না.গঞ্জের অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ হচ্ছে কবে ?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:২৩ পিএম
সারাদেশেই সকল ধরনের অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য্য মন্ত্রী ডা. হেমন্ত লাল সেন। ১৬ জানুয়ারী ( মঙ্গলবার) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে একথা বলেন তিনি। আর এই নির্দেশনা না মানলে কঠোর ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। তাই খুব শিঘ্রই হয়তো অভিযান শুরু হতে পারে বিভিন্ন জেলায় অবৈধের তালিকায় থাকা ক্লিনিক ডায়গনষ্টিক সেন্টার গুলোর বিরুদ্ধে।
জানা যায়, সারাদেশেই প্রায় কয়েক হাজার অবৈধ ক্লিনিক – ডায়গনষ্টিক সেন্টার রয়েছে। যা কোন ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই চলছে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই চলে এই সকল অবৈধ হাসপাতালগুলো। সারাবছরই এই সকল অবৈধ হাসপাতাল গুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় কিন্ত লোক দেখানো অভিযান চালানো হয় ।
তবে অভিযান হলেও স্থায়ী ভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করার কারনে আবারো পূনরায় দেখা যায় সেই সকল অবৈধ ক্লিনিক আবারো চালু করে।
সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও অবৈধ ক্লিনিক ডায়গনষ্টিক সেন্টারের অভাব নেই। বিভিন্ন সময় এই সকল অবৈধ ক্লিনিকের চিকিৎসা নিতে যাওয়া ভূক্তভোগী তাদের কাছ থেকে হয়রানি ও বাড়তি বিল দিতেও বাধ্য হয়। শুধু তাই নয় এই সকল ক্লিনিকে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভূল চিকিৎসায় অনেক রোগী মুত্যু বরন করে।
নারায়ণগঞ্জের মধ্যে প্রায় কয়েকশত অবৈধ ক্লিনিক আছে যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরেই প্রায় অর্ধশতাধিক। আর এই সকল অবৈধ সকল ক্লিনিকের তালিকাও অনেক সময় করা হয়না। নারায়ণগঞ্জেই এ রকম অনেক ক্লিনিক আছে যাদের কোন ধরনের অবৈধের তালিকার মধ্যেও নেই কিছু অসাধু প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে এ ধরনের অবৈধ হাসপাতাল। নারায়ণগঞ্জের শহর বিভিন্ন থানা এলাকায় পাড়া মহল্লার ভিতরে নামে বেনামে এ সকল ক্লিনিক চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে প্রয়োজন হয় চারটি লাইসেন্স। এগুলো হলো পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ,বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স ,ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স। সারা নারায়ণগঞ্জ জুড়ে ১৫৯ টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে। যার মধ্যে হাসপাতাল ৯৯টি , ডায়গনষ্টিক সেন্টার ৫৬ টি ৪ টি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে এর বাহিরেও প্রায় শতাধিক অবৈধ ক্লিনিক থাকলেও তা বেশিরভাগই প্রকাশ করেনা সিভিল সার্জন।
যার কারনে এই সকল অবৈধ এই সকল ক্লিনিক ডায়গনষ্টিক সেন্টার গুলো ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ,ক্লিনিক ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলো অনলাইন লাইসেন্স গ্রহন কিংবা হালনাগাত নবায়ন ও সঠিক নিয়মে আবেদন ব্যতিত রোগী ভর্তি, বিভিন্ন ধরনের অপারেশন ও পরীক্ষা নিরিক্ষা সহ অবৈধভাবে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অনেকটাই নিরব ভূমিকা পালন করছে। এই সকল ক্লিনিকের মালিকেরা অনেকটা ম্যানেজ করেই তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন এর আগে বেশ কয়েকবার এই সকল অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও তা বেশি দিন আর স্থায়ীত্ব হয়নি। কিছুদিন পর আবাবো চালু হয়ে যায় এই সকল হাসপাতালগুলো।
তবে সাধারন মানুষ ও ভূক্তভোগীরা মনে করছেন এসকল অবৈধ ক্লিনিক ডায়গনষ্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে হলে প্রতিনিয়তই অভিযান করা এবং সকল অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতাল গুলো তালিকা সঠিক ভাবে খোলাসা করা তাহলে সেবা নিতে যাওয়া রোগীরা এই সকল ক্লিনিকে ও হাসপাতাল গুলোতে যাওয়া থেকে বিরত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জের ভিতরেই তালিকাভূক্ত প্রায় অর্ধমতাধিক এ সকল অবৈধ হাসপাতাল রয়েছে। যার মধ্যে ফতুল্লা ,সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদরেই প্রায় ৩০ বাকি গুলো জেলার অন্যান্য থানা গুলোতে। তবে ব্যবস্থা গ্রহন না নেওয়ার কারনে দিন দিন বেড়েই চলছে এই সকল অবৈধ ক্লিনিক হাসপাতের সংখ্যা।


