নতুন বই পাওয়া নিয়ে সংশয়ে শিক্ষার্থীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১১ পিএম
# সম্পূর্ণ বই পৌঁছে দিতে জোর কার্যক্রম চলছে : শিক্ষা অফিসার
২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। করোনা মহামারিতেও এ ধারা অব্যাহত ছিলো। তবে এবার সেই ধারার ব্যত্যয় ঘটতে পারে। কারণ বছরের প্রথম দিনে সম্পূর্ণ বই পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এ সংশয়ের অবশ্য যথেষ্ট কারণও রয়েছে। মাধ্যমিকে জেলায় বইয়ের চাহিদা ৪১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭২৫ টি কিন্তু ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বই এসে পৌছেছে ২০ লক্ষ ৯৪ হাজার ৩৫ টি।
চাহিদার তুলনায় বই বাকি রয়েছে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৯০ টি। অন্যদিকে প্রাথমিকে সর্বমোট বইয়ের চাহিদা ১৫ লক্ষ ২১ হাজার ২৯৪ টি। কিন্তু ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র একটি উপজেলায় সম্পূর্ন বই এসে পৌছেছে। বাকি উপজেলায় কোনো বই আসেনি। এতে করে নতুন বই পাওয়া ঘিরে যে আনন্দ উৎসব তাতে ভাটা পড়তে পারে। রুবেল নামের এক চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র জানান, প্রতিবছর প্রথম দিনেই নতুন বই দেয়া হয়। নতুন বই পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত হই। এ বছর ১ তারিখ বই না পেলে একটু মন খারাপ হবে।
সিয়াম নামের এক দশম শ্রেনির ছাত্র জানান, বছরের প্রথম দিনে বই পাওয়া হলো ঈদের আনন্দের মতো। পরে বই পেলেও এ আনন্দটা আর পাওয়া যায় না। প্রতিবছর প্রথম দিনে বই পেলেও এ বছর পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান তিনি। এক অভিভাবক যুগের চিন্তাকে জানান, বাচ্চারা বছরের প্রথম দিনে বই পেলে পড়াশোনায় উৎসাহি হয়। তাদের মধ্যো একটা উৎসবের আমেজ করে। সময় মতো বই না পেলে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
সময়মতো বই পাওয়া সংক্রান্ত ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাধ্যমিকে ৮০ শতাংশের বেশি বই এসেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির বই অনেক আগেই এসেছে। অষ্টম শ্রেণির শতভাগ বই আমরা অনেক আগেই পেয়েছি। নবম শ্রেণির ৯০ শতাংশ বই ৩ দিন আগেই এসেছে। আমি আশাবাদী ১ তারিখের আগেই মাধ্যমিকের শতভাগ বই পেয়ে যাবো। ৫ তারিখে ক্লাস চালু করতে কোনো রকম অসুবিধা হবেনা। তবে সংশয় যেনো নিত্যদিনের সঙ্গি হয়ে আছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে। তারা নতুন বছরের প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ বই হাতে পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে চায়।
এস.এ/জেসি


