Logo
Logo
×

শিক্ষা

ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন জেলা প্রশাসক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০৫ পিএম

ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন জেলা প্রশাসক
Swapno

 

# কেন এত বড় স্পর্ধা প্রশাসনের : মেয়র আইভী

 

অর্ধশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন নিয়ে জেলা প্রশাসকের উপর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা গতকাল স্কুলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের একচ্ছত্র স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে তারা শক্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। আকস্মিকভাবে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করে কালেক্টরেট শব্দ যুক্ত করায় বর্তমান জেলা প্রশাসক এবং স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে অদক্ষ অযোগ্য আখ্যা নিয়ে তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে অপসারণের দাবিও জানানো হয়েছে মানববন্ধন থেকে। আর সেটির মুখোমুখি না হতে চাইলে অবিলম্বে কালেক্টরেট শব্দ বাদ দিয়ে পূর্বের নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুল নামের সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে প্রশাসনকে।

 

গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফ উদ্দিন সবুজ, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, অসিত বরণ বিশ্বাস, প্রাক্তন ছাত্র আফজাল হোসেন পন্টি, আহসান সাদিক প্রমুখ।

 

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে এই স্কুলের কেন্দ্রে এসে যখন দেখলাম ডিসি রাব্বি ভবন তখন প্রধান শিক্ষককের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জানান এই স্কুলের নামে ফান্ডে আয়েশা জালাল যে টাকাগুলো রেখে গেছে সেই টাকাতেই এমন নামকরণ হয়েছে। আমি তখনই প্রতিবাদ করেছি, এটা অনুচিৎ কাজ হয়েছে। ডিসি রাব্বি টাকা এনে দেন নাই আর যদি এনেও দিত তবে সরকারের নামে নামকরণ হবে তার ব্যক্তিগত নামে হওয়ার কথা নয়। অথবা আয়েশা জালাল, ক্যাপ্টেন রহমানের নামে হতে পারতো, ডিসি রাব্বি মিয়া হতে যাবে কেন?  

 

তিনি জেলা প্রশাসকের সমালোচনা করে বলেন, ডিসি সাহেবরা আসেন আমাদের জেলার সেবা করার জন্য। ডিসি সাহেবদের কাজ তো আর স্কুলের নাম চেঞ্জ করা নয়। যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে। সেই স্কুলের ইতিহাস ঐতিহ্য কোন কিছু না জেনে কিভাবে এইরকম একজন বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক যার সাথে আমার অত্যান্ত সুসম্পর্ক উনি নিজেও জানেন আমি এই স্কুলের স্টুডেন্ট শুধু আমিই না বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বহু লোকজন আছে, যারা এখনো প্রশাসনের অনেক স্তরে এই স্কুলের স্টুডেন্ট রয়েছে এরপরেও এমন কাজ করতে পারেন।  

 

আমাদের নারায়ণগঞ্জের মিসেস ওসমান লিপি ওসমান এই স্কুলের স্টুডেন্ট, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি মানু এই স্কুলের ছাত্র অথচ তাদের একজনও এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করল না। কিভাবে নাম পরিবর্তন করল জেলা প্রশাসক। আমি প্রচণ্ডবে তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছি ক্ষোভ জানাচ্ছি। মেয়র আইভী বলেন, মনে দুঃখ নিয়ে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন যা মন চায় তাই করে কেন এত বড় স্পর্ধা প্রশাসনের? কেন কারণ আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্বলতার কারণে আমরা সবায় চুপ হয়ে গেছি।

 

আমাদের প্রেসক্লাব চুপ, আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসী চুপ, নাগরিক সমাজ চুপ, আমরা সকলেই কেন জানি চুপ হয়ে যাই। আমরা জানি আপনারা প্রতিবাদ করেন যখন বিদ্যুৎের দাম বেড়ে যায়, গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, পানির দাম বেড়ে যায় সেখানেই স্বোচ্চার হয়ে যান। কিন্তু আমাদের আরো অনেক ব্যাপারে স্বোচ্চার হতে হবে হওয়া উচিত কিন্তু এটা আমরা করি না। আর করি না বলেই নারায়ণগঞ্জে যখনই কোন জেলা প্রশাসক আসে যখনই প্রশাসনের অন্য কেউ আসে তারা তাদের মত করে কাজ করে আর তারা একটি জিনিস নিয়ে আসে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ভাল না গ্রুপিং আছে।

 

মেয়র আইভী বলেন, আমি জানতে চাই ৬৪ জেলার মধ্যে কোথায় গ্রুপিং নাই। আর এই নারায়ণগঞ্জ আসলে কেন গ্রুপিংয়ের ভয়টা কেন? আপনারা প্রশাসন তাদের সুবিধার্থে, তাদের স্বার্থে এই গ্রুপিংটা চাঙ্গা করে রাখেন। এই স্কুলটি আমাদের প্রচন্ড আবেগের জায়গা। যার জন্য আমাদের এই মানববন্ধনে আমাদের সুস্পষ্ট তিনটা দাবি জানাতে চাই। ডিসি রাব্বি ভবন চেঞ্জ করে এখানে আয়েশা জালাল ভবন করতেই হবে। দ্বিতীয়ত ক্যাপ্টেন রহমানের নামে যেকোন একটা অডিটরিয়াম দিতেই হবে। সর্বপ্রথম যিনি সভাপতি ছিলেন এইচ টি ইমামের একটি প্রতিকৃতি করতেই হবে। এছাড়া আমাদের স্মৃতি বিজড়িত স্কুলের পুরনো ভবনটি আমরা ভাঙতে দিব না, এই স্কুলটা আমরা সংরক্ষণ করব। এটার কারণ ডিসির জানার দরকার নাই।

 

আমরা প্রাক্তন স্টুডেন্টরা সংরক্ষণ করব, দরকার পড়লে পাঁচ টাকা-দশ টাকা তুলে এই ভবনটা সংরক্ষণ করব এই ভবনকে আমরা ভাড়া দিতে দিব না ভাঙতেও দিব না। তবে যেকোনভাবেই হোক যেকোন মূলেই হোক এই কালেক্টরেট শব্দটি বাদ দিতে হবে। আজকে আমরা একত্রিত হয়েছি দাবি উত্থাপন করেছি যদি আমাদের দাবিগুলো না হয় আপনারা কে আসবেন না আসবেন আমি জানি না, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আমি এই স্কুলের নাম উঠিয়ে ফেলব। আমিনা জালালের নাম দিব, ডিসি রাব্বি মিয়া ভবনের নাম রাখব না। কিন্তু আজকে অত্যান্ত বিনয়ের সাথে প্রশাসনকে অনুরোধ করব এই কাজগুলো করতে আপনারা নারায়ণগঞ্জবাসীকে বাধ্য করবেন না।

 

আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জ আন্দোলনের সূতিকাগার এইখানে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে এই আদমজী জুট মিল না থাকলে শ্রমিকরা না থাকলে আন্দোলন চাঙ্গা হত না। এখানে অতীতে অর্থনীতিতে রাজনীতিতে সারা বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জের ওপর নির্ভর করে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেমন সহজ সরল নারায়ণগঞ্জের মানুষ সবকিছুতে নমনীয় তদ্রুপ নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখন গর্জে উঠে তাহলে কি অবস্থা হয় ইতিপূর্বে আপনারা দেখেছেন, ত্বকী হত্যা নিয়ে এই শহরে যে আন্দোলন হয়েছে।

 

ডিসি রাব্বি সাহেব আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, আপনি সরকারের একজন কর্মচারী আমাদের টাকায় এখনো আপনার বেতন হয়। আপনার যদি মন চায় আপনার জেলাতে গিয়ে আপনি বিশাল একটি ভবন করে দিয়ে আপনার নাম দেন, নারায়ণগঞ্জে শহরে আপনারা কি চান? আমাদের সার্ভিস দিতে আসছেন আমাদের সার্ভিস দেন, এর বেশী কিছু করার চেষ্টা করবেন না যদি করতে চান, তাহলে আমাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। যাই হোক অত্যান্ত ভদ্রভাবে সম্মানের সহিত আপনাদের বলে গেলাম, যদি নামটি সরিয়ে না নেন আমি নিশ্চয়ই বাধ্য হব আমরা বাধ্য হব, নারায়ণগঞ্জবাসী বাধ্য হবে, আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকাতে।

