Logo
Logo
×

শিক্ষা

কার স্বার্থে প্রিপারেটরি স্কুলের নাম পরিবর্তন করলেন জেলা প্রশাসক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৪১ পিএম

কার স্বার্থে প্রিপারেটরি স্কুলের নাম পরিবর্তন করলেন জেলা প্রশাসক
Swapno

 

# শহরবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিন্দার ঝড়
# নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে আজ মানববন্ধন

 

অর্ধশতাধিক বছরের পুরোনো বিদ্যাপীঠ নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলের নাম আকস্মিকভাবে পরিবর্তন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে নিন্দার ঝড় বইছিল। এছাড়া আকস্মিকভাবে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ইতিহাসের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়াতে সর্বমহল থেকে নিন্দা এবং প্রতিবাদও শুরু হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নাম না পরিবর্তন করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি প্রদান করেন। তবে এখনো নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবহনকারী এই স্কুলটির নাম পরিবর্তন হয়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দেয়া সেই নারায়ণগঞ্জ কালেক্টরেট প্রিপারেটরী স্কুল নামই রয়ে গেছে। ফলে শহরের মানুষ ও এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দানা বেধেছে। যার ফলশ্রুতিতে এই ঐতিহ্যবাহী প্রিপারেটরী স্কুল এর নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

 

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৫ সালে আবদুল ওয়াহিদ আদমজীর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মিসেস পিটার হাবার্ড এর নেতৃত্বে ক্যাপ্টেন ডাব্লিউ এফ রহমান নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের প্রয়াত প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা জালাল এই স্কুলের জায়গা সম্প্রসারণসহ তার মেধা ও অক্লান্ত শ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি দায়িত্ব পালনকালে এই স্কুলের ফান্ডে ৪ কোটি টাকা রেখে যান। এছাড়া স্কুলের অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয়টির একটি ভবন প্রয়াত প্রধান শিক্ষিকা ‘আয়েশা জালাল ভবন' নামে নাম- করণের শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়ে আসছিল।

 

কিন্তু উক্ত ভবনটি সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব রাব্বী মিয়ার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এতে করে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের মাঝে এক প্রকার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎ আকস্মিকভাবে ২০২২ সালের সেপটেম্বর মাসের দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ কালেক্টরেট প্রিপারেটরী স্কুল' নামকরণ করা হয়। এতে করে স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সমগ্র নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এবং নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। নতুন এ নামকরণের ফলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস বিকৃত হতে যাচ্ছে।

 

তবে এই নাম না পরিবর্তন করার বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের বরাবর চিঠি দিয়েও কোন সুরাহা পায়নি। এভাবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের নাগরিক এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নাম না পরিবর্তনের প্রতিবাদে মানবন্ধনের ডাক দিয়েছে। আর এই মানবন্ধনে তিনটি দাবি উঠে এসেছে দাবিগুলো হল ‘নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল’ এর নাম পরিবর্তন না করা; স্কুল ভবনটি প্রয়াত প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা জালাল এর নামে নামকরণ করা; স্মৃতি বিজড়িত পুরাতন ভবনটি সংরক্ষণ করা।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম জানান, জেলা প্রশাসক এটা অন্যায় কাজ করছে। এই বিদ্যালয়টিতে আমাদের নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য বিরাজ করে। আসলে বিষয়টি হচ্ছে প্রিপারেটরি স্কুলের যে ঐতিহ্য সে ঐতিহ্যকে খর্ব করেছে জেলা প্রশাসক এটা জেলা প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত কোন বিষয় না এটা জেলা প্রশাসনের সম্পত্তিও না এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না। এটা নারায়ণগঞ্জের খুবই ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠান এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থীরাই সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত আমাদের মেয়র এখানকার শিক্ষার্থী ছিল।

 

জেলা প্রশাসনকে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষরা যখন বলল প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীরা যখন বলল এটা পরিবর্তন করেন জেলা প্রশাসন এই মুহুর্তে কোন উত্তর না দিয়ে চুপচাপ থাকার বিষয়টা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না এটা আমরা মানতেও পারি না। আমি বলতে চাই কালকে মানবন্ধন হবে নারায়ণগঞ্জবাসী একত্রিত হব। আর কালেক্টরেট বলতে যে শব্দ এখন অচল এই শব্দ কোন জায়গায় নাই। ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধীকারী সূত্রে প্রাপ্ত একটি স্কুল যেটা জেলা প্রশাসক চেয়ারম্যান ছিল এবং জেলা প্রশাসকের কর্তৃক পরিচালিত স্কুল এটা আগের সাইনবোর্ডেও লিখা ছিল।

 

