Logo
Logo
×

বিচিত্র সংবাদ

ফুটপাতের ক্রেতারা মার্কেটমুখি

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম

ফুটপাতের ক্রেতারা মার্কেটমুখি
Swapno

 

দোরগোড়ায় ঈদুল ফিতর। রোজা যদি পুরো ত্রিশটা হয় তবে ঈদ হবে ১১ এপ্রিল। সেই হিসেবে আর মাত্র ১০দিন পরই ঈদুল ফিতর। মুসলমানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। কিন্তু এবার এই ঈদ আনন্দের সাথে বাড়তি আমেজ যোগ করেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এই জোড়া উৎসবকে ঘিরে ধনী-গরীব সব বাঙালির ঘরেই কেনাকাটার বাড়তি আয়োজন চলছে। ক্রেতাদের পদভারে প্রকম্পিত হচ্ছে নগরীর নামকরা সব মার্কেট।

 

 

সকাল থেকে গভীর রাতঅব্দি ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা মার্কেটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। করো কারো মতে, চানরাত পর্যন্ত এমন ভিড় অব্যাহত থাকতে পারে। কারণ হিসেবে তারা জানান, ক্রেতাদের একটা বড় অংশ যারা এতোদিন ফুটপাতে কেনাকাটা করতেন তারা বাধ্য হয়েই মার্কেটমুখি হচ্ছেন। বেসরকারি চাকরিজীবীদের হাতে বেতন-বোনাসের টাকা আসতে এখনো অনেক দেরি।

 

 

তা ছাড়া ফুটপাতে হকার নেই। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ত্রিপক্ষীয় গোলটেবিল বৈঠকের পর ফুটপাত হকারমুক্ত। দীর্ঘদিন যাবত হকার ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে এবং নেপথ্যে  অনেক ইতিবাচক ও নেতিবাচক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। এ ধারা এখনো অব্যাহত। তবে এমপি সেলিম ওসমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় হকার ইস্যুটির বাস্তবসম্মত সুরাহার পথ সুগম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

অনেক চড়াই উতরাইয়ের পর তার নির্দেশনায় হকাররা শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাষাঢ়ার খাজা মার্কেট ঘেঁষে নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের দক্ষিণ পাশে পসরা সাজিয়ে বসছেন। ঢাকার একটি মার্কেটের আদলে এটির নামকরণ করা হয়েছে ‘হলিডে হকার্স মার্কেট’। এখানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতা বিশেষকরে চাকরিজীবীদের আনাগোনাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

 

 

পুলিশের দাবড়ানি থেকে রেহাই পেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দোকানদারি করতে পেরে হকারদের মধ্যেও স্বস্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটতে দেখা গেছে। আপাতত ঈদ পর্যন্ত একটা হিল্লা হওয়ায় হকাররা এমপি সেলিম ওসমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার রামকৃষ্ণ মিশনের উল্টাদিকে শিশুদের তৈরীপোশাক বিক্রেতা মামুনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মালামালের পোটলা নিয়ে আমরা ফুটপাতে পুলিশের সাথে ইঁদুর-বিড়াল খেলছি।

 

 

অনেকে রাস্তায় ও ড্রেনে পড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। মালামাল খোয়া গেছে। দোকানদারি করতে না পেরে এতাদিন পূঁজি ভেঙ্গে খেয়েছি। গত দু’সপ্তাহ যাবত এখানে চৌকি বসিয়ে দোকানদারি করে ভালোই রোজগার করছি। ঈদ পর্যন্ত এ অবস্থা থাকলে ব্যবসা ভালোই হবে বলে আশা করছি।’

 


নারায়ণগঞ্জের ঈদমার্কেট পুরোপুরি জমে ওঠেছে। দরাদরি এড়াতে বেশিরভাগ ক্রেতাই একদামের (ফিক্সড প্রাইস) দোকান বেছে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অধুনালুপ্ত ডায়মন্ড সিনেমা হলের জায়গায় গড়ে ওঠা বহুতলবিশিষ্ট আধুনিক নানা সুবিধাসম্বলিত ‘আলমাছ পয়েন্ট’ সব বয়সী ক্রেতাদের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয়পাশের মার্কেটেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে।

 

 

তবে এসব মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানেই ক্রেতাদের সাথে সেলসম্যানদের দরকষাকষি অনেকসময় মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়। তর্কাতর্কি কখনো কখনো হতাহাতির পর্যায়ে চলে যাওয়ার নজির রয়েছে। এসব দোকানে ক্রেতাদের গলা কাটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত দামের চেয়ে পণ্যের দাম দুই তিন গুণ বেশি চাওয়ায় পর ক্রেতারা  চলে যেতে চাইলে তার পথ আগলে ধরা হয়।

 

 

না কিনলে দাম জিজ্ঞেস করলেন কেনো, অন্তত একটা দাম বলার জন্য ক্রেতাকে চারপাশ থেকে চাপ সৃষ্টি করা হতে থাকে। বিক্রেতাদের এমন আচরণে ক্রেতা ভ্যাবাচেকা খেয়ে অর্ধেক দাম বললে সেই দামেই তাকে পণ্য গছিয়ে দেয়া হয়। চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের তৈরী পোষাকের দোকানে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।    এন. হুসেইন রনী  /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন