Logo
Logo
×

বিচিত্র সংবাদ

আল-হেরার বিরুদ্ধে তদন্তে ধীরগতি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৫ পিএম

আল-হেরার বিরুদ্ধে তদন্তে ধীরগতি
Swapno


# ১০ দিনেও তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট আসেনি
# কমিটি ও কি ম্যানেজ হয়ে গেলো এমন ও প্রশ্ন জনমনে
# ছাড় পেলে বেপরোয়া হয়ে উঠবে আল-হেরা হাসপাতাল

নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩শ’ বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালের পাশেই খানপুর কাজীপাড়া বটতলা আল-হেরা জেনারেল হাসপাতালে টনসেলের ভূল চিকিৎসায় মোস্তাকিম (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ১০ দিনে ও কোন প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

সদর উপজেলার ফতুল্লা থানধীন বক্তাবলী মধ্যনগর এলাকার বাসিন্দা ও ভোক্তভোগী পরিবার গ্রামের সহজ-সরল ও আর্থিকভাবে সচল না হওয়ায় এখনো নগরীর বুকে সচল অবস্থায় রয়েছে এই আল-হেরা জেনারেল হাসপাতাল এমনটাই মনে করছেন সুধিমহল। জানা গেছে, গত রবিবার (১০মার্চ) খানপুর কাজীপাড়া বটতলা আল-হেরা জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে আসে।

 

 

আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে, টনসিলের অপারেশন শেষে বাচ্চার জ্ঞান আর ফিরেনি বলে ভাষ্য দিয়েছিলেন ভোক্তভোগীর স্বজনরা। যে কারণে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে মরদেহ ফেলেই ডাক্তার, নার্সসহ ক্লিনিকের বাকি কর্মকর্তারা সবাই উধাও হয়ে যান। যাকে ঘিরে এটাই প্রমাণ হচ্ছে যে চিকিৎসকের ভূল চিকিৎসা ও অবহেলায় শিশু মোস্তাকিমের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

 

 

হাসপাতালের মালিকপক্ষের একজন বার বারই বলতে থাকে ছোট বাচ্চাকে ময়না তদন্ত করলে কেমন দেখায় স্বজনদের নানা ভয় দেখিয়ে প্রশাসনিক অভিযোগ ছাড়াই কিছু অর্থের বিনিময়ে রফাদফা হয়ে যায় নিহত মোস্তাকিমের মরদেহ।সে দিন শুধু মোস্তাকিমই নয় আরো রোগীর স্বজনদের ছিলো নানা অভিযোগ অনেকেই সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই বলে উঠে আমার রোগী দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে কিন্তু এখনো তার কোন উন্নতি লক্ষ্য করছি না।

 

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ডিসি মাহমুদুল হকের নির্দেশনায় দুইটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার ১০ দিনে ও তদন্ত রিপোর্ট খোলাসা হয়নি। যা নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই বলছেন, যেহেতু আল-হেরার মালিকপক্ষ ১১জন। সেই কারণে উপর পর্যায়ে থেকে নিচ পর্যায়ের সকলকেই ম্যানেজ করে ফেলেছেন তারা এমনটাই দাবি করছেন সুধিমহলের ব্যক্তিত্বরা।

 


ঘটনার দিন জানা গিয়েছিলো, দীর্ঘদিন যাবৎ টিনসিল সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন মোস্তাকিম পরর্তীতে তাদের বক্তাবলীর আত্মীয় আল-হেরা হাসপাতালের মালিকপক্ষ ও ম্যানেজার কবিরের পরামর্শে আরেক পার্টনার বাবুলের সাথে যোগাযোগ করেন নিহতের বাবা রমজান মিয়া পরবর্তীতে গত শনিবার সকালে খানপুর এলাকার আল-হেরা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় মোস্তাকিমকে।

 

 

পরবর্তীতে বিকাল (৫ টায়) আল-হেরার পাশেই গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের চেম্বারকৃত ভারাটে ডাক্তার ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের তত্ত্বাবধায়নে টনসিলের আপারেশন হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নানা আলোচনার প্রেক্ষিতে আরো শোনা গেছে, নিহত মোস্তাকিমকে যখন প্রথম অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হয় তখন কোন প্রকারের পরীক্ষা-নীরিক্ষা না করেই ওটি করতে ডুকালে তার স্বজনরা নানাভাবে চিল্লাফাল্লা শুরু করেন।

