Logo
Logo
×

বিচিত্র সংবাদ

বাণিজ্য মেলায় লোকসান এড়াতে সাব ভাড়ায় ভাগাভাগির স্টল

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫১ পিএম

বাণিজ্য মেলায় লোকসান এড়াতে সাব ভাড়ায় ভাগাভাগির স্টল
Swapno


ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার দর্শনার্থীর আনাগোনার চেয়ে বিক্রি কম।  আবার নির্ধারিত সময় ছেড়ে ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়ায় মেলা জমেনি খুব একটা। তাই ক্ষূদ্র ব্যবসায়ীরা লোকসান এড়াতে নিয়েছেন অপকৌশল।  

 

 

তাদের বরাদ্দ পাওয়া স্টলকে আকারে ছোট করে সাব ভাড়া দিয়েছেন।  এই ফাঁকে অবৈধ স্টলের পাশাপাশি নিম্নমানের পণ্য নিয়ে প্রবেশ করেছে মেলায়। এসব পন্য বিক্রেতারা বেশিরভাগ রাজধানীর ফুটপাতের হকার আর নিউমার্কেট, গুলিস্তানের মৌসুমি ব্যবসায়ী।  

 


মেলা ঘুরে দেখা যায়,  মূল লে-আউট প্ল্যানে নেই এমন অসংখ্য স্টলে ছেয়ে গেছে এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রায় প্রতিটি বড় প্যাভিলিয়নের পাশের খালি জায়গায় ‘অবৈধভাবে’ খাদ্যপণ্যের এসব স্টল দেয়া হয়েছে। এসব স্টলের বেশিরভাগ খাবারের দোকান। কেউ কেউ দর্শনার্থীদের চলাচল পথ বন্ধ করে বসিয়েছেন ছোট ছোট পসরা। এ যেন মেলায় ভেতরে আরও ফুটপাতের মেলা।

 


অভিযোগ রয়েছে, মূল লে-আউট প্ল্যানে না থাকার পরও এসব স্টলের কিছু কিছু অনুমোদন দিয়েছে খোদ মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)!  মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মেলার আয়োজক ইপিবি। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন মেলার আয়োজক।

 


ইপিবির প্ল্যান অনুযায়ী, মেলায় প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন, সাধারণ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, প্রিমিয়ার স্টল, সাধারণ স্টল, খাবারের দোকানসহ মোট ৩৮০টি স্টল থাকার কথা। সেভাবেই বড়-ছোট কোম্পানিগুলোর চাহিদা অনুযায়ী মেলার স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

 

মেলার প্রথম এক সপ্তাহ ইপিবির লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ীই বিভিন্ন স্টল বসলেও নড়েচড়ে বসে পরের সপ্তাহেই। এসব অবৈধ স্টলের মধ্যে রয়েছে  আইসক্রিম, চা-কফি, নুডলস, কোমল ও মিনারেল ওয়াটারসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য।

 


মেলায় থাকা আইসক্রিম বিক্রেতা আমানুল্লাহ বলেন, একটি স্টল নিতে প্রায় ১০  লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ইপিবির অনুকূলে ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। বাকি টাকা দিতে হচ্ছে দালালদের, যারা ইপিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে মেলার স্টল বসানোর স্থান ঠিক করে দিচ্ছেন। আর এবার মেলায় প্রথমে শীত পড়েছে। সে সময় আইসক্রিম চলে নাই। তাই আমাদের স্টলের একপাশে অন্য একজনকে ভাড়া দিয়েছি।  

 


মেলায় প্রবেশ করে স্টার কাবাব নামীয় খাবার হোটেলের সামনে দেখা যায় অসংখ্য বিরিয়ানির ছোট ছোট টং। এসব টংয়ে বিরিয়ানির ডেগ আর চামচের শব্দে হৈ চৈ দেখা যায় নিত্য। কথা হয় ব্যবসায়ী তোতা মিয়ার সঙ্গে।  তিনি বলেন, ভেতরে বৈধ ভাবে যারা হোটেল পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে ভাড়া  নিয়েছি। ৪ লাখ দিয়েছি। শুধু ডেগ বসানোর জায়গার জন্য।  

 


মেলায় ইরানি পন্যের সাইনবোর্ড দেয়া স্টলে বিক্রি হচ্ছে কিয়াম প্রেসার কুকারসহ নানা তৈজসপত্র। আর এর পাশে আরও কিছু কাপড়ের সারি সারি দোকানের মতো পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

 


আবার মেলার উত্তরপাশে আছে- মি. নুডলস, অ্যাকুয়াফিনা, ইগলু আইসক্রিম। কথা হয় ইরানি স্টলের সাব ভাড়া পাওয়া বিক্রয়কর্মী বিথীর সঙ্গে।  তিনি বলেন ‘মেলায় সরাসরি  আমরা স্টল পাইনি। তাই ইরানি পন্যের স্টলের একটি অংশ ভাড়া নিয়েছি। গত ১৪ দিন ধরে আছি।  

 

 

আর মাত্র ৪ দিন বাকি। এ ১৮ দিনের জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা ভাড়া দিয়েছি। একই স্টলের অপর বিক্রয় কর্মী হাবিবুর রহমান বলেন আমরা আসলে লোকসানে আছি। বিক্রি কম। এবার মেলা জমেনি। তাই আমাদের বরাদ্দ পাওয়া অর্থের লোকসান কমাতে কিছু অংশে অন্য ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিয়েছি।

 


মেলার মূল ভবনের পূর্বদিকে তাকালে চোখে পড়বে অসংখ্য কোট আর ব্লেজারের স্টল।  এসব স্টলের সামনে বিক্রেতারা হাকডাক করে নিন্মমানের পন্য বিক্রি করছে। তবে দাম কম হওয়ায় নিন্ম আয়ের লোকজনসহ মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ভির করেছেন।

 

 

কথা হয় একটি ব্লেজারের স্টলের বিক্রয়কর্মী আব্দুল হামিদের সাথে।  তিনি বলেন, এটা সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পাওয়া স্টল। এসব স্টল কমদামে পাওয়া যায়।  তাই মেলার আয়োজকদের ম্যানেজ করে কিছু  স্টল নিয়েছি। তবে বিক্রি ভালো হয়নি এখনো।

 


এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিবি সচীব বিবেক সরকার বলেন, স্টলগুলো উপভাড়া হয়েছে কি না তা জানা নেই। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য না করলে ভালো হয়।

 


এদিকে মেলার সামনে ফটকে বসেছে ভাসমান হকারদের ভ্যান আর ছোট ছোট দোকান। এসব দোকানের কারনে মেলায় আগত দর্শনার্থীরা বিব্রত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে মেলার দায়িত্বরত পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই  কৃষ্ণ লাল সরকারকে ম্যানেজ করে এসব দোকান বসানো হয়েছে।  তবে অভিযুক্ত কৃষ্ণ লাল সরকার বলেন, এটা স্থানীয় নেতা কর্মী ও ট্রাফিক পুলিশের লোকজন দেখবে। আমি মেলার বাইরে হস্তক্ষেপ করিনা।

 


এ বিষয়ে ঢাকা বাইপাস সড়কের মেলা অঞ্চলে দায়িত্বরত টিআই পরিদর্শক জুলহাস মিয়া বলেন,  মেলায় বাহির হওয়ার ফটকে র সামনের অংশ আমরা দেখি না। আমরা সড়কের যানজট নিয়ে ব্যস্ত আছি।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন