প্রিয় পাঠক এ জলাতঙ্ক ভাইরাস জনিত রোগ জলাতঙ্ক নয়! দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যবহার্য পানি বা জল না পাওয়ার আতঙ্ক! নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীগণ যে আতঙ্কে দীর্ঘদিন যাবত ভুগছে! সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে! সিটি করপোরেশন কর্তৃক ওয়াসার কাছ থেকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিজ হাতে নেয়ার পর চরম অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ছে, যার দায় পোহাতে হচ্ছে সাধারণ নগরবাসীকে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ওয়াসার কাছ থেকে পানি সরবরাহের দায়িত্ত্ব গ্রহণ করা যথার্থ হয়েছে কি না? পানি উত্তোলন পাম্প কিছুদিন পর পর অকেজো হওয়া, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া প্রভৃতি কারণে আজ এখানে তো কাল অন্য কোনখানে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকছে। পানি উত্তোলন স্বাভাবিক থাকলেও সব জায়গায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে না। প্রধান সরবরাহ লাইন সংলগ্ন গ্রাহকগণ পানি পেলেও শাখা উপশাখা লাইনের গ্রাহকগণ পানির দেখা পায়না।
প্রধান সরবরাহ লাইন থেকে অধিক দূরবর্তী এলাকার অধিকাংশ গ্রাহক দীর্ঘদিন যাবত পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে।যেসব এলাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাল সেখানেও পানি সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়।বিত্ত্বশালীগণ গভীর নলকূপ বসিয়ে তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে পারলেও সাধারণ লোকজন প্রতিনিয়ত পানির অভাবে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে।একটু পানির আশায় এদিকে সেদিক ছুটছে।চাপকল বা যাতাকল নামে পরিচিত অগভীর নলকূপ বসিয়ে অনেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন।
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়াই এর মূল কারণ। অনেক এলাকায় পানিবাহী গাড়ী মারফত পানি সরবরাহ তপ্ত মরুভূমিতে কয়েক ফোটা জল ফেলার নামান্তর। চরম খরার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, পানি উত্তোলন তুলনামূলক ভাবে কম হবে তাও স্বাভাবিক। মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত কারণে পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে, তাও অস্বাভাবিক নয়।সেক্ষেত্রে গ্রাহকগণ তুলনামূলকভাবে পানির সরবরাহ কম পাবে।
কিন্তু পানি সরবরাহ স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক যাই হোক না কেন কিছু কিছু অঞ্চল একেবারেই পানি শূন্য থাকবে তা মোটেও কাম্য নয়। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কম বেশি যাই হোক না কেন সব অঞ্চলই পানি পাবে, তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ কি একেবারেই অসম্ভব? সরবরাহ লাইনের ত্রুটি জনিত কারণে প্রান্তিক গ্রাহকগণ পানি না পেলে তার প্রতিকারমূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ জরুরী।
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রয়োজনে কোন কোন এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় সরবরাহের মাধ্যমে অর্থাৎ রেশনিং পদ্ধতি অবলম্বন করে হলেও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা গেলে তাও মন্দের ভাল। এক্ষেত্রে প্রান্তিক গ্রাহকদের পানি শূন্যতায় ভুগতে হবে না।এ সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন আরো নিচে নেমে যাবে, এ কথাটি মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থায় পানি সরবরাহের কথা চিন্তা করাব এখনই উৎকৃষ্ট সময়।
সময় যত গড়াবে সমস্যাও তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রকট হতে থাকবে।তাই আর বিলম্ব না করে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে।নদনদী বেষ্টিত নারায়ণগঞ্জে পানির উৎস হতে পারে এ সমস্ত জলাধার। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। সেখানে মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে সংক্ষুব্ধ হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।
পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ওয়াসার হাতে থাকাকালীন যত সমস্যাই থাকুক না কেন তা পূরণ না হলেও ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের তেমন কিছুই করার ছিল না। সিটি কর্পোরেশন যেহেতু জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত তাই তাঁদের দায়বদ্ধতা অনেক বেশি।এর অন্যথা হলে নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে।
বার বার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র মহোদয় বিষয়টি গুরুত্ব সহ বিবেচনা করলে তা হবে সকল পক্ষের জন্য স্বস্তিদায়ক।সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ পানি সরবরাহ সমস্যার সমাধানকল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটিই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী নগরবাসীর । লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


