ঘোষণায় সীমাবদ্ধ শামীম ওসমানের প্রত্যাশা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:১৯ এএম
# তার সাংসদীয় আসনে চলছে দেদারসে মাদক ব্যবসা
মাদক, খুন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ নানান কারণে এই নারায়ণগঞ্জ জেলার ধীরে ধীরে সুনাম, নষ্ট হওয়ার পথে। তবে এই সমস্যা সমাধানে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রতিনিয়নতই নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত হচ্ছে এক একটি এলাকা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাদকের স্পট ছিলো শহরের চাঁনমারি এলাকাটি তবে জেলা পুলিশ সুপারের প্রচেষ্টায় সেই স্পটটি বন্ধ হলেও মাদকের বিস্তার এখন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। আর এই মাদক নিয়ন্ত্রনে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান তার নির্বাচনী প্রচারনায় ঘোষনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জে তার সাংসদীয় আসনের এরিয়াতে কোন রকম মাদক তিনি আর দেখতে চান যেকরেই হোক না কেন তিনি তার এলাকার মাদক,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজ ভূমিদস্যু নির্মূল করার।
আর এই সকল কিছু নির্মূল করার জন্য প্রত্যাশা নামে এক সংগঠন খোলার ঘোষনা দেন আর যে সংগঠনে তার এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে মোট ৫০০ জন করে সদস্য থাকবে আর সেই সকল সদস্য হবেন সকল শ্রেনী পেশার মানুষ যার মধ্যে থাকবে, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,সরকারি চাকরীজীবি সহ নানান পেশার সুশিল সমাজের মানুষ।
শুধু তাই প্রত্যাশা সংগঠন নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রেগ্রাম করা হলেও মাদক ,সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রনে কাজে আসেনি শামীম ওসমানের প্রত্যাশা। তিনি গত দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর কয়েক মাস কেটে গেলেও মাদক নিয়ন্ত্রনে আশা তো দূরের কথা বিভিন্ন এলাকাতে বেড়েছে প্রচুর পরিমানে মাদক।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লাতেই প্রায় ১০ লক্ষ লোকের বসবাস জনসংখ্যা প্রায় লাখেরও বেশি এই সকল এলাকাতে কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ই দেখা যায় মারামারি হানাহানি সহ নানান রকম গণ্ডগোল আর এই গণ্ডগোল কোন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সাথে নয় প্রতিটা ঘটনাই স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে কোন ভাবেই এই কিশোর গ্যাং দের নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হচ্ছেনা।
শুধু তাই নয় সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাতেও এখন মাদকে ছয়লাব হয়ে গেছে। তবে নির্বাচনের সময় সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান। তবে নির্বাচনের পর মাদক, সন্ত্রাস নির্মূলে কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি এই সাংসদকে।
জানা যায়, মাদক সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারন মানুষ কথা বললেও কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছেনা বরং দিন দিন বেরেই চলছে মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের দৌড়াত্ব। ফতুল্লার প্রতিটি অলিতে গলিতে এখন মাদকের ছড়াছড়ি আর এই সকল মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং এর সদস্য।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক অনেক নেতার আছে শিশু-কিশোর গ্যাং বাহিনী। এরা এদের দিয়ে মিটিং মিছিল, নানা অপকর্মসহ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করেন। বেশ করে ইট-বালি, সিমেন্টসহ বাড়িঘর তৈরি করার উপকরণ নিয়ে এই কিশোর গ্যাং দিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করায়।
ফতুল্লার প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় এখন এই কিশোর অপরাধীদের আতংক, চুরি, ছিনতাই, মারামারি, মাদক চাঁদাবাজি, গুম খুনের মত ঘটনাও ঘটেছে এই কিশোর অপরাধীদের নিয়ে । অনেক আবার নেতার নাম ব্যবহার করে অবাধে চলছে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজার মত মাদক ব্যবসা, চলছে বিভিন্ন মাদক স্পষ্ট।
এদের থেকে মাসিক মাসোহারা নিয়ে এই কিশোরদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে মাদক। করানো হচ্ছে নানা অপরাধমূলক কাজ। তাছাড়া ডিস, নেট ব্যবসাও এখন এই কিশোর অপরাধীদের হাতে। এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করেও হয়েছে একাধিক মারামারির ঘটনা। কে কার ডিস নেট দখল করতে পারে এই কিশোর অপরাধীরাসেটাই করে।
বিশেষ করে ফতুল্লায় এখন পাড়া মহল্লাতে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। প্রতিটি এলাকাতে মাদক কারবারিদের সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যা সামলাতে ফতুল্লা থানা পুলিশকে অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে অনেকেই মনে করছেন শামীম ওসমানের প্রত্যাশা আসলেই কি কোন ধরনের কাজ করবে মাদকের বিরুদ্ধে আর কবেই না মাঠে নামবেন এই প্রত্যাশা নামে সংগঠনটি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


