কুতুবপুরে দীর্ঘ হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৩, ১১:২৮ এএম
# প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকায় চলে কিশোর গ্যাং দের মহড়া
#চিহ্নিত নেতারাই এই সকল কিশোরদের শেল্টার দাতা
বাংলাদেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ধনী জেলার তালিকায় প্রথম রয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীাতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই জেলার সুনাম থাকলেও কিছু কিছু বিষয়ে এই জেলার দূর্নামও রয়েছে। বিশেষ করে গুম,খুন ,মাদক ,কিশোর গ্যাং সহ নানান অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে এই নারায়ণগঞ্জে।
প্রশাসন অপরাধ রোধ করতে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে অভিযান চালালেও তা স্থায়ীভাবে আর হয়ে উঠেনা। আর এই নারায়ণগঞ্জ এর মধ্যে অপরাধ জগতের ভান্ডার যদি বলা হয় তাহলে সবার আগে নাম আসবে ফতুল্লা থানার কুতুবপুর ইউনিয়নের এখানে এমন কোন অপরাধ নেই যে এই এলাকাতে না হয়ে থাকে।
বিশেষ করে মাদক , চাঁদাবাজি, ভুমিদস্যুতা, জোরপূর্বক ইট, বালু , সিমেন্ট দেওয়া, বিচারের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ফিটিং, মেয়ে দিয়ে ব্লাক মেইলিংসহ নানান অপকর্ম এই এলাকার জন্য এখন যেন ভয়ানক আকার ধারন করেছে যা কোন ভাবেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা ।
দিন দিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেড়েই চলছে। আর এই সকল হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী নেতা যারা তাদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে অমনকি কুতুবপুরে বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ যাবৎকালে রাকিব ,মাসুদ ,রাজিব,সর্বশেষ সোহান প্রক্যেককেই এলাকার চিহ্নিত নেতাদের ছত্রচায়ায় রাজনৈতি করে আসছিলো।
বিশেষ করে তাদেরকে দিয়ে এলাকার বিভিন্ন কিশোর গেং অপরাধ সংগঠিত করা হতো। শুধু তাই বেশ কিছুদিন যাবৎ আবারো কুতুবপুর অশান্ত হওয়া শুরু হয়েছে।আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলছে না সবাই নিজ নিয়ন্ত্রনে আধিপত্য বিস্তার করতে চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
এর আগে কুতুবপুরে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যার প্রত্যেকটিই আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে।এলাকায় বেশ কয়েকটি সিন্ডিগেটের তৈরী হয়েছে যারা আগে একত্র হয়ে এই সকল অপকর্ম করলেও এখন সবাই মাতব্বর হওয়ার চেষ্টা করছে তাই অনেকের মধ্যেই এখন আলাদাভাবে সিন্ডিগেট তৈরী হয়েছে।
জানা যায়,টানা ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আর এই আসার পর পরই কুতুরপুরে বেশ কিছু সন্ত্রাসী মাথাচাড়া করে দাড়িয়েছিলো কিন্ত সময়ের ব্যবধানে অনেককেই ক্রস ফায়ারে জীবন দিতে হয়েছিলো । আবার কেউ কেউ তাদের প্রতিপক্ষের হামলাও নিহত হয়েছেন।কিন্ত থেমে থাকেনি এখানকার অপরাধ কর্মকাণ্ড।কেউ না কেউ এই সকল অপকর্মের হাল ধরেই রেখেছে।
কুতুবপুরে শাহী মহল্লা, বউ বাজার, ভাবির বাজার, আমতলা ,রসুলপুর, নয়ামাটি ও তার আশেপাশের এলাকতে প্রতিনিয়তই কিশোর গ্যাং এর চলে মহরা আর সামান্য বিষয় নিয়ে এলাকায় মধ্যে সৃষ্টি হয়। কিন্ত বেশ কয়েকমাস অনেকটা শান্ত থাকলেও বেশ কিছুদিন যাবৎ কুতুবপুরে নয়ামাটি এলাকাতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন বেশ কয়েকদিনের ব্যবধানেই থানায় পড়েছে মামলা ও ডজন খানেক অভিযোগ। তবে প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকার কারনে এই এলাকাতে কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আর এই আধিপত্যের খেলায় বিভিন্ন সময় প্রান সাধারন মানুষও।তাই তাদের এই খেলা আর মানুষ দেখতে চায় না ।তাই এই অশান্ত কুতুবপুরকে শান্ত করবে কে ।অমনটাই বলছে এই এলাকার সাধারন মানুষ।
তবে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে এই এলাকার অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তোলা ব্যক্তিদের নামে থানায় অভিযোগ পড়লেও নেওয়া হয়না কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়া তাদের বিরুদ্ধে তাই দিন দিন এই এলাকাটি আরও ভয়ানক হয়ে উঠছে ।রাজনৈতির নামে এই সকল সন্ত্রাসীরা নিজেদের ফয়দা লুটার জন্যই সাইনবোর্ড লাগায় সেটা এখন আর বুঝতে বাকি নেই এই এলাকার মানুষের ।
তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এমনও অনেক আওয়ামী লীগের নেতা আছে যারা তিন বেলা ঠিক মতো খাবার জোটে না তবে তারা দলের জন্য অনেক কিছুই করেছেন হামলা মামলার শিকার হয়েছেন তারাই আজ মাইনাসে ।কারন তাদের নেই সন্ত্রাসী বাহীনি নাই বিশাল লোকবল।
কিছু দিন পরপরই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে চায় এই এলাকার সাধারন মানুষ ।তাই প্রশাসনের তৎপরতা এই এলাকায় আরও বাড়ানো উচিৎ এমটাই মতে করছেন তারা। এন. হুসেইন রনী /জেসি