 

 

এতে করে ডাক্তার দ্রুত এক্সে ও একটি রক্ত পরীক্ষা লিখে দেন পরবর্তীতে সেগুলো করে তাকে আবারো ওটি রুমে ডুকানো হয়। এর পর আর মোস্তাকিমের সারা শব্দ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করছেন রোগীর স্বজনরা। পরদিন সকালে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারে নিহত মোস্তাকিমের দেহ পরে থাকতে দেখে কিন্তু উনি যে মারা গেছেন নাকি জিন্দা আছেন এমনটা জানার লোক পায়নি তারা।

 

 

এমনকি রোগীর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনসহ যাবতীয় সকল কাগজপত্র সেগুলো একটি ও হাসপাতালে বা রোগীর কেবিনে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সকালে নানা মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে অনেকেই হাসপাতালে গেলে নিহতের লাশ সেই অপারেশন থিয়াটারেই পাওয়া যায়। মরদেহ ফেলেই ডাক্তার, নার্সসহ ক্লিনিকের বাকি কর্মকর্তাদের আর দেখা যায়নি।

 

 

সর্বনিম্ন প্রায় ৬/৭ ঘন্টা খালি অবস্থায় পরে থাকে। যা নিয়ে বাকি ভর্তিকৃত রোগীরা বিব্রত অবস্থায় পরতে দেখা গেছে। কিন্তু ঘটনা কোন রকম ধামা-চাপা দিলেই আবারো সচল হয়ে ফিরছেন আল-হেরা তাদের বিরুদ্ধে কি কোন প্রকারের এক্যাশন হবে না এমনটাই বলছে আশেপাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। আরো শোনা যাচ্ছে। আল-হেরা ছাড় পেলে বেপরোয়া হবে বাকি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকগুলো।

 


সেই ঘটনায় নিহতের বাবা রমজান আলীর অভিযোগ অভিযোগ ছিলো, শনিবার সন্ধ্যায় আল-হেরা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের তত্ত্বাবধানে টনসিলের অপারেশনের জন্য ভর্তি করানো হয় মোস্তাকিমকে। অপারেশন শেষে বাচ্চাকে যা যা খাওয়াতে বলা হয়েছে তাই খাওয়ানো হয়েছে। আজকে ভোরে ফযরের ওয়াক্তে প্রসাব করিয়েছি।

 

 

তারপর ১১টায় একটা ইনজেকশন দিয়েছিলো আর ১২টায় একটা ডোজ দিয়েছিলো, তারপর আর জ্ঞান ফেরেনি। সকালে অপারেশন থিয়েটারে মরদেহ রেখে ডাক্তার, নার্স সহ ক্লিনিকের সবাই পালিয়ে যায়। চিকিৎসকের অবহেলায়ই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারে দাবি পরিবারের। কিন্তু পরবর্তীতে কবিরের নানা ছলচাতুরীতে সাংবাদিকদের সাথে আর যোগাযোগ করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন রমজান মিয়া।

 


তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার কবির যুগের চিন্তাকে বলেন, তদন্ত শেষ কিন্ত রিপোর্ট এখনো আমাদের কাছে আসেনি। যার কারণে আমরা এখন কিছু বলতে পারছি না। কিন্ত আমরা আশা করছি তদন্ত রিপোর্ট আমাদের পক্ষেই আসবে।

 


এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জানান, আল-হেরায় মৃত্যুর ঘটনায় ২টি তদন্ত টিম কাজ করছে, কিন্তু এখনো কোন রিপোর্ট আসেনি। আর মূলত একটাই সমস্যা হচ্ছে যে বাচ্চার বাবা কোন প্রকারের স্বাক্ষ্য দিতে রাজি হচ্ছে না। তারপর ও আমাদের নিরপেক্ষ তদন্ত টিমের কমর্তকর্তারা তাদের কার্যক্রম পক্রিয়াধীন রেখেছে।    এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন