হত্যার পরেও ঠাণ্ডা মাথায় কাজ চালিয়ে যান খুনি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৪ পিএম
# কথা মত ঘুম থেকে না উঠে গালি দেয়ায় খুন
একসাথে গাঁজা সেবন পরে ট্রাকেই ঘুম। মাল আনলোডের জন্য ড্রাইভারের কথা মতো ঘুম থেকে না উঠায় রাগে গলাটিপে খুন করেন হেলপারকে। হত্যার পর মৃতদেহ সিটের পেছনে ঘুমানোর জায়গাতে শুইয়ে রেখেই ঠাণ্ডা মাথায় মাল আনলোড করে খুনি। জুম্মার নামাজের আগে সুযোগ বুঝে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বন্দরের জাঙ্গাল এলাকায় মৃতদেহ ফেলে পালায় সে। গত ১৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় ঘটে যাওয়া এমন এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। চাউলের ব্যবসায়ী সেজে গত ২৯ জানুয়ারি ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। মঙ্গলবার ১ ফেব্রুয়ারি আসামী ট্রাক চালক টিপু আদালতে খুনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। নিহত আকাশ সে কুমিল্লার কোতয়ালী থানার সুজানগরের মোতালেবের ছেলে এবং খন্ডকালীন ট্রাকের হেলপার। টিপু কুমিল্লার বুড়িচং থানার মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার জুরাইনের এক চাউলের আড়তদারের সাথে কথা বলে চাউলের ব্যবসায়ী সেজে টার্গেট ড্রাইভারের সাথে ট্রাক ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কথা বললে ড্রাইভার টিপু পুলিশের ফাঁদে পা দেয়। গত ২৯ জানুয়ারি ড্রাইভার টিপু চাউল নিয়ে জুরাইনে আসলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্তে অসংলগ্ন তথ্য দিতে থাকে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদের এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
গ্রেফতার হওয়া আসামির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে আসামী ড্রাইভার আরিফুর রহমান টিপু (৩০) ও হেলপার আকাশ (২১) গাঁজা সেবন শেষে ট্রাকে পুরাতন বই ও কাগজ নিয়ে ঢাকার মাতুয়াইলের উদ্দেশ্য কুমিল্লা থেকে রওনা করে। পরদিন ভোরে সিমরাইল ট্রাক স্টান্ডে পৌঁছে দুইজন একসাথে ট্রাকের মধ্যে ঘুমায় তারা। পরবর্তীতে পার্টি মাল আনলোড করার জন্য ফোন দিলে আসামী টিপু ঘুম থেকে ওঠে আকাশকে ডাকে, আকাশ ঘুম থেকে না উঠলে আসামি রেগে গিয়ে আকাশকে গালি দেয়। প্রতি উত্তরে আকাশও গালি দিলে টিপু আকাশকে ট্রাকের সিটের সাথে গলা চেপে ধরে হত্যা করে। গত ১৬ জানুয়ারি দুপুর বেলা জাঙ্গাল গ্রাম থেকে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানানো তথ্যানুসারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে আকাশের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে মৃতের পকেটে থাকা একটি মোবাইল পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে জানায় পুলিশ। জেলা পুলিশ জানায়, নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে অভিযোগ দেন। বন্দর থানা পুলিশ অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। যেহেতু ভিকটিমের বাড়ি কুমিল্লায় এবং সে ট্রাকের হেলপার এবং মৃতদেহ নারায়ণগঞ্জে পাওয়া গেছে তাই ঘটনাটি ট্রাক ড্রাইভার/হেলপার সংক্রান্ত কোন বিষয় হবে বলে অনুমান ছিল পুলিশের। কিন্ত ঘটনার আগে পরে কোন গাড়িতে বা কোন ড্রাইভারের সাথে ভিকটিম এসেছিল, তা জানা সম্ভব হচ্ছিল না। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই ফয়সাল ট্রাক ড্রাইভারকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। কিন্তু সে পূর্বের ঠিকানায় না থাকায় এবং খণ্ডকালীন ড্রাইভার হওয়ায় কেউ তার সম্পর্কে তেমন নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারছিল না। শুধু সন্দেহভাজন ট্রাক ড্রাইভারের নাম এবং পেশা জানা ছিল।আসামী ড্রাইভারের দেয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।


