরও মনে হয় না কাজ ভালো হবে। কেননা এখন আধুনিকতার যুগ। সবাই সৌন্দর্যের জন্য কম্বল পছন্দ করে। কম্বলের দিকে ঝুকছে বেশি। তাই লেপ এখন কমই কিনে মানুষ। সেই সাখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াটা অন্যতম কারণ।


