আলীরটেক বক্তাবলীর চাষীরা আলুর ফলন নিয়ে চিন্তিত
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:২৯ পিএম
এবছর কৃষকরা দুই বার বীজ রোপন করেন
রাকিবুল ইসলাম : নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সারাদেশের মানুষ শিল্পাঞ্চল হিসেবে জানে। তাদের জানার সাথে মিলও আছে। কেননা এখানে কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে এসে কয়েক লক্ষ শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। সেই সাথে এই জেলা প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে সারাদেশে পরিচিত। ইট পাথরের শহরে সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মাঝে আলীরটেক এবং বক্তাবলী ইউপির প্রায় ৪০ টি এলাকায় ফসলি জমিতে আলু চাষ হয়। আলুর সিজন ছাড়াও এখানকার কৃষকরা অন্যান্য ফসল চাষ করে নিজেদের জীবন নির্বাহ করে।
এই দুই ইউনিয়নকে স্থানীয়রা একত্রে বক্তাবলী পরগনা হিসেবে চিনেন। এই অঞ্চলের ৫০ থেকে ৬০ পার্সেন লোক কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় তারা আলু চাষ করে মোটা অংকের টাকা এক সাথে পায়। আর এজন্য আলুর সিজনে এখানকার কৃষকরা সকলেই আলুরবীজ বপন করেন।
এদিকে এ বছর আলু চাষের শুরুতে টানা ৩ থেকে চার দিনে বৃষ্টি হওয়া বেশির ভাগ চাষির ফসলি জমিতে আলু পচে যায়। আর এতে করে তাদের আবার পুণরায় আলুর বীজ বপন করতে হয়। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর আলু চাষীরা চিন্তিত আছেন। সপ্তাহ খানিক পর আলু তোলার ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগাম জাতের আলুতে ইতোমধ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে।
কিন্তু দিন দিন আলুর দাম কমে যাওয়ায় চিন্তিত কৃষকরা। এ বছর অনেক কৃষকের ডাবল খরচ হয়েছে। যার জন্য অনেক কৃষক ক্ষতিতে পরতে পারেন বলে জানান একাধিক কৃষক। আর এই ক্ষতির অংশকে পুজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আঙ্গুল ফলে কলাগাছ বনে যান। তাতে মধ্যবর্তি কিছু ব্যবসায়ী লাভবান হলেও কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না। তারা বঞ্চিত থেকে যায়। আর এজন্য এক ধরনের ক্ষোভ চাষীদের মাঝে থেকে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ আলীরটেক ইউনিয়নের পরেই মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের রিকাবী বাজার অবস্থিত ।
অন্যদিকে বক্তাবলীর পশ্চিমে মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর সিরজাদি খান উপজেলা অবস্থিত। বিক্রপুর আলু চাষের জন্য সারাদেশে পরিচিত। ওইখানকার কিছু প্রভাব নারায়ণগঞ্জের সদর উপেজলার এই দুই ইউনিয়নে পরেছে। সদরের অন্যান্য ইউনিয়ন গুলো থেকে শুরু করে শহর এই দুই ইউনিয়ন থেকে শাক সবজি সরবরাহ হয়। দিন দিন ফসলি জমি ভরাট হয়ে কমতে থাকলেও এখনো এই দুই এলাকায় শাক সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফসল চাষ হয়। যা পরবর্তিতে শহরে সরবরাহ হয়।
দুলাল নামে এক কৃষক জানান, আমি প্রতি বছর ৩ থেকে ৪ একর জমিতে আলু চাষ করি। কিন্তু এই বছর যখন আলুরবীজ রোপণ করি তখন টানা ৩ থেকে চার দিন বৃষ্টি হওয়ায় তা পচেঁ নষ্ট হয়ে যায়। পরে তা আবার বীজ রোপন করতে হয়। আর এতে করে খরচ বেরে যায়। সেই সাথে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এছাড়া কিটনাশক প্রয়োগ করেও রোগ সাড়াতে না পেরে ফলন বিপর্যয়ে লোকসানের আশঙ্কা করছেন আমার আরও কয়েকজন কৃষক।
তার পাশেই আলেক চান নামের আরেক ব্যক্তি জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে আলুবীজ সংগ্রহ করতে হয়েছে আমাদের। এজন্য গতবছরের তুলনায় এবছর খরচ বেশি লেগেছে। এখানে মূলত ডায়মন্ড, হাইব্রিড গ্যানোলা, ম্যানোলা, রুমানা সহ কয়েক জাতের আলু উৎপাদন হয়।
আলু উৎপাদনের জন্য এবার কৃষকদের জমি লিজসহ, বীজ, জমি চাষ, সার-ওষুধ, সেচ, নিড়ানী ও বাঁধাই, আলু উত্তোলনসহ প্রতি বিঘা (৩০ শতক) জমিতে চাষিদের উৎপাদন খরচ হয়েছে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন আলুর দাম কিছুটা কম থাকলেও ফেব্রুয়ারি-মার্চে আলুর মূল ফলন উঠতে শুরু করলে দাম কমে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
এবার দুই বার বীজ রোপন করায় এতে করে আলু চাষীরা ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু ক্ষতি হলেও আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। কেননা কৃষকরা সরকার থেকে এর ক্ষতি হিসেবে কোন প্রনোদনা পান না। সরকার যদি আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করতো তাহলে হয়ত আমাদের দুঃখ কিছুটা লাগব হত। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।