 

ঐতিহ্য-ইতিহাস, আবেগকে সম্মানকে আঘাত করেছেন সে আঘাত কোন ভাবেই সহ্য করা হবে না। পাকিস্তানী কায়দায় আপনি নারায়ণগেঞ্জর মধ্যে এই কাজটি করেছেন। পাকিস্তানীরা একদম রাতের আঁধারে সকলের অজান্তে বাঙালীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আপনিও ঠিক রাতের বেলা সকলের অজান্তে এই নামটি পরিবর্তন করে আমাদেরকে চরমভাবে অপমানিত-অসম্মান করেছেন। যেখানে গত সপ্তাহেও আপনার সাথে আমার দেখা হল, আমি আপনাকে বললাম প্লিজ নামটা চেঞ্জ করবেন না। সেখানে আজকে এসে জানতে পারলাম, আপনি নাকি রাতের আঁধারে নামটা চেঞ্জ করেছেন। আপনি যদি রাতের আঁধারে নামটা চেঞ্জ করতে পারেন দিনের প্রকাশ্যে আলোতে আপনার এই নাম ঘুরিয়ে দেয়ার মত শত শত এই স্কুলের প্রাক্তনরা এইখানে মজুদ আছে।  

 

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, যখন প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তখন আমি প্রথম একটি স্ট্যাটাস দিলাম এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করতে দিব না। সেখান থেকেই শুরু আজকে শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে তাদের আবেগের জায়গায় স্কুল এই আবেগের জায়গা আমরা ছাড়া কারো অধিকার নাই।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বর্তমানে যিনি সভাপতির দায়িত্বে আছেন তার সাথে কথা বলছি তিনি গত ০২/১২/২২ তারিখে আমাদের বলেছেন ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর তিনি আমাদের সাথে বসবেন। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসক এবং প্রধান শিক্ষক রাতের আধারে এই কালেক্টরেট নামের অনুমোদন নিয়ে এসেছেন। আমরা বলতে চাই প্রিপারেটরী স্কুল কোন জেলা প্রশাসকের না এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর আবেগের জায়গা। এই স্কুল ঘিরে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আবেগের জায়গা।

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক কিভাবে প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন করে এটা জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাই এবং দ্রুত এই জেলা প্রশাসকের নারায়ণগঞ্জ থেকে অপসারণের দাবি উত্থাপন করতে চাই। প্রিপারেটরী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতাদের নিয়ে এখানে নানান কথা বলা হয়েছে ক্যাপ্টেন রহমান এই স্কুলের অন্যতম উদ্যেক্তা। এই জায়গা তিনি দিয়েছেন । আদমজী জুট মিলের জায়গা শুধু তাই নয় এইচ টি ইমাম এই স্কুলের দীর্ঘদিন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনিও এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন।

 

এই উত্তরাধীকারী সূত্রে আজকে জেলা প্রশাসক এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি দায়িত্ব পালন করছেন। এই অদক্ষ-অযোগ্য জেলা প্রশাসক কালেক্টরেট শব্দটি ব্যবহার করেন এমপিভুক্ত করতে। কালেক্টরেট শব্দটি ব্যবহার করতে হবে বাংলাদেশের কোন স্কুলটি আছে, আইন আছে, কালেক্টরেট নামকরণ না হলে এমপিওভুক্ত হয় না। কালেক্টরেট স্কুলের জন্য একটি জায়গা দেয়া হয়েছে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া নিজে একটি জায়গা নিয়েছেন, সেখানে একটি ভবন আছে সেখানে কালেক্টর স্কুল করা আছে।

 

কিন্তু কি উদ্দেশ্যে কি কারণে এই ঐতিহ্যবাহী প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হল এটা আমরা জানতে চাই এবং জেলা প্রশাসনকে পারে না একটি স্কুলের নাম পরিবর্তন করতে এবং রাতের অন্ধকারে জেলা প্রশাসক যে কাজটি করেছেন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এই কাজের সাথে জড়িত। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সে একজন অযোগ্য অদক্ষ শিক্ষক। আপনারা জানেন এই স্কুলের ৭জন শিক্ষককে কোন কারণ ছাড়াই অপসারণ করেন। আমরা চাই এই স্কুলের আগের নামটি ফিরিয়ে আনা হোক।

 

এই কালেক্টরেট শব্দটি অপসারণ করা হোক কারণ এই কালেক্টরেট শব্দটি এখন কোথাও ব্যবহৃত হয় না। যে কারণে আমরা আজ সমবেত হয়েছি একটি কথা বলে রাখি আজকে সকাল ১০টায় বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার কথা ছিল যেহেতু আমরা মানববন্ধন করব সময় পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ মানববন্ধনে এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেন অংশগ্রহণ করতে না পারে। ধিক্কার জানাই এই প্রধান শিক্ষককে সময় পরিবর্তনের জন্য। এছাড়া আয়েশা জালালের কেনা জায়গায় ভবন নির্মিত আছে আর এই আয়েশা জালালের নামই এই বিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

আমি মনে করি এখানে ড. এফ রহমান, এইচ টি ইমাম তাদের নামে এখানে নামফলক করা উচিত এবং আমি মেয়রের কাছে দাবি করব ড. এফ রহমান, এইচ টি ইমাম তাদের ছবি এই স্কুলে প্রতিস্থাপন করা হোক এবং যারা স্কুলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছিলেন। আর আমরা যে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছি এই মানববন্ধন সফল হবে। আর জেলা প্রশাসক গতকাল রাতে যে অপকর্মটি করেছে শিক্ষা বোর্ড থেকে এই নামটি পরিবর্তন করার জন্য অনুমতি নিয়ে আসে, এই জন্য আমরা ধিক্কার জানাই এবং এই জেলা প্রশাসককে অপসারণ দাবি করছি। শুধু তাই নয় তারা যে অপকর্ম করছে স্কুলে লক্ষ লক্ষ টাকা কোটি কোটি টাকার কোন হিসাব নাই সেই দাবিও কিন্তু আমরা প্রস্তাব করতে চাই।

 

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নুরুদ্দীন বলেন, ‘প্রিপারেটরি স্কুল একটি ঐতিহ্যবাহী স্কুল এই স্কুল ৬৭ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্কুলটির ব্যাপক সুনাম রয়েছে এই স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই স্কুলটি নারায়ণগঞ্জের একটি ঐতিহ্য চিহ্নিত প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। সুতরাং আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সহ তথা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ রাখব। যারা এই স্কুলটির নামটি পরিবর্তন করেছেন দয়া করে এই স্কুলটির পূর্বের নাম অতিসত্ত্বর ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করছি। আশা করি এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এবং সচেতন মহলের এই আশা আকাঙ্খাকে পূরণ করবেন নতুবা এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।  

 

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু বলেন, এখানে আমরা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তিনটা দাবি উত্থাপন করেছি এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাদের পুরাতন ভবন আরেকটা হচ্ছে আমাদের স্কুলের নাম পরিবর্তনের যে দাবি পাশাপাশি আমাদের স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা জালালের নামে ভবন চাই। আর এখানে সারা নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল এবং আমাদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ আমাদের সাথে আছে তাদের একই দাবি এবং আমি তাদের সাথে একমত পোষণ করি।

 

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, এটা অনেক দুঃখের বিষয় প্রিপারেটরী স্কুলের নাম নিয়ে এই ঘটনা চলছে। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আসার পর আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আমরা যে জিনিসটা বলতে চাই এই স্কুলের আগের নামের সাথে কালেক্টর শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। এটাকে আমরা তীব্র নিন্দাও প্রতিবাদ জানাই। এছাড়া একটা কথা বলতে প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ থেকে যেদিন পর্যন্ত এই নাম পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হবে আমরা প্রাক্তন ছাত্ররা এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন