এডহক কমিটি বহাল রাখেতে স্কুলের তহবিল থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ
আবদুস সালাম
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৪, ০৬:১৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজে চলছে আর্থিক লুটপাট। এডহক কমিটি বহাল রাখতে ২৫লাখ টাকা স্কুলের তহবিল থেকে উত্তোলন করার কথা স্বীকার করেছেন স্বয়ং এডহক কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল। এদিকে গভর্নিং বডি’র নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পর সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ক্ষোভ নিরসনের জন্যে সোমবার বিকেলে শিক্ষকদের সাথে সভা করেন চন্দন শীল। সেখানে চন্দন শীলের কাছে অভিযোগ করা হয় খসড়া ভোটার তালিকায় ৭২জন শিক্ষকের নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ৭জন শিক্ষককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কেনো এসব শিক্ষকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভূইয়া শিক্ষকদের কাছে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি। এক পর্যায়ে শিক্ষকদের অভিযোগের সময় ক্ষুব্ধ হয়ে চন্দন শীল জানান, এডহক কমিটি করতে গিয়ে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এবং হাইকোর্টে স্কুলের তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গেছে।
এদিকে সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক জানান নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি’র নির্বাচনের ১মাস পূর্বে নির্বাচন স্থগিত রেখে গোপনে ৬মাসের জন্যে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে এডহক কমিটির অনুমোদন করা হয়।
এরপর বিগত কমিটির সদস্য আবদুস সালাম, ওয়াহিদ সাদত বাবু ও সরকার আলম বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে মহামান্য হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এক আদেশে এডহক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসককে ২মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার আদেশ প্রদান করেন।
এ আদেশের প্রেক্ষিতে বিগত কমিটির সভাপতি এবং বর্তমানে এডহক কমিটির সভাপতি চন্দন শীল আদেশ স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টের চেম্বার বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের বেঞ্চে আবেদন করলে গত মার্চের ১৪ তারিখে ৮ সপ্তাহের জন্য এ আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। এদিকে নতুন গভর্নিং বডি’র নির্বাচনের জন্য গত সোমবার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত ভোটার তালিকায় স্কুলে কর্মরত ৭২জন শিক্ষকের নাম বাদ দেয়া হয়। এ ব্যাপারে বাদ পড়া শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে বিকেলে এডহক কমিটির সভাপতি চন্দন শীল ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের সাথে বৈঠকে বসেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা জানান, গভর্নিং বডির গত ৩টি নির্বাচনে বিধি মোতাবেক তারা ভোটার ছিলেন। কিন্তু এবছর অজ্ঞাত কারনে তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
এটি একটি চক্রান্ত বলে উল্লেখ করে সভাপতির কাছে অভিযোগ জানালে সভাপতি বিষয়টি দেখবেন বলে তাদের অবহিত করেন। এসময় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সাথী রানী সাহা, প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভূইয়াও উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা অভিযোগ করেন- গত ২ বছর ধরে বর্তমান স্কুল কর্তৃপক্ষ চক্রান্ত করে সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রেখেছেন।
অথচ এই ৩জন তাদের বেতনের সাথে ১৫ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে অতিরিক্ত নিয়ে যাচ্ছেন। এসময় সভাপতি চন্দন শীল ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের অবহিত করেন- এডহক কমিটি গঠন এবং মামলা মোকাবেলার জন্যে স্কুল তহবিল থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ অতিরিক্ত টাকা খরচের জন্য শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি বিবেচনায় আনতে পারছেন না। একাধিক শিক্ষক জানান, বর্তমানে স্কুলের তহবিলে প্রায় ৪কোটি টাকা জমা রয়েছে।
অথচ গত ২ বছর ধরে শিক্ষকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একাধিক শিক্ষক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- এডহক কমিটির সভাপতির অনুমোদন নিয়েই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আগামী ৫মে পর্যন্ত ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় নির্ধারন করা হয়েছে। কেউ ক্ষুব্ধ হলে যথানিয়মে আবেদন করতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান- প্রধান শিক্ষক সুকৌশলে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়েছেন। তিনি তার পছন্দমত ব্যক্তিদের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করার জন্যে চক্রান্ত করছেন। এন. হুসেইন রনী /জেসি


