কারুশিল্প ও একুশে বই মেলার প্রভাব পড়বে বাণিজ্য মেলায়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসর সরকারি ছুটির দিন ছাড়া কিছুতেই জমছে না। এমনিতেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারনে ১লা জানুয়ারির পরিবর্তে ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় বহু ব্যবসায়ীরা স্টল নিয়েও ২য় সপ্তাহের শুরুতে স্টল প্রস্তুত করছেন।
আর স্টল নেয়া ব্যবসায়ীদের হাকডাক যেন শুনছেনই না দর্শনার্থীরা। ফলে এবার ক্রেতা টানতে পারছেন না মেলার ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের দাবী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের লোকজ মেলা আর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া একুশে বই মেলার প্রভাব পড়বে মেলায়।
মেলার ৮ম দিনে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এবার গত ৩ বছরের তুলনায় যাতায়াত ব্যবস্থাসহ মেলার অভ্যন্তরীণ সার্বিক নিরাপত্তা ভালো। তবে সোমবার দুপুরেও বেশ কয়েকটি স্টল নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। আবার বেশ কিছু স্টলের জায়গা খালি পড়ে আছে। ব্যবসায়ীদের দাবী ২১ দিন পর শুরু হওয়ার প্রভাবে ক্রেতা নাই। তবে এবার ক্রেতা সাধারণ পবিত্র ঈদ উল ফিতরের কেনাকাটাকে টার্গেট করেছেন এ মেলা থেকে।
মেলায় ঘুরতে আসা মধুখালীর বাসিন্দা আরমান মিয়া বলেন, এবার মেলা এখনো জমেনি। লোক যেমন নাই তেমনি ভেতরের স্টলও খালি। এভাবে নিরুৎসাহিত হলে মেলার সফলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠবে।
অপর দর্শনার্থী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, এবার মেলা দেরীতে শুরু হওয়ার পাশাপাশি একুশে বই মেলার প্রভাবে রাজধানী থেকে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমে যাবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তি উপজেলা সোনারগাঁওয়ে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়েছে। সেখানে স্থানীয় লোকজন ভীর করে থাকে বেশি। তাছাড়া বাজারের সব পন্যের দাম বেশি।
ফলে নিন্ম আয়ের লোকজন বিনোদন বা কেনাকাটায় খরচ করতে চায় কম। এসব কারনে এবার মেলায় দর্শনার্থী কম। তবে সরকারি ছুটির দিনে লাখো লোকের সমাগম হয় মেলায়। বিক্রিও বাড়ে সেদিন।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ঢাকা সুইটস এন্ড বেকারীর মালিক হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, মেলায় ৮ম দিন চলছে অথচ আজো স্টল প্রস্তুতের হাতুড়ি পেটা ঠকঠক শব্দ হচ্ছে। স্টল আর প্যাভিলিয়ন কম থাকায় পুরোপুরি হতাশ হলাম। এদিকে মেলা সূত্র জানানয়, এখনো প্রায় ৩০ ভাগ স্টল প্রস্তুত বাকি রয়েছে। ফলে চাহিদামতো পন্য পাচ্ছে না সবাই।
ফলে প্রথম দিকে যারা আসছেন কেবল ঘুরে দেখে খেয়ে দেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। মেলায় এবার দেখা গেছে দেশী বিদেশী প্রয়োজনীয় পোষাক, জুতা, আসবাব, সাজসজ্জা ও প্রসেধনি জাতীয় পন্যের সমাহার।
মেলায় আগত আতর বিক্রেতা হামিদুর রহমান বলেন, গত শুক্র ও শনিবার যাই বিক্রি হয়েছে বাকি ৬ দিনে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়নি। এ সময় তিনি স্টল প্রস্তুত না হওয়ায় আয়োজকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার প্রবেশদ্বার ঠিকাদার ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন ভুইয়া বলেন, এবার মেলায় রাজধানী থেকে আসা দর্শনার্থীরা খুব সহজেই মেলায় আসতে পারছেন। শেখ হাসিনা সরণি দিয়ে অবাধ যাতায়াত করছেন।
পাশাপাশি ঢাকা বাইপাস সড়কেও এবার যানজটমুক্ত রাখতে বিপুল পরিমাণ পুলিশ দায়িত্বে রয়েছেন। তারপরও ছুটির দিন ছাড়া লোকজন কম। এতে ইজারার অর্থ ওঠাতে হিমসিম খেতে হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লোকসান গুনবে।
মেলায় থাকা হাতিল ফার্নিচারের বিক্রয় কর্মী মাহফুজ আহমেদ বলেন, আমাদের মেলার স্টল নেয়া শুধু বিক্রির জন্য নয়। এখান থেকে অর্ডার পাওয়া যায়। যা কোম্পানির নিজস্ব কারখানা থেকে তৈরী করে গ্রাহককে দেয়া হয়। এখানে প্রদর্শনই মূল উদ্দেশ্য।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় পোষাক, জুতা, আসবাব, সাজসজ্জা ও প্রসেধনি জাতীয় পন্যের সমাহার রয়েছে। এসবের দাম কিছুটা বেশি বলে প্রথম দিকে বিক্রি কম।
কালীগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী শামীমা আক্তার দিপু বলেন, মেলায় আগত স্টল ও প্যাভিলিয়নে যেসব পন্য বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে তাতে নতুনত্ব কিছু নাই। সব সাধারণ হাট বাজারে পাওয়া যায়। অথচ এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা! তবে তীব্র শীত কমতে শুরু করায় দর্শনার্থীরা দল বেঁধে আসবে এমন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও মেলা ঘুরে এবার নতুন কিছু না পেয়ে পুরোদমে নিরাশ সীমিত দর্শনার্থীরা।
উল্লেখ্য যে, গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন পূর্বাচলের স্থায়ী ভ্যানুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। তবে এখনো স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্রস্তুত না হওয়ায় দর্শনার্থীদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যবসায়ীরা আশায় রয়েছেন সরকারি ছুটির দিনের।
সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ১৮টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


