চন্দন শীলের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে
আবদুস সালাম
প্রকাশ: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৬ পিএম
হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি’র সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল সভাপতি হিসেবে স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করায় তার বিরুদ্ধে আদালত অমান্য করার মামলা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি’র নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না করে কমিটির অনুমোদন না নিয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক বিগত কমিটির সভাপতি চন্দন শীলকে পুনরায় সভাপতি মনোনীত করে এডহক কমিটি গঠন করার অনুমোদন দেয়ায় বিগত কমিটির সদস্য আবদুস সালাম, ওয়াহিদ সাদত বাবু ও সরকার আলম এডহক কমিটি চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর- ১০৩৯/২০২৪ দায়ের করেন।
মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ এর বেঞ্চ এক আদেশে চন্দন শীলের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে। একই আদেশে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হককে আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি’র নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখিত আদেশে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান কিভাবে এই এডহক কমিটি অনুমোদন প্রদান করেছেন তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য রুল ইস্যু করেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত আদেশের কপি সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান ঢাকা শিক্ষাবোডর্, কলেজ পরিদর্শক ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।
জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চন্দন শীল, সভাপতি, এডহক কমিটি ও অধ্যক্ষ, নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের বরাবরে আদালতের আদেশ জারি করেন। রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান জানান, মহামান্য হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারক বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আতাবুল্লাহ গত ৬ ফেব্রুয়ারি রিট শুনানির শেষে এ আদেশ দেন।
এ আদেশের সার্টিফাইড কপি তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে জানানোর পরেও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এডহক কমিটির সভাপতি চন্দন শীলের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি বাতিল ঘোষণা জানানোর পরেও তিনি মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যা হাইকোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং আদালত অবমাননার শামিল।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। গভর্নিং বডি’র সদস্য ও রিট আবেদনকারী আবদুস সালাম জানান ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক সহ স্কুল কর্তৃপক্ষ আদালতের আদেশটি পেয়েছেন।
তিনি জানান, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও এডহক কমিটির সভাপতি চন্দন শীল ক্ষমতার অপব্যবহার করে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করছেন যা আইন বহির্ভূত। এব্যাপারে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চন্দন শীল কর্তৃক আদালতের আদেশ অমান্য করার বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এন. হুসেইন রনী /জেসি


