Logo
Logo
×

বিচিত্র সংবাদ

নিউ হাজীগঞ্জের এবিএম ডাইংয়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ

Icon

সাইমুন ইসলাম

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম

নিউ হাজীগঞ্জের এবিএম ডাইংয়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ
Swapno

 

ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন নিউ হাজীগঞ্জে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে এবিএম ডাইং নামক একটি প্রতিষ্ঠান। সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়,  যে যায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে এই প্রতিষ্ঠান এর কারনে  আশেপাশের অবস্থা একেবারে শোচনীয়। মারাত্মক পরিবেশগত সংকটে পড়েছে এবিএম ডাইং সংলগ্ন এলাকা।

 


শুধু তাই নয় এ প্রতিষ্ঠান হতে নির্গত তরল বর্জ্য মারাত্মক বিষাক্ত। এই বিষাক্ত তরল বর্জ্য কোনো রকম পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি পাশের জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে।কারণ এই প্রতিষ্ঠানে নেই কোনো ইটিপি।  যার কারনে ঐ অঞ্চলের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। শুধু পানি দূষনই নয়। এই প্রতিষ্ঠানের কারনে বায়ুদূষনের মাত্রাও নেহাত কম নয়।

 


অনুসন্ধানে জানা যায় এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। এ ছাড়াও অতাবশ্যক ইটিপি প্রনালী নেই এই প্রতিষ্ঠানে।

 


তথ্য নিয়ে জানা যায় এই প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানী হিসেবে গ্যাস ব্যাবহার করছে না। তারা কাঠ ঝুট পুড়িয়ে  তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত ও পরিবেশের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর। এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, এ ডাইংটি অনেকদিন ধরেই পরিবেশের ক্ষতি করে চলতেছে। কিন্তু কেউ এ নিয়ে কিছু বলার সাহস পায়নি।

 


এ প্রতিষ্ঠানটির দূষিত বিষাক্ত পানি ইটিপি প্রক্রিয়া ছাড়াই জলাশয়ে গিয়ে জমা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে মুলত ক্যামিকেল মিশ্রিত এই বিষাক্ত পানিগুলোই রাস্তার পানির সাথে মিশে মানুষের সংস্পর্শে এসে মানুষের নানাবিধ জটিল চর্মরোগের কারন হচ্ছে। শুধু তাই নয় এ প্রতিষ্ঠানের তীব্র  বায়ু দূষণের কবলে পরে শ্বাসনালীর নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে স্থানীয়রা। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানের করাল গ্রাসে উভয় সংকটে এ এলাকার সাধারণ মানুষ।

 

 

এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয়দের। ক্ষোভে ফুসছে সকলে। খোজ নিয়ে জানা যায় এ ডাইংটির বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যো এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে ক্ষতিপুরন আদায় করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান নিয়ে ইতিমধ্যো রিট রয়েছে। যার নম্বর ১৫৭১৪/২০১৮ ।

 

 

এ নিয়ে এ অবৈধ ডাইংটির মালিক মনা মাতাব্বর এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আগের মালিক জরিমানা খেয়ে চলে গেছে আমরা নতুন এসেছি প্রায় দুই মাস ধরে চালাচ্ছি। তবে ইটিপি ও ছাড়পত্র ও  ছাড়াই যে এই প্রতিষ্ঠান চলছে এবং কাঠ যে পোড়ানো হচ্ছে  তা স্বিকার করে নেন তিনি।

 


অর্থাৎ প্রথম মালিক পরিবেশের ক্ষতি করারা কারনে পরিবেশের অধিদপ্তরের চাপে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হলেও একই স্থানে এই মনা মাতাব্বর আবারও একই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

 


তবে এলাকাবাসীর দাবী অতি দ্রুত এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হোক এবং এলাকাবাসীকে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। এ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এখন দেখার বিষয় পরিবেশ অধিদপ্তর কি ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করে  এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।   এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন