গত ৯ মাসে না.গঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২১১৪, মৃত্যু ৩
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২৬ পিএম
গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উধ্বমূর্খী থাকলেও এ বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাস ব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে রোগী সংখ্যা কমই দেখা গেছে। গত বছর যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে যায় সেসময় আক্রান্ত ব্যাক্তিরা চিকিৎসা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা আরো বেশিতে গিয়ে দাড়ালে খানপুর হাসপাতালের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। জানা যায় নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টা সরকারি দুটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে মাত্র ২ জন। তবে গত বছর এই মশা বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নগরীতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩জন।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৯৭০জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হন। জানাযায়, সবচেয়ে বেশি অক্টোবর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তি হয়। জুলাই মাসে ৬০ জন রোগী ভর্তি হন। এরপরের মাসে ১৪৫ জন ভর্তি হন।
এর পরের মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর মাসে ২৭২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। অক্টোবর মাসে রোগীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। গত মাসের তুলনায় আরোও ১৫জন রোগী বেড়ে অর্থাৎ ২৮৭ জন রোগী ভর্তি হয়। নভেম্বর মাসে ১৯৫ জন রোগী ভর্তি হয়।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেও বহিরাবিভাগে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীন বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে গত বছর শুরুর দিকে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ তেমন না থাকলেও মে মাস থেকে এই মশাবাহিত রোগটি চারদিকে ছড়িয়ে পরে। ফলে হাসপাতালেও আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ভর্তি হতে দেখা যায়।
জানা যায়, গত বছর মে মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১শত ৪৪জন রোগী ভর্তি হন। এর মধ্যে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে সবচেয়ে বেশ রোগী হয় সেপ্টম্বর মাসে এবং বহিরাবিভাগে সবচেয়ে রোগী সংখ্যা জুলাই মাসে। মে মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ১৯ জন ভর্তি হন এবং বহিরাবিভাগে ২৩ জন। এর পরের মাসে অভ্যন্তরীনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন ২৮ জন এবং বহিরা বিভাগে ৩৪ জন।
এর পরের মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ৮৯ জন ভর্তি হন এবং বহিরাবিভাগে ১১৩ জন। আগস্ট মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন ভর্তি হন এবং বহিরা-বিভাগে ৯০ জন, মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন। সেপ্টম্বের মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে রোগী ভর্তি হন ১৪৪ জন এবং বহিরা-বিভাগে ৮২ জন। এর পরের মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ১২৬ জন রোগী ভর্তি হন এবং বহিরা-বিভাগে ৯২ জন, মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন।
এর পরের মাস অর্থাৎ নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ৮৪ জন রোগী ভর্তি হন এবং বহিরা-বিভাগে ৭১ জন। এর পর থেকেই অন্যান্য জেলাতে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বিংশ জনের মতো থাকলেও নারায়ণগঞ্জে এই মশাবাহিত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ভর্তি হন ৩২ জন এবং বহিরা-বিভাগে ২৩ জন, মৃত্যুর সংখ্যা ১ জন।
তবে গত বছরের-গত মাসের তুলনায় নতুন বছরের প্রথম মাসে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে হাসপাতালের অভ্যন্তরীনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন মাত্র ১ জন এবং বহিরা-বিভাগে রোগীর সংখ্যা হয় মাত্র ৩ জন। এন. হুসেইন রনী /জেসি


