এ বছর নগরীতে পশু জবাইয়ের নেই কোনো নির্দিষ্ট স্থান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০২ পিএম
প্রতিবছর নগরীরতে পশু কোরবানি হয় কয়েক লাখ। বেশিরভাগ কোরবানিদাতাই বেছে নেন নিজের বাড়ির সামনের সড়ক, গ্যারেজ কিংবা পার্শ্ববর্তী খোলা জায়গা। এতে বেশিরভাগই থাকে না কোনো শৃঙ্খলা কিংবা পরিচ্ছন্নতার। রক্ত আর কোরবানির জবাইকৃত পশু বর্জের কারনে সয়লাব হয়ে পড়ে পুরো নগরী। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই।
পুরো নগরীর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এ কারনে পরিচ্ছন্ন-স্বাস্থ্যকর নগরী নিশ্চিতে গতবছর সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের কোরবানির পশু জবাইয়ের নিদির্ষ্ট জায়গা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এই উদ্যোগে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি নগরবাসীর।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন নগরবাসী জানান, গতবছর যে সিটি করপোরেশন থেকে জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল এই কথাটি অধিকাংশ মানুষ জানে না। এছাড়া নির্ধারিত জায়গা থেকে বাড়ির কাছের সুবিধা বেশি বলে মনে করেন তারা। কারণ হিসেবে তারা বলেন, দেখা যায় নির্ধারণ করা জায়গা থেকে আমাদের বাড়ি কিছুটা দূরে। ফলে মাংস আনা কঠিন। এ জন্য হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ কম ছিলো।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের একাধিক কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে জানা য়ায়, সিটি করপোরেশন থেকে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হয়নি। যে যার মতো নিজেদের বাড়ির আঙ্গিনায় নয়তো রাস্তায় পাশে পশু জবাই করে। কেননা গতবছর যে জায়গা গরু জবাই করার জন্য বলা হয়েছিলো। সে জায়গায় অধিকাংশ কোরবানিদাতার আসে নি। হাতে গোনো কয়েক জন ছাড়া। তাই এবছর আমাদের কিছু বলে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ১৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির যুগের চিন্তাকে জানান, গত বছর সিটি করপোরেশন থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানির পশু জবাইয়ের কথা বললেও এবছর তেমন ভাবে কিছু বলা হয় নি। কারন গত বছর এতো টাকা খরচ করে প্যান্ডেল করেছিলাম আমি আমার ওয়ার্ড কিন্তু কোনো মানুষের সাড়া পায়নি।
মাত্র দুটি গরু জবাই হয়েছিলো নির্দিষ্ট জায়গায়। আর সবাই যে যার মতো নিজেদের পছন্দ মতো স্থানে কোরবানির পশু জবাই দিয়েছে। তাই এবছর সিটি করপোরেশন থেকে নিদির্ষ্ট জায়গার বিষয়ে কিছু বলা হয় নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্যাণেল মেয়র ১ ও ১৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু যুগের চিন্তাকে জানান, এবার এই রকম কোনো কোরবানির পশু জবাই দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি। তবে যার যার এলাকার দায়িত্ব প্রতিটি কাউন্সিলরদের দেওয়া হয়েছে।
এবং সবাইকে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাক্তিগত ভাবে বলতে গেলে আমার ওয়ার্ডের জন্য আমি ঈদেরদিন সকাল থেকে কর্মী এবং যা যা করণীয় সকল ব্যবস্থা সম্পূণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ফুড এন্ড স্যানিটেশন অফিসার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন যুগের চিন্তাকে জানান, গতবছর সরকারি ভাবে বলা হয়েছিলো বলে আমরা নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু গতবছর এ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় না থাকার কারনে এ বছর আমরা কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে দেইনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র পাল এবং মোহাম্মদ আবুল হোসের এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন কলটি রিসিভ করেননি। এন. হুসেইন রনী /জেসি


