নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে স্বজ্জন, স্বচ্ছ এবং স্বল্পভাষী হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আদিনাথ বসু। ছিমছাম এবং সাধারণ বেশভুষনে চলতে পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা, আস্থাশীলতা এবং প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন সবসময়। সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকলের প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন তিনি।
আদিনাথ বসু ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। যুগের চিন্তার সাথে একান্ত স্বাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের আস্থাভাজন নেতা আদিনাথ বসু জানান, ১৯৭৯ সালের দিকে শহর ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮০ সালের দিকে সম্মেলনের মাধ্যমে শহর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি বলেন, তখন অনেক নিয়ম ছিল, তাই পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর যোগ দেন শহর যুবলীগে। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তখন অবশ্য সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এখনকার মতো কয়েকজনকে রাখা হতনা। এরপ জেলা যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হই। আমি তখন ১নং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই।
তখনকার সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের অনুপুস্থিতে একটানা ১২ বছর আমি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। এরপর শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাই। পরবর্তীতে এখন বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা আওয়ামী লীগ সবখানেই রাজনীতি করার সুযোগ হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে আদিনাথ বসু বলেন, রাজনীতিতে আসার পর থেকে এখন অবধি অনেক শিখছি, অনেক ধরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে। মেয়র আইভীও বলেছেন, তার আগের তিনটি নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনটি কঠিন হয়েছে। আমাদের খুবই ট্যাকনিক্যালি নির্বাচনটি করতে হয়েছে।
অনেক কিছুই খোলামেলাভাবে বলা যায়নি। আমরা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি বিধায় আমরা সন্তুষ্ট। কেননা, এবারের নির্বাচনে সামান্য ভুলেও অনেক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। অনেককেই বিশ্বাস করা যাচ্ছিলনা। আদিনাথ বসু বলেন, বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের জনপ্রিয়তা আইভীর জনপ্রিয়তার কাছে অনেক পেছনে।
কিন্তু এখানে অনেক মেকানিজ্যম ছিল, আর নারী ভোটারদের ভোট দেয়ার সংখ্যা কম থাকায় আমরা যে টার্গেট করেছিলাম লাখো ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়া সেটি হয়তো হয়নি, কিন্তু আইভী যে জনপ্রিয় তার বিশাল জয় সেটিই আবার প্রমাণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি মোটেও শক্তিশালী বলে মনে করেননা বলে জানান এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, আমি মনে করি আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি নারায়ণগঞ্জে অনেক দুর্বল। এখানে বিএনপির অবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর।
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ আরো শক্তিশালী হতে পারতো তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সেটি কম হয়েছে বলে মনে করেন আদিনাথ বসু। তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, একে অপরকে দোষারোপের রাজনীতির কারণে বিভেদটা একটু ফুটে ওঠে। নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেও সাংগঠনিকভাবে অনেক সময় দুর্বলতা প্রকাশ পায় বলে জানান তিনি।
আদিনাথ বসু বলেন, যাদের মেরুদণ্ড শক্তিশালী তারাই নেতৃত্বে আসা উচিৎ। দুর্বল মানসিকতার নেতৃত্বকে সরিয়ে দিতে হবে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকবে, কিন্তু দলের আদর্শের ক্ষেত্রে, দলের স্বার্থে সবসময় এক হয়ে যেতে হবে। একে অপরকে ঘায়েল করার রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে। এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রসঙ্গে আদিনাথ বসু বলেন, আইভী একজন সৎ, শক্তিশালী, নিষ্ঠাবান নেত্রী। তিনি বলিষ্ট কণ্ঠস্বর। তিনি একজন স্বার্থক জনপ্রিয় গ্রহণযোগ্য মেয়র। সাংগঠনিকভাবেও তিনি অত্যন্ত কর্মঠ। সফল বিধায়ই তিনি গত চারটি নির্বাচনে দাপটের সাথে জয়ী হয়েছেন। মানুষের মন রক্ষা, ভালোবাসা আদায়েও সফল।
সিটি নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দেয়া প্রসঙ্গে আদিনাথ বসু বলেন, মেয়র আইভী শুধু নয়, ১৯৮৪ সালে তাঁর বাবা আলী আহাম্মদ চুনকার নির্বাচনের সময়ও এই ধরণের অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু হালে ওসব পানি পায়নি। মানুষ ওসব গ্রহণ করেনি।
রাজনীতিতে নতুনদের উদ্দেশ্যে আদিনাথ বসু আহবান জানিয়ে বলেন, যারা সৎ, নিষ্ঠাবান, সংগঠনকে ভালোবাসবে তাদেরই রাজনীতিতে আসা উচিৎ। সংগঠন করার মূল উদ্দেশ্য হল শহর, দেশকে ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উৎসাহিত হয়ে তারা যেন ভালো নেতৃত্ব গড়ে তোলে। তাদের দ্বারা যেন সমাজ, দেশ ইতিবাচক কিছু পায়।


