বাণিজ্য মেলায় মিনি শিশুপার্ক; সময় আর টিকেট মূল্য নিয়ে অসন্তোষ
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে প্রাণবন্ত করতে ২৮ তম আসরেও রাখা হয়েছে শিশুদের বিনোদনে শিশুপার্ক। আদিবা শিশুপার্ক নামে নিন্মমানের ১০ টি রাইড নিয়ে মেলার পেছনের দিকে বসানো হয়েছে এ পার্ক। তবে মেলায় আগত শিশুদের রাইডে চড়ে খুশি হলেও অভিভাবকদের ক্ষোভের শেষ নেই। মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিট কোনটায় ৫ মিনিটের সময় নেয়া আর টিকেটের মূল্য বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
মেলায় ১৮ তম দিনে বুধবার মেলা প্রাঙ্গণে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শিশু পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে শিশু রয়েছে। আদিবা নামীয় শিশুপার্কে রঙিন নানা রাইডে বসে মিউজিকের তালে তালে দোল খাচ্ছে শিশুরা। শিশু-কিশোরদের সঙ্গে রয়েছেন প্রাপ্তবয়স্করাও।
কু ঝিকঝিক ট্রেন চলছে আর চরকি খাচ্ছে নাগরদোলা। হানি সুইং, দোলনার পাশাপাশি, ভুতের বাড়ি, যাদু খেলা, নাগর দোলায় হই-হুল্লোড় আর উচ্ছ্বাসে একটু বেশিই প্রাণবন্ত বাণিজ্য মেলার ছোট্ট এই শিশুপার্ক। বড়দের সঙ্গে আসা শিশুরা মেলায় এসে এ সুযোগ একেবারেই হাতছাড়া করতে রাজি নন।
মেলায় এসব রাইডের মাঝে ভুতের বাড়িতে ভির করছে তরুণ তরুনীরাও। মেলায় ঘুরতে আসা পাঁচাইখার বাসিন্দা শিশু হুমায়রা বায়না ধরেছে ট্রেনে চড়বে। তার মা হাসনা হেনা সখের বসে ওঠালেন। কিন্তু ২ মিনিটেই ৫০ টাকার টিকেটের সময় শেষ করে নামিয়ে দিলেন। এতে হুমায়রা কান্না শুরু করলে ফের ৫০ টাকায় টিকেট কেটে ট্রেনে চড়াতে বাধ্য হয়।
অভিভাবক হাসনা হেনা বলেন, এ সময় শিশুদের জন্য যথেষ্ট নয়। নুন্যতম ১০ মিনিট দেয়া দরকার ছিলো। অপর এক শিশু তৌহিদের বাবা সুফিয়ান গাজী বলেন‘মেলায় শিশু পার্ক দেখে নাগর দোলায় উঠবে। তাই উঠালাম। মেলায় কেনাকাটার পাশাপাশি বাচ্চারা বিনোদন পাচ্ছে। আমার বাচ্চা রাইডসে উঠে বেশ খুশি।’
মেলা প্রাঙ্গণে পূর্ব প্রান্তে মিনি শিশু পার্কটি স্থাপন করেছে আদিবা এন্টারপ্রাইজ। পার্কের দায়িত্বে থাকা শরীফুল ইসলান বলেন ‘মেলায় কেনাকাটার পাশাপাশি শিশুদের বাড়তি বিনোদনের জন্যই শিশু পার্কের আয়োজন। এতে বেশ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
এবার ১০টি রাইডস রয়েছে। এক একটি রাইডসে ৫ থেকে ১০ মিনিট উপভোগ করতে পারবে শিশুরা। ২ মিনিট নাই। তবে ভির হলে সময় কমাতে হয়। আর টিকেটের দাম বেশি মনে হলেও উপায় নাই। কারন এখানে রাইড বসাতে খরচ বেশি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, জাম্পিং রাইডসে শিশুরা ১০ মিনিট খেলতে পারছে। জাম্পিংয়ের টিকিট মূল্য নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। অন্যান্যা রাইডের টিকিট মূল্য ৫০ টাকা ।
এবারও মেলা বছরের প্রথম দিন তথা ১ জানুয়ারি না হয়ে শুরু হয় ২১ জানুয়ারি। ২৮ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাসব্যাপী এ মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা চলবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকছে বাণিজ্য মেলা। টিকিটের দাম এ বছর প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা। এবারের মেলায় মোট স্টল/প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৮০ টি। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন,মিনি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এছাড়াও বিদেশি প্রিমিয়ার স্টল রয়েছে ১৩ টি।
এবারের মেলায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ইরান, তুরস্ক, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় টিকেট তদারকির দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন নিরব বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় জমে ওঠেছে বেচাকেনা। শুধু কেনাকাটা নয়, অনেকেই আসছেন ঘুরতেও। মেলার বিশাল এলাকা ঘুরে ক্লান্ত দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশ্রামের স্থানও। শিশুদের জন্য আছে আলাদা পার্ক। এ ছাড়া পণ্যের প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে রয়েছে ছবি তোলার বিশেষ আয়োজন।
মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড়। প্রবেশমুখে অনেকেই ফুল কিনে নিয়ে ঢুকছেন মেলায়। নতুন পরিসরে এ আয়োজনে ছবি তুলে মুহূর্তে ফ্রেমবন্দি করছেন অনেকেই। ছবি তোলার জন্য বিকাশ কোম্পানির জোন রয়েছে। পাশাপাশি কিডস জোন তথা শিশুপার্কে ব্যস্ত একদল শিশু। শহুরে জীবন থেকে এখানে এসে প্রাণ খুলে হাসছে খেলছে। এ সময় খেলায় ব্যস্ত শিশুরা জানান, এখানে খেলতে ভালো লাগছে।
এদিকে মেলায় ঘুরতে ঘুরতে যারা ক্লান্ত তারা বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন ফুলের টব সাজানো পার্কের মতো জায়গায়। কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে তাদের সময় কাটছে আনন্দে। মেলার বিষয়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা বলেছেন, ফুল দিয়ে সাজিয়ে বসার ব্যবস্থা করেছে, আমাদের ভালই লাগবে। সবকিছু মিলিয়ে এবারে পূর্বাচলের ৩য় আসর বাণিজ্য মেলা বেশ সুন্দর লেগেছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


