Logo
Logo
×

শিক্ষা

মেয়রের পর মুখ খুললেন সাংসদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৭ পিএম

মেয়রের পর মুখ খুললেন সাংসদ
Swapno

 

# জনপ্রতিনিধি-বিশিষ্টজন-আমজনতার আপত্তির মুখে জেলা প্রশাসক কী করেন তাই এখন দেখার বিষয়

 

ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন নিয়ে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পর এবার একমত প্রকাশ করেছেন শামীম ওসমান। তবে সাংসদ  মুখ খুললেও তিনি মানববন্ধনে জেলা প্রশাসনের একচ্ছত্র স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধচারণ করাকে আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। কারণ আকস্মিকভাবে ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করে কালেক্টরেট শব্দ যুক্ত করায় বর্তমান জেলা প্রশাসককে অদক্ষ অযোগ্য আখ্যা নিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। তবে তিনি জেলা প্রশাসনকে নাম পরিবর্তন না করার জন্য অনুরোধ করবেন এবং এই বিষয়টি টেবিলে বসে সমাধানের আশ্বস্ত করেন।

 

এর আগে প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তন করার প্রতিবাদে মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র আইভী জেলা প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ডিসি সাহেবরা আসেন আমাদের জেলার সেবা করার জন্য। ডিসি সাহেবদের কাজ তো আর স্কুলের নাম চেঞ্জ করা নয়। নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন যা মন চায় তাই করে কেন এত বড় স্পর্ধা প্রশাসনের। এদিকে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে পূর্ব ইসদাইর যুব সংঘের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, প্রিপারেটরী স্কুলের ছাত্রী আমার স্ত্রীও এটা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে দেখলাম বেশকিছু কথাবার্তা হচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক একটা নাম দিয়েছে কালেক্টরেট। এরপরে দেখলাম জেলা প্রশাসককে আঘাত করে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।  

 

জেলা প্রশাসক কিন্তু এখানে থাকতে আসে নাই জেলা প্রশাসক মানে হচ্ছে রাষ্ট্রপ্রতি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করতে এসছেন। হয়তো তার সকল সিদ্ধান্ত আমার ভালো নাও লাগতে পারে সেটার জন্য সেটার আলোচনার মাধ্যমে টেবিলে বসে কথা বলব। আমরা এমন কথা বলব না বিদেশ থেকে আসা একটা মানুষ নারায়ণগঞ্জকে খারাপ ভাবে। আমি জেলা প্রশাসককে বলব যে এই স্কুলটির নাম প্রিপারেটরী স্কুল নামই রাখা হোক। তিনি আরো বলেন, তবে জেলা প্রশাসক নাম পরিবর্তন করেছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটা ফান্ড পাওয়া যায়। আমার মনে হয় সে ফান্ড আমরাই নিয়ে আসতে পারব যদি নাও নিয়ে আসতে পারি আসা করি নারায়ণঞ্জের মানুষ একটা স্কুলকে বাঁচিয়ে রাখার মত ক্ষমতা রাখে।

 

আমাদের নারায়ণগঞ্জে কত বড় বড় নেতা নেত্রীরা আছে আমার ভাই চন্দন শীল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আছে আমার ছোট বোন নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশনের মেয়র টাকার অভাব আছে আমাদের। গালাগালি করা দরকার আমাদের মেয়র জেলা পরিষদ মিলে এমন দশটা স্কুল চালিয়ে যেতে পারবে। তবে প্রয়োজন হয় এই প্রিপারেটরী স্কুলের সাথে একটা নাম দেয়া যেতে পারে আয়েশা জালাল যিনি ছিলেন এই স্কুলটা মাধ্যমেই পরিচিত পেয়েছিল। এখনকার রেজাল্ট প্রচন্ড খারাপ তখনকার রেজাল্ট ছিল প্রচন্ড ভাল এবং সে কারণেই প্রিপারেটরী স্কুলের সাথে যদি আয়েশা জালালের নাম যোগ করতে হয় যোগ করা হোক।  

 

আর যদি না করা হয় ভবিষ্যতে একটা স্কুল কলেজ অথবা রাস্তাঘাট একটা আমরা করব আমি নিজে সাক্ষী ওনার সন্তান হিসেবে বললাম। তবে গত ২২ ডিসেম্বর ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরী স্কুলের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে ডিসির কঠোর সমালোচনা করে মেয়র আইভী বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে এই স্কুলের কেন্দ্রে এসে যখন দেখলাম ডিসি রাব্বি ভবন তখন প্রধান শিক্ষককের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জানান এই স্কুলের নামে ফান্ডে আয়েশা জালাল যে টাকাগুলো রেখে গেছে সেই টাকাতেই এমন নামকরণ হয়েছে।

 

আমি তখনই প্রতিবাদ করেছি, এটা অনুচিৎ কাজ হয়েছে। ডিসি রাব্বি টাকা এনে দেন নাই আর যদি এনেও দিত তবে সরকারের নামে নামকরণ হবে তার ব্যক্তিগত নামে হওয়ার কথা নয়। অথবা আয়েশা জালাল, ক্যাপ্টেন রহমানের নামে হতে পারতো, ডিসি রাব্বি মিয়া হতে যাবে কেন? তিনি জেলা প্রশাসকের সমালোচনা করে বলেন, ডিসি সাহেবরা আসেন আমাদের জেলার সেবা করার জন্য। ডিসি সাহেবদের কাজ তো আর স্কুলের নাম চেঞ্জ করা নয়। যে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে।

 

সেই স্কুলের ইতিহাস ঐতিহ্য কোন কিছু না জেনে কিভাবে এইরকম একজন বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক যার সাথে আমার অত্যান্ত সুসম্পর্ক উনি নিজেও জানেন আমি এই স্কুলের স্টুডেন্ট শুধু আমিই না বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বহু লোকজন আছে, যারা এখনো প্রশাসনের অনেক স্তরে এই স্কুলের স্টুডেন্ট রয়েছে এরপরেও এমন কাজ করতে পারেন। আমাদের নারায়ণগঞ্জের মিসেস ওসমান লিপি ওসমান এই স্কুলের স্টুডেন্ট, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি মানু এই স্কুলের ছাত্র অথচ তাদের একজনও এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করল না। কিভাবে নাম পরিবর্তন করল জেলা প্রশাসক।আমি প্রচণ্ডবে তীব্রভাবে নিন্দা জানাচ্ছি ক্ষোভ জানাচ্ছি।

 

মেয়র আইভী বলেন, মনে দুঃখ নিয়ে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন যা মন চায় তাই করে কেন এত বড় স্পর্ধা প্রশাসনের? কেন কারণ আমাদের নারায়ণগঞ্জবাসীর দুর্বলতার কারণে আমরা সবাই চুপ হয়ে গেছি। আমাদের প্রেসক্লাব চুপ, আমাদের প্রিয় নারায়ণগঞ্জবাসী চুপ, নাগরিক সমাজ চুপ, আমরা সকলেই কেন জানি চুপ হয়ে যাই। আমরা জানি আপনারা প্রতিবাদ করেন যখন বিদ্যুৎের দাম বেড়ে যায়, গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, পানির দাম বেড়ে যায় সেখানেই স্বোচ্চার হয়ে যান। কিন্তু আমাদের আরো অনেক ব্যাপারে স্বোচ্চার হতে হবে হওয়া উচিত কিন্তু এটা আমরা করি না। আর করি না বলেই নারায়ণগঞ্জে যখনই কোন জেলা প্রশাসক আসে যখনই প্রশাসনের অন্য কেউ আসে তারা তাদের মত করে কাজ করে আর তারা একটি জিনিস নিয়ে আসে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ভালো না গ্রুপিং আছে।

 

মেয়র আইভী বলেন, আমি জানতে চাই ৬৪ জেলার মধ্যে কোথায় গ্রুপিং নাই। আর এই নারায়ণগঞ্জ আসলে কেন গ্রুপিংয়ের ভয়টা কেন? আপনারা প্রশাসন তাদের সুবিধার্থে, তাদের স্বার্থে এই গ্রুপিংটা চাঙ্গা করে রাখেন। এই স্কুলটি আমাদের প্রচন্ড আবেগের জায়গা। যার জন্য আমাদের এই মানববন্ধনে আমাদের সুস্পষ্ট তিনটা দাবি জানাতে চাই। ডিসি রাব্বি ভবন চেঞ্জ করে এখানে আয়েশা জালাল ভবন করতেই হবে। দ্বিতীয়ত ক্যাপ্টেন রহমানের নামে যেকোন একটা যেকোন একটা অডিটরিয়াম দিতেই হবে। সর্বপ্রথম যিনি সভাপতি ছিলেন এইচ টি ইমামের একটি প্রতিকৃতি করতেই হবে।

