বাণিজ্য মেলায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার মিলেছে
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:১৪ এএম
বাণিজ্য মেলায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার মিলেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। প্রায় ৪০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। এবারের মেলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১২ ক্যাটাগরিতে ৪২ অংশগ্রহণকারীকে, বিভিন্ন দফতরের ১০ কর্মকর্তাকে এবং ২৭টি সংস্থাকে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর অদূরে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত ‘২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২২’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, দেশের ব্যবসা বাণিজ্য এবং সার্বিক অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিক নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের ফলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে দেশের বাণিজ্য এবং অর্থনীতি সচল রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, অনেক প্রতিকুল পরিবেশে এবারের বাণিজ্য মেলা শেষ হলো।
দেশের রফতানি বাড়ানোর জন্য সরকার সব পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বছর ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২০২৪ সালে দেশের রফতানি ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তখন এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে আমাদের অনেক বাণিজ্য সুবিধা থাকবে না। আমাদের প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যেতে হবে। তখন পিটিএ অথবা এফটিএ স্বাক্ষর করে বাণিজ্য সুবিধা নিতে হবে। চলতি বছর আমরা চারটি দেশের সঙ্গে এসব বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য কাজ করছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন ছাড়াও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ১ জানুয়ারী সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৪ নম্বর সেক্টরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে "২৬ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলা" শুভ উদ্বোধন করেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ মোট ২২টি দেশ অংশ নিয়েছে। এবারের ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ছোট-বড় মিলে ২২৫টি স্টলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছিল।
এবার মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে ছিল দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কারপেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ-সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি। প্রতিদিন মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলে রাত ৯টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত)। মেলার প্রবেশ মূল্য ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকা, শিশুদের ২০ টাকা। মেলায় দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে প্রতিদিন ৩০টি বিআরটিসি বাস ও অন্যান্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করেছে।


