উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৯:০৩ পিএম
# সাইফুল্লাহ বাদল জনপ্রতিনিধি হয়েও খেয়াল রাখেন না
# আমাদের বিদ্যালয়ে মাসে ১০ লাখ টাকা খরচ আছে : প্রধান শিক্ষক
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কাশিপুর ইউনিয়নে দেওভোগ (বাংলা বাজার) এলাকায় হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ভর্তি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন ফি এর নাম করে বাণিজ্য করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে নবম শ্রেণিতে একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি হবার জন্য গুনতে হচ্ছে ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত টাকা)। যা অন্যান্য স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১ হাজার ৩৫০টাকা, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেনীতে ১৬০০টাকা ও নবম শ্রেণিতে ১ হাজার ৭০০টাকা করে ভর্তি নিচ্ছে। জানা যায় হাজী উজির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সেশন ফি নামে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, অতিরিক্ত ফি আদায় ঠিক না। এভাবে চললে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা সন্তানদের লেখাপড়া করানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এটি আমাদের এলাকার স্কুল, এই স্কুলে আমাদের সকলের ছেলে- মেয়ে লেখাপড়া করে।
এই স্কুলের সভাপতি হচ্ছে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.সাইফউল্লাহ বাদল। তিনি জনপ্রতিনিধি হয়েও এই স্কুলের দিকে খেয়াল করেন না, কারণ এটা তার স্কুল বলে। এই ভাবে বছরে এতো টাকা নিলে কি করে ছেলে-মেয়ে শিক্ষিত করব। আমরা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ বিষয়ে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবীর বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে মাসে ১০লক্ষ টাকা খরচ আছে। তাই ভর্তির টাকা একটু বেশি। তিনি আরও জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৬০০ (তিন হাজার ছয়শত) জন শিক্ষার্থী আছে। করোনা কালিন তাদের থেকে ভর্তি ফি ও বেতন কম নিয়েছি। এখন কম দিতে পারছি না। বিদ্যালয়ে ৬৬ জন কাজ করেন। তাদের বেতন দিতে হয়। ভর্তির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অন্যান্য স্কুলে আরও বেশি নিচ্ছে। আমরা সেশন ফি ১০০০ (এক হাজার) টাকা বেশি নিচ্ছি।
এবিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি এম.সাইফউল্লাহ বাদল বলেন, অতিরিক্ত ভর্তি ফি বিষয়ে আমি জানি না, কাল যেনে আপনাকে জানাব।


