বাবাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করা হয়েছে : আইভী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৫৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি ও 'পৌরপিতা' আলী আহাম্মদ চুনকাকে রাজনৈতিক ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর কন্যা সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বন্দরে এক আনন্দ সম্মিলনে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমার বাবাকে তো মনে হয় হত্যাই করা হয়েছে। এটা এক ধরনের হত্যা-ই। রাজনৈতিক ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সেও তো এই শহরের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলো। কিন্তু ইতিহাসের পাতার অনেক জায়গায় আলী আহম্মদ চুনকার নাম খুজে পাবেন না। যে যার মত বই লিখে, সেখানে চুনকা নাই। মুক্তিযোদ্ধারাও অনেক বুঝে শুনে কথা বলে, সত্য কথা বলতে চায় না। চুনকার তখন বয়স কম ছিলো, শ্রমিক নেতা ছিলেন। সব দিকেই তো ব্যালেন্সড ছিলেন, এক তরফা তো আর ছিলেন না। খুন-খারাবি যা হয়েছিলো সব কিছুর প্রতিবাদ তো করেছে।
খুনি তো ছিলো না। বরঞ্চ খুনিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। এবং তারই রক্ত আমার শরীরে বলে আমিও একই কাজ করে যাচ্ছি। আইভী বলেন, ৮৪তে বাবা যখন মারা যায় আমার বয়স তখন ১৬ বা ১৭। আমিও তো অনেক কিছু জানি না, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে তাও পারি না। আপনাদের মাঝেও জায়গা বেছে নিয়েছি। ২টা বাচ্চা তাও আমার দেশের বাইরে থাকে। বাচ্চা তো আমার কাছে থাকে না।
সত্যিকার অর্থে আমার বাবার জন্য আমি এদেশে। এই ২০ বছর যাবত আমি বাংলাদেশে শুধু আমার বাবার জন্য। আমি বাবা পাগল মেয়ে। বাবা যখন চলে যান আমাদের ছেড়ে, আমি আল্লাহর কাছে বলেছিলাম আমাকে একদিনের জন্য হলেও ওই চেয়ার টা দেন, আমি দেখতে চাই ওই চেয়ারটা থেকে আমার বাবা কেন চলে গেলো আমাদের ছেড়ে। আল্লাহর কাছে ১ দিনের জন্য চেয়ার চেয়েছিলাম, এখন প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে আপনাদের দোয়ায়।
তিনি আরও বলেন, আমার কষ্ট লাগে বাবা যে নারায়ণগঞ্জের জন্য ৫৪ বছর বয়সে কাজ করতে করতে চলে গেলো, সেই স্বীকৃতিও দিলো না। রণাঙ্গনের এমন কোনো মুক্তিযোদ্ধা নাই যাকে আমার বাবা সাহায্য না করছে। সাহায্যের জন্য আমার মায়ের গয়না বিক্রি করছে, আমার ফুপু আমাকে একটা বাড়ি দিছিলো সেটাও বিক্রি করে টাকা নিয়ে গেছে আমার বাবা। আর এখন এমন মানুষ রাষ্ট্রীয় পদক পায় যারা যুদ্ধই করে নাই।
আর সরকারিভাবেও আমার বাবাকে পরিচিতি দেয়া হয় না, কারণ নারায়ণগঞ্জ শহরে জন্ম নিয়েছে নাকি আরেক জনের মাধ্যমে। এবং এই শহরই তাদের। তাই মাঝে মাঝে জিদ করে বলি, শহরের নামই তাহলে পাল্টায় ফেলি।
খেলাঘর আসর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহিরের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হালিম আজাদ, মাহবুবুর রহমান মাসুম, শিশু সংগঠক রথিন চক্রবর্তী, নারী নেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, লক্ষ্মী চক্রবর্তী, মঞ্জুশ্রী দাস গুপ্ত, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়সহ প্রমুখ। এন. হুসেইন রনী /জেসি


