নিখোঁজ-নিহতের তালিকা করার তথ্য সঠিক নয়: ফায়ার সার্ভিস
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০৯:০৫ পিএম
# ২১ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে
রূপগঞ্জে গাজী টায়ার কারখানায় আগুনে নিহত ও নিখোঁজদের তালিকা করা হয়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তর। গতকাল সোমবার (২৬ আগস্ট) ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘গাজী টায়ার কারখানায় আগুনে ফায়ার সার্ভিস নিহতের তালিকা করছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যম তথ্য প্রকাশ করেছে।
এটি সঠিক নয়। ফায়ার সার্ভিস নিহতের বা নিখোঁজের কোনো তালিকা করছে না। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’ ফায়ার সার্ভিস জানায়, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ফোন নম্বর ফায়ার সার্ভিসকে দিয়ে কোনো ভিকটিম পাওয়া গেলে তাদের জানানোর অনুরোধ করেছেন মাত্র।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষক) লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল করিম বলেন, ‘ভিক্টিম লিস্ট তৈরির দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের। আগুন নির্বাপণ করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। ভিক্টিম লিস্টের দিকে আমাদের নজর নেই। আমরা সকাল পর্যন্ত ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছি। তাদের স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
কারখানার প্রধান ফটকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তালিকা করছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে ব্যাপারে কোনো তথ্য আমার জানা নেই। কেউ তালিকা করে থাকলে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। কেননা আমিও কিছুটা সন্দেহের মধ্যে পড়ে গেছি যে (তালিকা করার) এ তথ্যটা আপনাদের কে দিল। আমরা তো কখনো কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তালিকা করি না।’
প্রসঙ্গত, রূপগঞ্জ উপজেলার রুপসী এলাকায় অবস্থিত সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর মালিকানাধীন গাজী টায়ার ফ্যাক্টরিতে দ্বিতীয় বারের মতো আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত (২৫ আগস্ট) রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফ্যাক্টরির ভেতরে থাকা ৬ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনে আগুন লাগার সোমবার (২৬) আগস্ট সোমবার বেলা ৩ টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট টানা কাজ করেন। ২১ ঘণ্টা পর সোমবার (২৬ আগস্ট) রাত ৭টা ০৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। লে. কর্নেল মো. রেজাউল করিম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
হতাহতের বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন নিখোঁজের তালিকা করছেন। আমরা উদ্ধার কাজ এখনো শুরু করতে পারিনি কারণ ভবনটিতে অস্বাভাবিক আগুনের তাপ রয়েছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেই উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীরের মালিকানাধীন রূপসী এলাকায় গাজী টায়ার কারখানা ও কর্ণগোপ এলাকায় গাজী পাইপ এবং ট্যাংক কারখানা রয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত ০৫ আগষ্ট স্বৈরাচারি আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শত শত লোকজন ও লুটপাটকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে রূপসী এলাকায় গাজী টায়ার কারখানা ও কর্ণগোপ এলাকায় গাজী পাইপ এবং ট্যাংক কারখানায় প্রবেশ করে ভাংচুর ও মালামাল লুটপাট শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ওই দুটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে রূপগঞ্জের নবকিশোলয় হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোমান মিয়া হত্যা মামলার আসামী গোলাম দস্তগীর গাজীকে ঢাকার শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার এবং নারায়ণগঞ্জ আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ খবরের পরই রোববার সন্ধ্যার দিকে কয়েক শতাধীক লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে রূপসী গাজী টায়ার কারখানার সামনে ও ভেতরে ঢুকে পরে। ওই ভবনে ক্যামিকেল ও টায়ার তৈরির কাঁচামাল ছিলো। ভবনের ভেতরে লুটপাট নিয়ে দুটি পক্ষের মাঝে হাতাহাতি ও মারপিটেয়র ঘটনা ঘটে। এসময় একটি পক্ষ ভবন ত্যাগ করলে ভবনের প্রবেশ গেট বন্ধ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে পুরো ভবনে আগুন লেগে যায়। এসময় আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আগুনের লেলিহান শিখা ৬০ থেকে ৮০ ফুট উঁচুতে উঠে পড়ে।
ভয়াবহ এই আগুনে কারখানার আশ-পাশের মার্কেট, হাটবাজার, শিল্প কলকারখানা এবং এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃংখলাবাহিনী, বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন । এন. হুসেইন রনী /জেসি