 

এছাড়া আমাদের স্মৃতি বিজড়িত স্কুলের পুরনো ভবনটি আমরা ভাঙতে দিব না, এই স্কুলটা আমরা সংরক্ষণ করব। এটার কারণ ডিসির জানার দরকার নাই। আমরা প্রাক্তন স্টুডেন্টরা সংরক্ষণ করব, দরকার পড়লে পাঁচ টাকা-দশ টাকা তুলে এই ভবনটা সংরক্ষণ করব এই ভবনকে আমরা ভাড়া দিতে দিব না ভাঙতেও দিব না। তবে যেকোনভাবেই হোক যেকোন মূলেই হোক এই কালেক্টরেট শব্দটি বাদ দিতে হবে। আজকে আমরা একত্রিত হয়েছি দাবি উত্থাপন করেছি যদি আমাদের দাবিগুলো না হয় আপনারা কে আসবেন না আসবেন আমি জানি না, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আমি এই স্কুলের নাম উঠিয়ে ফেলব। আমিনা জালালের নাম দিব, ডিসি রাব্বি মিয়া ভবনের নাম রাখব না। কিন্তু আজকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে প্রশাসনকে অনুরোধ করব এই কাজগুলো করতে আপনারা নারায়ণগঞ্জবাসীকে বাধ্য করবেন না।

 

আইভী বলেন, নারায়ণগঞ্জ আন্দোলনের সূতিকাগার এইখানে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে এই আদমজী জুট মিল না থাকলে শ্রমিকরা না থাকলে আন্দোলন চাঙ্গা হত না। এখানে অতীতে অর্থনীতিতে রাজনীতিতে সারা বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জে ওপর নির্ভর করে। নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেমন সহজ সরল নারায়ণগঞ্জের মানুষ সবকিছুতে নমনীয় তদ্রুপ নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখন গর্জে উঠে তাহলে কি অবস্থা হয় ইতিপূর্বে আপনারা দেখেছেন, ত্বকী হত্যা নিয়ে এই শহরে যে আন্দোলন হয়েছে। ডিসি রাব্বি সাহেব আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, আপনি সরকারের একজন কর্মচারী আমাদের টাকায় এখনো আপনার বেতন হয়। আপনার যদি মন চায় আপনার জেলাতে গিয়ে আপনি বিশাল একটি ভবন করে দিয়ে আপনার নাম দেন, নারায়ণগঞ্জে শহরে আপনারা কি চান?

 

আমাদের সার্ভিস দিতে আসছেন আমাদের সার্ভিস দেন, এর বেশী কিছু করার চেষ্টা করবেন না যদি করতে চান, তাহলে আমাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। যাই হোক অত্যন্ত ভদ্রভাবে সম্মানের সহিত আপনাদের বলে গেলাম, যদি নামটি সরিয়ে না নেন আমি নিশ্চয়ই বাধ্য হব আমরা বাধ্য হব, নারায়ণগঞ্জবাসী বাধ্য হব, আমাদের সিদ্ধান্তে অটল থকাতে। ঐতিহ্য-ইতিহাস, আবেগকে সম্মানকে আঘাত করেছেন সে আঘাত কোন ভাবেই সহ্য করা হবে না। পাকিস্তানী কায়দায় আপনি নারায়ণগেঞ্জর মধ্যে এই কাজটি করেছেন।

 

পাকিস্তানীরা একদম রাতের আঁধারে সকলের অজান্তে বাঙালীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আপনিও ঠিক রাতে বেলা সকলের অজান্তে এই নামটি পরিবর্তন করে আমাদেরকে চরমভাবে অপমানিত-অসম্মান করেছেন। যেখানে গত সপ্তাহেও আপনার সাথে আমার দেখা হল, আমি আপনাকে বললাম প্লিজ নামটা চেঞ্জ করবেন না। সেখানে আজকে এসে জানতে পারলাম, আপনি নাকি রাতের আঁধারে নামটা চেঞ্জ করেছেন। আপনি যদি রাতের আঁধারে নামটা চেঞ্জ করতে পারেন দিনের প্রকাশ্যে আলোতে আপনার এই নাম ঘুরিয়ে দেয়ার মত শত শত এই স্কুলের প্রাক্তনরা এইখানে মজুদ আছে।

এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন