নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়
আবদুস সালাম
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৪ সালের ৪০০ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৬০০ টাকা আদায়ের জন্য কতৃর্পক্ষ নোটিশ প্রদান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অভিভাবকরা। তারা স্কুল ম্যানেজমেন্টের এধরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রতিবাদ জানালে প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়া জানান, ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের কোচিং বাবদ ৩০০০ টাকা এবং এখন মডেল টেষ্টের জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এখাতে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫লক্ষ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে একাধিক অভিভাবক জানান, গত অক্টোবর মাসে তিন মাসের বেতন সহ এসএসসি’র ফর্ম পূরণ করা হয়। ঐ সময় অক্টোবর মাসের ১০০০টাকা কোচিং বাবদ আদায় করা হয় কিন্তু অক্টোবর মাসে সাধারণ বা নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। কোনো অতিরিক্ত ক্লাস করা হয়নি। নভেম্বর মাসেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত মাসের বেতন দেয়া হয়। একই নিয়মে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেয়ার কথা।
সে অনুযায়ী ফর্ম ফিলাপের সময় ৩মাসের বেতন ও ১মাসের কোচিং ফি নেয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরনের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের বেতন সহ ফরম পুরন করা হয়েছে। তারপর এখন কোচিং ও মডেল টেস্ট বাবদ ৩৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে যা অভিভাবকদের বহন করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, নভেম্বর মাসে নিয়মিত ক্লাস ছিল কোন কোচিং করা হয়নি।
একই ভাবে ডিসেম্বর মাসেও কোন কোচিং করা হয়নি এবং জানুয়ারি মাসে নির্বাচনের অজুহাতে কোন কোচিং ক্লাস হয়নি।অথচ কোচিং বাবদ প্রতিমাসে একহাজার টাকা করে আদায়ের জন্য নোটিশ দেয়া হচ্ছে। তারা জানান মডেল পরীক্ষার নামে অক্টোবর মাসে ৬০০ টাকা নেয়া হয়েছে। এখন আবার ৬০০টাকা মডেল টেস্টের নামে নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে অভিভাবকরা বার বার প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করলে তিনি তার কক্ষে কোনো অভিভাবককে ঢুকতে দেয়া বন্ধ করে রেখেছেন। অভিভাবকরা এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক ও জাতীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানান সরকারি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী কোন স্কুলে কোচিং ক্লাস করা যাবে না। সেখানে কোন স্কুলে যদি কোচিং ক্লাস করে এবং অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সেটা যদি আমাদের নজরে আসলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভুঁইয়া জানান গভর্নিং বডির সভাপতি চন্দন শীলের অনুমোদন নিয়ে কোচিং ক্লাস শুরু করা হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি বাবদ নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, কোচিং করা যাবে না এটা বোর্ডের নির্দেশনা আছে কিন্তু আমরা কোচিং করাচ্ছি ভালো রেজাল্টের জন্য।
তিনি এ ব্যাপারে গভর্নিং বডির সভাপতির সাথে কথা বলার জন্য বলেন। গভর্নিং বডির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীলের সাথে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। গভর্নিং বডির সদস্য আবদুস সালাম জানান এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোন কিছু অবহিত না করেই নিজ দায়িত্বে কোচিং চালু করে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে।
তিনি জানান এ ব্যাপারে অভিভাবকরা কোচিং এর অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন কিন্তু আমাদের কিছু করনীয় নাই। প্রধান শিক্ষক নিজ দায়িত্বে কোচিং করছেন। তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন।