তারপর এটাকে পরিবর্তন করে কালেক্টরেট স্কুল করা হয়েছে আগের যে সাইনবোর্ড সেটা দেখলেই বুঝা যাবে কি লিখা ছিল। কিন্তু এখনকার এই অবস্থা থেকে আমরা পরিবর্তন চাই। জেলা প্রশাসক যদি নাম পরিবর্তন না করে আমার মতে আমরা সমস্ত নাগরিক সমাজ এই সাইনবোর্ড নামিয়ে দিয়ে নতুন করে আগের যে সাইনবোর্ড ছিল সে সাইনবোর্ড লাগানোর পক্ষে থাকব। জেলা প্রশাসককে বলব আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন তাহলে শ্রদ্ধা পাবেন আর নতুবা এটা নিয়ে আমরা কোন বিরোধ করতে চাই না এটা আপনাদের কিছু না এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর সম্পত্তি সুতরাং স্কুলের নাম নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলই থাকবে।

 

এ বিষয়ে  সিনিয়র সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজ জানান, এই শহরে অনেক মানুষের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে তোলারাম শেটের নাম তোলারাম কলেজ তোলারাম শেটের জায়গায় মহিলা কলেজ তৈরী হয়েছে নাজিউদ্দিন ভূইয়ার নামে নাজিউদ্দিন ভূইয়া কলেজ হাজী উজির আলীর নামে হাজী উজির আলী স্কুল এন্ড কলেজ এরকম অনেক শিক্ষাঅনুরাগী বড় হৃদয়ের মানুষ ধন সম্পত্তি দান করেছে শিক্ষাঅনুরাগী ছিলেন তাদের নামে অনেক কিছু তৈরী হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলে নারায়ণগঞ্জ  জেলা প্রশাসকের কি অবদান আছে। আর এই স্কুলেন নাম কালেক্টরেট ভবন নাম দিয়েছে এই স্কুলের সম্পত্তির তাদের না এইটা তো আরেকজনের সম্পত্তি কেনা সম্পত্তি তাদেরকে দায়িত্ব দেয়া আমানতদার তারা এই জায়গার আমানত রেখেছে তাদের কাছে যে সভাপতি হিসেবে ভালভাবে পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

 

আর এই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আয়শা জালাল ৩৮ বছর এই স্কুলে শিক্ষকতা করেছে আর এই  ৩৮ বছর শিক্ষাগতা করতে গিয়ে তিনি ৪ কোটি টাকা স্কুলের ফান্ডে রেখে গেছেন এইরকম মহৎ মানুষ কোথায় পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকা স্কুলের জন্য রেখে যায় এটাতে হাত দেয় না। আর এই আয়শা জালালের পর যেসব প্রধান শিক্ষক জেলা প্রশাসকরা নিয়োগ করছে তারা কিন্তু স্কুলের ফান্ড বাড়াতে পারেনি উল্টো স্কুলের ফান্ড কমছে। আর যে ভবনটি করেছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি এই ভবনটি আয়শা জালালের নামে নামকরণ করা হোক যে জায়গার মধ্যে ডিসি রাব্বি মিয়া নামকরণ করা হয়েছে।

 

এগুলো হতে পারে না ডিসিদের যে মনমানিসকতা তারা নারায়ণগঞ্জে আসে প্রশাসক হিসেবে নিজেদের তারা জমিদার মনে করে তারা মানুষের সেবক তারা জমিদার না এইরকম মানসিকতা তাদের পরিবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (এনইউজে) আবদুস সালাম জানান, একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুল প্রায় ৭০ বছর হয়েছে এই স্কুলের। এই প্রিপারেটারির আকস্মিকভাবে নাম পরিবর্তন করা এটা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কখনো মেনে নিতে পারবে না। কালেক্টরেট স্কুল একটা আছে মিশন পাড়ায় এটাকে কেন কালেক্টরেট স্কুল করবে আমরা জেলা প্রশাসককে বলছি আপনারা কালেক্টরেট স্কুলকে আরো বড় করে বানিয়ে দেন সেখানেই করেন।

 

কিন্তু এটার মধ্যে আপনারা হাত দিবেন না ভিতরে একটা ভবন হয়েছে রাব্বি মিয়া ভবন এটা কি ধরণের রাব্বি মিয়া কি নিজের টাকায় ভবন করেছে ভবন হয়েছে স্কুলের টাকায় সেটার নাম রাব্বি মিয়া দিয়ে দিছেন। আপনি স্কুলের নাম কালেক্টরেট দিয়ে দিবেন এগুলো নিয়ে খেলাধুলা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু জেলা প্রশাসন যে নাম পরিবর্তন করে ফেলল এটা অনুচিত। এটা যদি এমপিও করতে হয় এমপি করতে নাম পরিবর্তন লাগে না এমপিও যেকোন স্কুলের হতে পারে স্কুলের নাম পরিবর্তন করে এমপিও করতে হবে এমন কথা না। এটাকে আমরা নিন্দা জানাই। তবে প্রিপারেটরি স্কুলের নাম প্রিপারেটরি রেখে এমপিও করা হয় এতে আমাদের আপত্তি নাই।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন