বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার মান যাই হোক না কেন বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টায় ছাত্রছাত্রীর চাইতে এক বিশেষ শ্রেণীর ব্যক্তির উৎসাহ সত্যি বিস্ময়কর! এই বিশেষ শ্রেণীর ব্যক্তিগণ শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টায় রত কোন অভিভাবক নয়!
এদের সে যোগ্যতাও নেই,এরা সবাই বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী!বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চান, সবাই পারেন না, কেউ কেউ পারেন, যারা পারেন সেই ভাগ্যবানরা আর কেউ নন ম্যানেজিং বা গভর্নিং বডির সদস্য! নারায়ণগঞ্জের প্রায় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে দেখা যায় ক্ষমতা দখলের এক অশুভ প্রতিযোগিতা, যে প্রতিযোগিতায় নামে ক্ষমতা এবং অর্থবিত্তশালী একটি শ্রেণি।
লক্ষ্য! বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্তর্ভুক্ত হওয়া। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় গঠিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে এমন অনেক সদস্য দেখা যায় যে কোনদিন বিদ্যালয়ের চৌকাঠও পেরোইনি!
নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বিদ্যালয় কমিটির সদস্য হয়ে যাচ্ছে তথাকথিত নির্বাচন বা লবিংয়ের মাধ্যমে! রাজনৈতিক প্রভাব এখানে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যদিও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোন ভূমিকা নেই তারপরও কেন কমিটিতে স্থান পাওয়ার জন্য এমন আগ্রহ, এমন অশুভ প্রতিযোগিতা! কি মধু আছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে?
বিদ্যালয়ে কমিটি গঠন এবং পাল্টা কমিটি গঠনের ঘটনা প্রায় শোনা যায়! আইন আদালতের আশ্রয়ে যাওয়ার ঘটনাও খুব কম ঘটে না। লক্ষণীয় বিষয় এসব ক্ষেত্রে সমাজে গ্রহণযোগ্য শিক্ষিত লোকজন থাকে না বললেই চলে। দু চারজন থাকলেও তারা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য নয় বরং নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই এখানে এসে থাকে।
কারণ যে প্রক্রিয়ায় পরিচালনা কমিটি গঠিত হয় সেখানে এই দুর্বৃত্ত শ্রেণীর সাথে কোন শিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তির প্রতিযোগিতায় নামা সম্ভব হয় না। শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টায় কমিটির কার্যক্রম পরিচালিত হলে কোন আপত্তি থাকতো না, কিন্তু গোলটা বাধে সেখানেই যখন দেখা যায় কমিটিতে একজন নিরক্ষর অযোগ্য ব্যক্তি জায়গা করে নিয়েছে, যখন লোকমুখে শোনা যায় আর্থিক দুর্নীতির কথা।
অনেক ক্ষেত্রে ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামগত উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই কমিটিতে স্থান পাওয়ার এই প্রচেষ্টা বলে অনেকেরই অভিমত। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে জোট বেঁধে কোচিং ব্যবসাতে জড়িত থাকার উদাহরণও পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী বেচাকেনার সাথেও কমিটির লোক জড়িত থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
তাহলে কি এ কথা বলা খুব ভুল হবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই কমিটিতে ঠাই করে নেয়ার জন্য এই অশুভ প্রতিযোগিতা? যা কোন অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখে না। যদি তাই হয় তাহলে এমন পরিচালনা কমিটি রাখার খুব প্রয়োজন আছে কি?
পরিচালনা কমিটি যদি একান্ত রাখতেই হয় তাহলে তা যাতে মানসম্পন্ন হয় সেই লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সরকারি বিভিন্ন কাঠামো রয়েছে যার মাধ্যমে অনায়াসে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব।
সেক্ষেত্রে যে কমিটি বিদ্যালয়ের কোন কাজে আসবে না তেমন কমিটি রাখার খুব যৌক্তিকতা আছে কিনা তা বিশ্লেষণ করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমনটিই প্রত্যাশা। লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


