# শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে : মিজানুর রহমান
# অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিৎ : শরীফ উদ্দিন সবুজ
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড কিংবা শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ যেটাই বলেন না কেন, শিক্ষা ব্যবস্থা যে একটি দেশ একটি জাতির জন্য অত্যন্ত আবশ্যকীয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ বা দুর্বল করার মাধ্যমে ধ্বংস করা যায় একটি জাতিকে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের নামের এক অদৃশ্য ভাইরাসের ভয়ে প্রায় দুই বছর যাবত থমকে আছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। এর ফলে একটি জাতি গঠনের জন্য শিক্ষার্থীদের যে তিনটি যোগ্যতা অর্জন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ তাদের শারীরীক, মানসিক ও নৈতিক যোগ্যতাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন এখনকার এই সমস্যাটা বুঝা না গেলেও ১০ থেকে ১৫ বছর পর ঠিকই জাতির উপর এর প্রভাব পড়বে। এখন থেকেই বিকল্প একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে দেশ ভভিষ্যতে একটি স্কিল ও মেধাশূন্য জাতি পাবে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। যদিও শিক্ষা বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে জীবনের জন্য লেখা পড়া, লেখা পড়ার জন্য জীবন না। কিন্তু সচেতন মহলের মতে শুরুর দিকে মানুষের মনে করোনা ভাইরাসের যে ভীতি ছিল তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত কার্যকর করার জন্য এখন সরকারকে খুব এখই কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বাঙ্গালী জাতি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে টানা প্রায় দুই বছর যাবত বন্ধ আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যা একটি জাতির জন্য একটি অশনি সংকেত। যদিও ভাইরাস থেকে সৃষ্ট সমস্যার কারণে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় কাজসহ বিভিন্ন কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে তার অনেকটা মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য সবকাজ অল্প পরিসরে করা গেলেও শিক্ষা গ্রহণ একেবারেই থমকে গেছে। যদিও অনলাইন ক্লাস নামে কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। তবে আমাদের মতো সামাজিক ব্যবস্থা এবং আমাদের দেশের মতো ধীরগতির ইন্টারনেট ব্যবস্থা সম্পন্ন দেশের জন্য এটা কোন ভূমিকাই রাখতে পারছে না বলে মনে করেন তারা। বাংলাদেশে মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ ১৭ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক খোলা হলেও আবার দেখা দিয়েছে করোনার নতুনরূপ অমিক্রন আতঙ্ক। যার ফলে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা কি সব সমস্যার সমাধান কি না এটা এখন ভাবার বিষয় বলে জানান, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সচেতন মহল। এখন সরকারী বিশেষ নজরদারির মাধ্যমে সকল বিধিনিষেধ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল। কারণ বিদ্যালয় ছাড়া বিনোদন বেড়ানোসহ সবধরণের কাজই চলছে বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝছি তাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আরও কিছু দিন বন্ধ থাকলে বিদ্যালয় চালু করার পর তাদের এই মান উন্নয়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এখানকার দুএকটি প্রতিষ্ঠান আছে তাদের পক্ষে হয়তো কিছুটা সম্ভব হবে। অন্যান্যদের বিদ্যালয় খুলতে যত বিলম্ব হবে ততই তারা বিপদে পড়বে। বিদ্যালয়ে আসলে সবার সাথে মিশলে শিক্ষার্থীদের যে মানসিক বিকাশ ঘটে সেটা একেবারে জিরো হয়ে গেছে। এর ফলে এরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতে এর সুদুর প্রসারী প্রভাব পড়বে। স্কুলে না এসে বাচ্চারা একেবারে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি মনে করেন স্কুলগুলো বন্ধ থাকার কারণে এখন তারা বেড়ানোসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আরও বেশি বিপদজনক। স্কুল খোলা থাকলে তারা একটা জায়গায় সময় কাটাতে পারতো। সপ্তাহে একদিন ক্লাস চললে বিশেষ তদারকির মাধ্যমে স্বাস্থবিধি নিশ্চিত করে চালানো সম্ভব। এতে ক্লাসের মাধ্যমে লেখাপড়ার সাথে শিক্ষার্থীদের একটি সম্পর্ক থাকতো। এর প্রভাব বাসায়ও পড়তো এবং মানসিক বিপর্যয়ের হাত থেকে অনেকটা দুরে থাকতো। তিনি বলেন স্কুলে এখন পর্যন্ত ৫ম শ্রেণির কোন বই আসেনি। তাই লেখা পড়ার সাথে তাদের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কোন সম্ভাবনাই থাকছে না।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ টিভি’র চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘স্কুলগুলো কোন অবস্থায়ই বন্ধ রাখা উচিৎ না, অবিলম্বে খুলে দেওয়া উচিৎ। করোনাকে বিশ্ব বাণিজ্যের অংশ হিসেবে একটি অপ-প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা একটি সাধারণ রোগ। করোনার অজুহাতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট বয়সের আগেই শিক্ষার্থীরা মোবাইল, ল্যাপটপ অর্থাৎ ডিভাইস এডিক্টেড হয়ে যাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট বয়সের আগে শিক্ষার্থীদের হাতে এন্ড্রয়েড ফোন দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এখন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাচ্চাদের হাতেও বাধ্য হয়ে মোবাইল তুলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ম্যাচুয়েরিটি তৈরি হওয়ার আগেই তাদের হাতে ফোন তুলে দেওয়ায় তারা মন্দ দিকেই এর ব্যবহার করছে বেশি।’


