এ বছর পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে সারাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাঝারি থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় চলেছে রেকর্ড ভাঙা গড়ার খেলা। বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিলে মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও এ বছর তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি দীর্ঘ হবে বলে জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। হয়েছেও তাই।
তবে শুধু এপ্রিল নয়, এ বছর মে মাসেও তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে বলে আগেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। পূর্বাভাস সত্যি করে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। এমনকি এ বছর বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে শুধু বাংলাদেশে নয়, এ বছর প্রতিবেশী ভারতসহ এশিয়ার বেশকিছু দেশে অতিরিক্তি গরম পড়েছে। হিট স্ট্রোকসহ গরমজনিত রোগে মৃত্যুও ঘটেছে বেশকিছু মানুষের।
অতিরিক্ত এই গরমের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সহসাই এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলছে না, বরং আগামী বছরগুলোতে এশিয়ার দেশগুলোতে তাপপ্রবাহ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। যা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সম্প্রতি আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন ও রেডক্রস ক্লাইমেট সেন্টার থেকে যৌথভাবে প্রকাশ করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ মে) জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থা (ইউএনওসিএইচএ) থেকে এশিয়া অঞ্চলের চলমান তাপপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশ করা প্রতিবেদনেও ওই গবেষণার ফলাফলকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।
ইউএনওসিএইচএর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পর্যবেক্ষণের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬টির অধিবাসীরা তাপপ্রবাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এরই মধ্যে দেশের ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে তা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে অন্তত ১০ লাখ মানুষের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হিসাব মিলিয়ে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের কারণে অনেক মানুষ পানিশূন্যতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরে ভারসাম্যহীনতা, বমি, জ্বর, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।
এতে আরও বলা হয়, গত এপ্রিলের মতো চলমান মে মাসেও বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনে তাপপ্রবাহ চলছে। তাপপ্রবাহের ফলে এসব দেশের কৃষিকাজ থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সেচের পানির ঘাটতির পাশাপাশি পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়েছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


