‘আমি এবং ডামি’ নির্বাচন বর্জনের আহবান বাম জোটের
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৪৫ পিএম
৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন' উল্লেখ করে তা বর্জনের আহবান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জে লিফলেট বিতরণ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রেসক্লাব, গলাচিপা, উকিলপাড়া, ২ নং রেল গেইটে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এসময় লিফলেট বিতরণে উপস্থিত ছিলেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবত্তী. বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাসদ নেতা সেলিম মাহমুদ, প্রদীপ সরকার, সিপিবির জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিমল কান্তি দাস, ইকবাল হোসেনসহ জেলার অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪ সালে বিনাভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং ২০১৮ সালে নিশি ভোটে ক্ষমতা দখল করেছে। এবার আমি এবং ‘ডামি’ নির্বাচন করে পুনরায় ক্ষমতা দখলে পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় না। ফলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল।
গণদাবি উপেক্ষা করে সরকার তার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দিয়ে একতরফা নির্বাচনী তামাশা আয়োজন করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা করেছে। এই নির্বাচন যে নির্লজ্জ প্রহসন তা ভোটের প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া দেখলেই দিনের আলোর মত পরিষ্কার হয়ে যায়। একদিকে আওয়ামী নৌকার প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী, ১৪ দলের উচ্ছিষ্ট ভোগী শরীকদের প্রার্থী, সুবিধাভোগী জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের প্রার্থী সবাইকেই গণভবন থেকে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আওয়ামীলীগ যে বর্তমানে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী, ব্যাংক ডাকাত, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচারকারীদের পাহাড়াদার দল এবং পার্লামেন্ট কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করেছে তা মন্ত্রী এমপিদের এবং সরকার দলীয় প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া সম্পদ বৃদ্ধির বিবরণী দেখলেই পরিষ্কার বুঝা যায়। তাছাড়াও এবারে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ কোটিপতি রয়েছে।
পাতানো নির্বাচনের সংসদে এই কোটিপতি প্রার্থীরা যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, লুটপাটকারী, পাচারকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এখানে দেশের সংখ্যা গরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের সংকট নিরসন সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। আগামী ৭ জানুয়ারি যে ইলেকশন না হয়ে সিলেকশন হচ্ছে তা দেশবাসী ইতিমধ্যে বুঝে গিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একতরফা নির্বাচন করতে গিয়ে সরকার দেশকে এক ভয়ংকর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এই নির্বাচন বন্ধ করে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন অন্যথায় দেশ এক ভয়ানক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে নিপতিত হবে। নেতৃবৃন্দ আগামী ৭ জানুয়ারির 'একতরফা প্রহসনের নির্বাচন' বর্জন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।


